ভোলার ইলিশা ঘাটে চরম পরিবহন সংকট, ভাড়া গুণতে হচ্ছে ৫-৬ গুণ © টিডিসি ছবি
পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে ভোলায়। তবে প্রয়োজনীয় পরিবহনের অভাবে ইলিশা লঞ্চঘাটে নেমে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে ঢাকা সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা ৮টি যাত্রীবোঝাই লঞ্চ একসঙ্গে ভোলার ইলিশা ঘাটে পৌঁছায়। একই সময়ে লক্ষ্মীপুর রুট থেকেও আরও চারটি লঞ্চ ও সি-ট্রাক ঘাটে ভিড়লে মুহূর্তেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দুই রুট মিলিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার যাত্রী একযোগে নামায় তীব্র যানবাহন সংকট দেখা দেয়।
পরিবহন না পেয়ে অসংখ্য যাত্রী পরিবার-পরিজন ও মালপত্র নিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে ভোলা-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক সড়কে গিয়ে অবস্থান নেন। রোজা ও চৈত্রের তীব্র গরমে শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না বাস কিংবা অটোরিকশা।
ঢাকা থেকে আসা যাত্রী নুরজাহান ও রহিমা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুপুর দেড়টায় লঞ্চ থেকে নেমেছি, এখন বিকেল চারটা— এখনো ইলিশা কলেজের সামনে বসে আছি, কোনো যানবাহন পাচ্ছি না।
এদিকে পরিবহন সংকটের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু চালকের বিরুদ্ধে। চরফ্যাশনগামী যাত্রী রিয়াজ হোসেন বলেন, ইলিশা ঘাট থেকে শহরে অটোরিকশার ভাড়া যেখানে ৫০ টাকা, সেখানে আজ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। এত টাকা দিয়েও গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না।
ঈদকে ঘিরে বাড়তি যাত্রীচাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় ভোলার ইলিশা ঘাটে প্রতিদিনই এমন ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।