বাগছাস থেকে জাতীয় ছাত্রশক্তি: এক বছরে ছাত্ররাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলেছে?

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৭ PM , আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৮ PM
গত ২৪ অক্টোবর বাগছাস নাম পাল্টে হয়েছিল ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’

গত ২৪ অক্টোবর বাগছাস নাম পাল্টে হয়েছিল ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ © লোগো

শিক্ষা, ঐক্য, মুক্তি—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার ( ২৬ ফেব্রুয়ারি) পথচলার এক বছর পূর্ণ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের উদ্যোগে গত বছরের এইদিনে গঠিত হয়েছিল ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস)’। কিন্তু ৮ মাসের মাথায় গত ২৪ অক্টোবর এই সংগঠন নাম পাল্টে হয়েছিল ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’।

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ছাত্র নেতৃত্বের হাত ধরে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে। তবে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে নানান বিতর্কের মধ্যে যেতে হয়েছে এই ছাত্র সংগঠনটিকে। ফলে ছাত্র রাজনীতিতে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পেরেছে কিনা, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। 

গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' থেকে আত্মপ্রকাশ করে নতুন ছাত্র সংগঠন 'বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ'। যদিও আত্মপ্রকাশের দিন কমিটি ঘোষণার আগে বিরোধে জড়ায় দুইপক্ষ। জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, নতুন ছাত্র সংগঠনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে এমন অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন একাংশ। পরে তা হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনায় রূপ নেয়। পরে বিক্ষোভের মধ্যেই মধুর ক্যান্টিনে আবু বাকের মজুমদারকে আহ্বায়ক ও জাহিদ আহসানকে সদস্য সচিব করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে আব্দুল কাদেরকে আহ্বায়ক ও মহির আলমকে সদস্য সচিব করা হয়। 

পরবর্তী ডাকসুসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয় সংগঠনটির প্যানেলগুলোর। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জুলাই আন্দোলনে আলোচিত নাম আব্দুল কাদের ও আবু বাকের মজুমদারসহ পুরো প্যানেল বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়। একই ধারা দেখা যায় জাকসু, চাকসু ও রাকসু নির্বাচনেও। ভরাডুবির পর সংগঠনটিকে পুনর্গঠনের আলোচনা শুরু হয়। এনসিপির পক্ষ থেকে সম্মেলন করে তাদের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংগঠনটিকে সরাসরি এনসিপির ছাত্রসংগঠন হিসেবে পরিচিত করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠার ৮ মাসের মাথায় গত অক্টোবরে বাগছাসকে বিলুপ্ত করে নতুন সংগঠন 'জাতীয় ছাত্রশক্তি' গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জাহিদ আহসানকে সভাপতি ও আবু বাকের মজুমদারকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপরও সংগঠনটির আলোচিত কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ আছে।

সংগঠনটির সদস্য সচিব আবু বাকের মজুমদার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জাতীয় ছাত্র শক্তি জুলাইয়ের স্পিরিটকে ধারণ করে আত্মপ্রকাশ করা একটি ছাত্র সংগঠন। সংগঠনের অনেক নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং সেই লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা নেতৃত্বের হাত ধরে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে। বৈষম্য বিরোধী সমাজ বিনির্মাণের আদর্শ ধারণ করে সংগঠনটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

‘‘সেক্ষেত্রে আমাদের প্রাথমিকভাবে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের জন্য গবেষণার নির্ভর এবং স্কুলে শিক্ষার রূপান্তরের কথা বলেছিলাম, পাশাপাশি আমরা এই অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে ধারণ করে বঙ্গীয় সংস্কৃতি এবং বহুভাষিক চর্চার কথা বলেছিলাম। সেই কার্যক্রম আমাদের চলছে।’’

তিনি আরও বলেন, একটি নতুন ছাত্রসংগঠন হিসেবে অল্প সময়ে আমরা অনেকগুলো কাজ করেছি। আবার এটাও সত্য যে নানা প্রতিকূলতার শিকারও হয়েছি। এখন পর্যন্ত ছাত্রশক্তি তাদের সারাদেশের প্রায় নব্বই শতাংশ ইউনিট কমিটি কমপ্লিট করেছে ইতোমধ্যে। বলা যায় যে, একটি সুসংগঠিত ছাত্র সংগঠন হিসেবে এখন পর্যন্ত কাজ করছি।

‘‘আমরা আমাদের যে চারটি মূল স্তম্ভের কথা বলি, বাংলাদেশ পন্থা, ধর্মীয় বৈচিত্র, বঙ্গীয় সংস্কৃতি ও বহুভাষিক চর্চা এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ—এই চারটি স্তম্ভকে কেন্দ্র করে আমাদের যে রাজনীতি নির্মাণ, সে রাজনীতির জন্য আমরা সারাদেশকে আরো সুসংহিত করছি।’’

জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ছাত্রনেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল আমিন প্রমুখ।

এসময় নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ যখন সংকটে পড়েছে, তখনই ছাত্ররা এগিয়ে এসেছে। কিন্তু ছাত্রদের সঙ্গে বারবার প্রতারণা হয়েছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্রদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরও একই চিত্র আমরা দেখতে পেয়েছি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে জীবন দিয়েছে ছাত্র ও সাধারণ মানুষ। কিন্তু তার ফল ভোগ করছে এখন নানান রাজনৈতিক শক্তিগুলো। সংস্কার ও বিচারের যে দাবিগুলো আমাদের ছিলো, সেগুলোকে তোয়াক্কা না করে সরকার দল জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে। 

আখতার হোসেন বলেন,  বাংলাদেশকে পরিচালনা করবে সে ধরনের যোগ্যতা দক্ষতা বিএনপি সরকারের নাই। সেটা ১০ দিনে তারা প্রমাণ করে দিয়েছে। অতএব এই সামনের দিনের বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে। জাতীয় ছাত্রশক্তির দিকে তাকিয়ে আছে। বাংলাদেশে যে দ্বিদলীয় বৃত্ত তৈরি করা হয়েছিল। সেই দ্বিদলীয় বৃত্তের আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ ছাড়া হয়েছে, বিএনপি যে আচরণ করছে এই আচরণের উপরে যদি তারা অটল থাকে বাংলাদেশের জনগণ এই দ্বিদলীয় বৃত্তকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেবে ইনশাআল্লাহ। সেজন্য বাংলাদেশের নতুন রাজনীতিতে জাতীয় ছাত্রশক্তিকে নতুনভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টিকে সারাদেশে সংগঠিত হতে হবে। আমরা সম্মিলিত শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাস নিয়ে সামনের দিনে বাংলাদেশকে আমরা পরিচালনা করব। 

সারজিস আলম বলেন, বর্তমানে রাজনীতিতে দুই ধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। একটা প্রতিযোগিতা হচ্ছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের কাজে কর্মে আওয়ামী লীগকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। আরেকটা প্রতিযোগিতা হচ্ছে তারা তাদের জায়গা থেকে রাজনীতি না করে অভিনয় করার প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। একদিকে তারা আওয়ামী মাফিয়া বাহিনীকে নেগোসিয়েশনের ভিত্তিতে জামিন দিচ্ছে। বদির মত মাদক মাফিয়াদেরকে জামিন দিচ্ছে। আরেকদিকে তারা লোক দেখানো সচিবালয় থেকে ওসমানি মিলনায়তন পর্যন্ত হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে। আমাদের পুরো বাংলাদেশের মিডিয়া যখন হেঁটে যাওয়ার দিকে নজর দিচ্ছে তখন বাংলাদেশের প্রত্যেকটা জেলায় আওয়ামী লীগের অফিস খোলা হচ্ছে। একদিকে তারা ব্যবসায়ীদেরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বানাচ্ছে। তাদের বিএনপির মন্ত্রীদের যে ব্যাংক সেই ব্যাংকগুলোতে হাজার কোটি টাকা লুটপাটের পায়তারা শুরু করেছে।  আরেকদিকে তারা বড় বড় প্রোগ্রামে সুন্দর চেয়ার সরিয়ে সাধারণ চেয়ারে বসার অভিনয় করছে।

‘মববিরোধী’ সরকার কি মব নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে?
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শিবিরের মঞ্চে জকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদকের ব্যাঙ্গাত্মক গানের…
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নর্দান ইউনিভার্সিটিতে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টিএসসিতে লাঠি হাতে তেড়ে আসা তরুণ হত্যা মামলার প্রধান আসামি,…
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা: মেম্বারসহ আটক ৩, পলাতক…
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্বে মো. সরওয়ার
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬