বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

চলতেন স্ত্রীর টাকায়, মোটা অঙ্কের যৌতুক চেয়ে মারধর—ফাঁসলেন ছাত্রদল সহ-সভাপতি

১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ PM , আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ PM
মাইদুল ইসলাম বাপ্পি ও ছাত্রদলের লোগো

মাইদুল ইসলাম বাপ্পি ও ছাত্রদলের লোগো © সংগৃহীত

স্ত্রীর উপার্জিত টাকায় চলা, মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি এবং নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ এনে তার বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তার স্ত্রী। ভুক্তভোগী স্ত্রী উম্মে জেবিন, যিনি নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থী। 

সোমবার (১৫ জুন) এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং অভিযুক্ত নেতার বহিষ্কার চেয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন জেবিন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ বেরোবি ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির সঙ্গে উম্মে জেবিনের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে বাপ্পি তার সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করলে ভুক্তভোগীর পরিবার রংপুরের তাজহাট থানায় একটি অভিযোগ করে। পরবর্তী সময়ে সেই আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে বাপ্পি উম্মে জেবিনকে বিয়ে করতে বাধ্য হন।

লিখিত অভিযোগে উম্মে জেবিন উল্লেখ করেন, বিয়ের পর থেকেই বাপ্পি তার ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। বাপ্পি কোনো কর্মসংস্থান না করে সম্পূর্ণ স্ত্রীর উপার্জিত টাকায় চলতেন এবং জোরপূর্বক সেই টাকা কেড়ে নিয়ে নেশা করতেন। নেশার টাকার জন্য সে প্রায়ই স্ত্রীর গায়ে হাত তুলতেন। এ ছাড়া বাপ্পির পরিবার তাকে মেনে নেওয়ার শর্ত হিসেবে উম্মে জেবিনের পরিবার থেকে মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করা হতো। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যেত।

উম্মে জেবিন আরও জানান, এই নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে গত ৮ জুন তিনি ছাত্রদল নেতা মোল্লা মোহাম্মদ মুসা বরাবর একটি অভিযোগপত্র দেন। কিন্তু দায়িত্বশীল পদে থেকেও তিনি অভিযুক্ত বাপ্পির প্রতি দলীয় সমর্থন দেখিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো ভুক্তভোগীকে থানায় মামলা করার পরামর্শ দিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যান।

আরও পড়ুন: বেতন পাননি ১ লাখ ৯১ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী, কবে পাবে—কেউ জানে না

কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে উম্মে জেবিন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতির দ্বারস্থ হন। আবেদনে তিনি উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত মাইদুল ইসলাম বাপ্পিকে দল থেকে বহিষ্কার এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাইদুল ইসলাম বাপ্পির সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জেবিন আমার বিবাহিতা স্ত্রী, প্রেমিকা নয়। ওর আর আমার বিষয়টা একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এটা নিয়ে নিউজ করার কিছু নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, ‘এটা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক। আর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এ রকম সম্পর্ক হতেই পারে। এতে যদি কেউ দলের নাম ভাঙায় তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আমরা বিষয়টি ইতোমধ্যে তদন্ত করতে দিয়েছি। তদন্তের আগে কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা শুনেছি, তাদের রিলেশন ছিল এবং যে অভিযোগ করেছে, তার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। হয়তো এটি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। যদি কেউ চিটিং করে, সে ছেলে হোক আর মেয়ে হোক, তাহলে অবশ্যই শাস্তি হ‌ওয়া উচিত। আমরা সেটি তদন্ত করছি।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনে রেকর্ড, তবু আ…
  • ১৫ জুন ২০২৬
বাকৃবিতে ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সার্জিক্যাল কিট বক্…
  • ১৫ জুন ২০২৬
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে চলছে অ্যাডমিশন ফেস্ট: স্কলারশিপ…
  • ১৫ জুন ২০২৬
প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে কারিগরি ত্রুটি নিয়ে আ…
  • ১৫ জুন ২০২৬
কক্সবাজারে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই যাত্রীর
  • ১৫ জুন ২০২৬
বিনামূল্যে সৌদিতে গবেষণা ইন্টার্নশিপ, মাসে মিলবে ১ হাজার ডল…
  • ১৫ জুন ২০২৬
×