কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম © সংগৃহীত
গঠনমূলক কাজের মাধ্যমেই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রসমাজের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। “মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্বাগত র্যালি ও সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এসময় নেতাকর্মীরা মাথায় রঙিন ক্যাপ, হাতে সংগঠনের পতাকা ও জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে র্যালিটি শাহবাগে পৌঁছালে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। প্রধান আলোচক ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক শাহ মাহফুজুল হক এবং সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছরে পদার্পণ করে ছাত্রশিবির আজ বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। শত জুলুম ও নির্যাতনের পাহাড় পাড়ি দিয়ে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করে আজ ছাত্রশিবির এক অপরাজেয় কাফেলায় পরিণত হয়েছে। আমরা একটি সমৃদ্ধ, ইনসাফভিত্তিক ও আদর্শিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর।
তিনি সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশ গঠনের কাজে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গঠনমূলক কাজের মাধ্যমেই ছাত্রশিবির ছাত্রসমাজের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে এবং এই কাফেলাই আগামী দিনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিবে, ইনশাআল্লাহ।’ একইসাথে সকল প্রকার আধিপত্যবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের আপসহীন সংগ্রাম অতীতের ন্যায় আগামীতেও জারি রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়াও আগামী নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে একটি ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গঠন করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তারা ঐতিহাসিক শাহবাগের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই শাহবাগ থেকেই ছাত্রশিবিরের প্রথম কেন্দ্রীয় সভাপতি মীর কাসেম আলী ও দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় সভাপতি কামারুজ্জামানকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি ভারতীয় আদিপত্যবাদের ছকে শাহবাগে মব সৃষ্টি করে ভুয়া বিচারের মাধ্যমে শহীদ করেছিল। সময়ের পরিক্রমায় সেই খুনি ও জালিম শক্তিকে পরাজিত করে ছাত্রশিবির আজ সেই একই শাহবাগে সগৌরবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, সত্যের এ পুনরুত্থান প্রমাণ করে যে, জুলুম করে আদর্শকে স্তব্ধ করা যায় না; বরং শাহাদাতের রক্তে রঞ্জিত হয়েই এই কাফেলা আজ আরও বেশি শক্তিশালী ও সংহত। আমরা তাদের শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করি।
সমাবেশে শহীদ আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ এবং ওসমান হাদীর আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাদের হত্যার যথাযথ বিচার দাবি করা হয়।