৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছাত্রশিবিরের ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট ২০২৬’

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৩ AM
৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছাত্রশিবিরের ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট ২০২৬’

৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছাত্রশিবিরের ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট ২০২৬’ © সংগৃহীত

‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট ২০২৬’ সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার শুরু হয়। তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী ভাবনা ও মেধাকে উৎসাহিত করতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন সেশন ও আইডিয়া প্রেজেন্টেশন ও সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়।

আয়োজনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২১৩তম ‘শহীদ’ শাহাবুদ্দিনের পিতা মো. রফিকুল্লাহ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ।

উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন ড. ওয়ারেসুল করিম। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিংয়ের ওপর জোর দেন সেন্টার ফর স্ট্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্ট্যাডিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. মিজানুর রহমান এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া মূল প্রতিযোগিতায় সারাদেশ থেকে বাছাইকৃত দুই শতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পোস্টার প্রেজেন্টেশন, পেপার প্রেজেন্টেশন, ভিডিও প্রেজেন্টেশন ও প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন নিয়ে তাদের চমৎকার সব পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

প্রতিযোগিতার মূল পর্ব শেষে বিকেলে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাপনী ও পুরস্কার প্রদান সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব যোবায়ের। বিশষে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (BUET) ন্যানোম্যাটেরিয়ালস এন্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং (NCE) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফখরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এবং নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর জেনারেল এডুকেশন বিভাগের লেকচারার ড. একরাম উদ্দিন।

পুরস্কার প্রদান সেশনে সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বলেন, এই আয়োজন কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক সুদূরপ্রসারী বুদ্ধিবৃত্তিক মহড়া। আমরা বিশ্বাস করি, তরুণদের উদ্ভাবনী মেধার সাথে যদি সততা ও দেশপ্রেমের সমন্বয় ঘটানো যায়, তবে কোনো অপশক্তিই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে রুখতে পারবে না। ছাত্রশিবির এমন এক তরুণ প্রজন্ম গড়তে চায়, যারা শুধু ডিগ্রি অর্জন করবে না, বরং তাদের মেধা ও বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা দিয়ে রাষ্ট্রের প্রতিটি সংকট নিরসনে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করবে। আজকের এই উদ্ভাবনী পরিকল্পনাগুলোই হবে ভবিষ্যতে একটি ইনসাফপূর্ণ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রধান হাতিয়ার।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ রাষ্ট্র পুনর্গঠনে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, একটি ইনসাফপূর্ণ ও আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; বরং তরুণদের গাণিতিক ও প্রযুক্তিগত মেধার প্রয়োগ ঘটিয়ে প্রতিটি জাতীয় সংকটের উদ্ভাবনী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

বিগত সময়ের প্রেক্ষাপট টেনে তারা আরও বলেন, অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে যে, নৈতিকতাহীন মেধা কেবল দুর্নীতিরই জন্ম দেয়। তাই আগামীর বাংলাদেশের মূল ভিত্তি হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি এবং সততা-দেশপ্রেমের এক অভিন্ন মেলবন্ধন। আমাদের তরুণদের এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে যেন তারা শুধু বৈশ্বিক সমস্যার ভোক্তা না হয়ে সমাধানের কারিগর হতে পারে। আয়োজনে তরুণদের সৃজনশীল প্রজেক্টগুলো প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের তরুণরা রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সংস্কার আনতে সক্ষম।

আয়োজনে গ্রুপ-এ (এইচএসসি/আলিম) ও গ্রুপ-বি (অনার্স/মাস্টার্স) ক্যাটাগরিতে পোস্টার, ভিডিও, পেপার এবং প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশনসহ মোট ৭টি ক্যাটাগরিতে ২১ জন প্রতিযোগিকে পুরস্কৃত করা হয়। পোস্টার প্রেজেন্টেশনে প্রথম স্থান অধিকার করেন রিফাত আহমেদ, দ্বিতীয় মাহমুদুল ইসলাম আকাশ এবং তৃতীয় হয়েছেন সানিম মুহতাদী। ভিডিও প্রেজেন্টেশনে প্রথম হয়েছেন নাজিম উদ্দিন খান, দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ আলিম এবং তৃতীয় নাঈম আল মুবিন। প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন তাহসিন আল মাহদী, দ্বিতীয় ইশতিয়াক আহমেদ খান এবং তৃতীয় হয়েছেন মুঈন ইসলাম।

গ্রুপ-বি (অনার্স/মাস্টার্স) ক্যাটাগরিতে পেপার প্রেজেন্টেশনে প্রথম স্থান অর্জন করেন আব্দুর রহমান, দ্বিতীয় মো. সাইফুল ইসলাম এবং তৃতীয় হয়েছেন নাফিস আলম। পোস্টার প্রেজেন্টেশনে প্রথম হয়েছেন মেহেরাব হোসেন, দ্বিতীয় আসাদুল্লাহ ওয়াকিফ এবং তৃতীয় মাহমুদ হাসান মেহেদী। ভিডিও প্রেজেন্টেশনে প্রথম স্থান অধিকার করেন মো. মিনহাজ উদ্দিন, দ্বিতীয় হাসিবুল আলম শিপু এবং তৃতীয় মো. সায়াদ হোসাইন প্রধান। প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশনে প্রথম হয়েছেন ইফতিয়ান ইজাজ, দ্বিতীয় সামিন ইয়াসার এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন আনিসুর রহমান খান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, গবেষণা সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ, জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ প্রমুখ।

চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে পুলিশি হামলার মুখে জুলাই শহীদ ওম…
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইনকিলাব মঞ্চ কর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে কুবিতে ব…
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্ষুদ্র জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে যেভাবে আগ্রাসী হয়েছেন, নির্বাচ…
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছাত্রশিবিরের ‘ইয়ুথ আইডিয়া কনটেস্ট …
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আন্দোলনরতদের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা মহিলা জামায়াতের
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ডিএমপিতে যোগ দিয়েও ছাত্রদলের পক্ষে সক্রিয় ‘হাদির লাশ নিয়া য…
  • ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬