ফেনী সেন্ট্রাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা বন্ধ রেখে ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনের আয়োজন করা হয় © টিডিসি ফটো
ফেনী শহরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান প্রথম প্রান্তিক সামষ্টিক মূল্যায়ন পরীক্ষা স্থগিত রেখে চলছে ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন। আজ শনিবার সকালে শহরের সেন্ট্রাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে এসে শত শত শিক্ষার্থী ও অভিভাবক স্কুল গেট থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
নির্বাচনের কারণে প্রাথমিকের প্রায় ৪২৫ শিক্ষার্থীর নির্ধারিত গণিত পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার পুরো জেলায় একযোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনের ভেন্যু হিসেবে বিদ্যালয়টি ব্যবহৃত হওয়ায় আগের রাতে অনলাইনে এবং বিদ্যালয়ের গেটে নোটিশ দিয়ে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। স্বল্প সময়ের নোটিশ হওয়ায় অধিকাংশ অভিভাবকই বিষয়টি জানতে পারেননি। ফলে সকালে শিক্ষার্থীরা ইউনিফর্ম পরে স্কুলে এসে দেখে সেখানে ভোটের আয়োজন চলছে। এমন অবস্থায় পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্কুল গেট থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতি জানায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১ হাজার ৮৬০ জন। ২৭টি পদের বিপরীতে নির্বাচনী মাঠে ছিলেন ৫৩ জন প্রার্থী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘শিখন ঘাটতি কাটাতে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বিদ্যালয় খোলা রাখার নির্দেশনা ছিল। আমরা বন্ধের বিষয়টি জানতাম না। স্কুলে আসার পর শিক্ষকরা জানিয়েছেন পরীক্ষা হবে না। এখানে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ আলাদা, আবার আসা-যাওয়ার জন্যও আলাদা গেট রয়েছে। তবুও কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় বন্ধ রেখেছেন কেন তা বোধগম্য নয়।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানা আমিন বলেন, ‘প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪২৫ শিক্ষার্থীর আজ গণিত পরীক্ষা ছিল। কিছু সমন্বয়হীনতার কারণে একটু সমস্যা হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সকালে আসলেও প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে আগেই অবগত হয়েছে। শুক্রবার রাতে অনলাইনে নোটিশের বন্ধের বিষয়টি মাধ্যমে জানানো হয়। নতুন প্রশ্ন তৈরি করে পরবর্তী এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও আমরা ৭ জন শিক্ষক দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অফিসকক্ষে ছিলাম।’
শহর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন কমিশনার মোহাং আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘একই সেন্ট্রাল হাইস্কুল ক্যাম্পাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অবহিত করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী বিদ্যালয় বন্ধ ছিল।’
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খালেদা পারভীন বলেন, ‘সদরের ১৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিন্ন প্রশ্নে প্রথম প্রান্তিক সামষ্টিক মূল্যায়ন পরীক্ষা চলছে। সেন্ট্রাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে সেন্ট্রাল হাইস্কুলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই ক্যাম্পাস হওয়ায় ছোট ছোট শিশুদের আসা-যাওয়াতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা বা ঝুঁকি থাকায় বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শহর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে রুটিনের সবগুলো পরীক্ষা শেষ হলে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে এ বিদ্যালয়ের স্থগিত পরীক্ষা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দীন আহাম্মদ বলেন, ‘শিখন ঘাটতি কাটাতে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও জেলার ৫৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার বিষয়ে অধিদপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে। তবে এই বিদ্যালয় বন্ধ রেখে নির্বাচন বা পরীক্ষা বন্ধের বিষয়টি আমি এখনো অবগত না। আমি একটি কোর্সে অফিসের বাইরে আছি। এ বিষয়ে খোঁজ নেব।’