ছাত্রশক্তির সংবাদ সম্মেলন © টিডিসি ফটো
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। একই সাথে 'বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর নিয়োগ বিধিমালা' প্রণয়ন করে ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ শুক্রবার ( ২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াই টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর কেন্টিনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করে, রাজনৈতিক বিবেচনায় 'অযোগ্য' ব্যক্তিকে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মোঃ সিয়াম বলেন, '২৪'এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম নির্বাচিত সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসাবে হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের এমডি মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দিয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় এমন অযোগ্য ব্যক্তিকে পদায়ন করা হয়েছে যার একাডেমিক ও পেশাগত যোগ্যতা এবং নৈতিক অবস্থান নিয়ে জনমনে ব্যাপক অনাস্থা তৈরি হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'পৃথিবীর অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর বেস্ট প্র্যাকটিস হচ্ছে এমন ব্যক্তিকে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গর্ভনর হিসাবে নিয়োগ দেওয়া যার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড এই পদের সাথে সংগতিপূর্ণ, যেমন তিনি একজন ইকোনমিস্ট হতে পারেন। অথবা পেশাগত ক্ষেত্রে তিনি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অর্থমন্ত্রণালয়ের মত প্রতিষ্ঠানে মোনেটারি বা ফিসকাল পলিসি তৈরিতে কাজ করেছেন।'
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাউন্টিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। এই ডিগ্রীতে যে বেসিক মাইক্রোইকনোমিক্স, ম্যাক্রইকনোমিকস, ফাইনানশিয়াল ম্যানেজমেন্ট ও ব্যাংকিং রিলেটেড কোর্স করানো হয় তা দ্বারা কখনোই একটি দেশের আর্থিকনীতি প্রণয়নের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা সম্ভব নয়।'
মোঃ সিয়াম আরও বলেন, তিনি (মোস্তাকুর রহমান) Cost and Management Accountant (CMA) প্রফেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেছেন। যেই কোর্সের মূল উদ্দেশ্য ব্যক্তিকে স্ট্র্যাটেজিক বিসনেস লিডার হিসাবে গড়ে তোলা অর্থাৎ এই কোর্স সম্পন্ন করার মাধ্যমে একজন প্রতিষ্ঠানের কস্ট নিয়ন্ত্রণ করে মুনাফা বৃদ্ধির কাজে এক্সপার্টিজ অর্জন করেন । অর্থাৎ এটি স্পষ্ট এখানে এমন কোন কোর্স করানো হয় না যার কারণে তিনি আর্থিকনীতি প্রণয়ন বা অর্থনীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠবেন।
তিনি বলেন, বর্ণিত পদের সাথে অসংগতিপূর্ণ একাডেমিক ও পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে কারো হাতে দেশের অর্থনীতির স্টিয়ারিং তুলে দেওয়া গণবিরোধী ও আত্নঘাতী সিদ্ধান্ত।
সিয়াম দাবি করে, 'বর্তমান গভর্ণর মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংকের তালিকাভুক্ত ঋণখেলাপি ছিলেন এবং তার এই ঋণ যেভাবে নজিরবিহীন সুবিধা দিয়ে বিশেষ বিবেচনায় পুনঃতফশিল করেছে তা নিয়েও জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি দেশের অর্থনীতির অন্যতম অভিভাবক হওয়ার নৈতিক যোগ্যতাও হারিয়েছেন।'
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মিরা বিদায়ী গর্ভনরের বিরুদ্ধে যে 'মব' করে তাকে 'অসম্মানিত' করা হয়েছে সেই ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।