বিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাটের আয়োজন © টিডিসি ফটো
প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে হাট না বসানোর ব্যাপারে কড়াকড়ি থাকলেও, স্থানীয় প্রভাবশালী ও ইজারাদাররা ভিন্ন নামে বাজার ইজারা নিয়ে কৌশলে স্কুলের মাঠ ব্যবহার করছেন।
শুক্রবার ও শনিবার, সরেজমিনে উপজেলার মমরুজকান্দি সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, সটাকী বাজার সংলগ্ন শরীফ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় এখলাসপুর উচ্চ বিদ্যালয়,নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও গজরা শিল্পকলা একাডেমীর সামনে সড়কের পাশে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে পশুর হাটের খুঁটি বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বড় বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে করে ঈদের পর স্কুল খুললে মাঠের পরিবেশ, দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রব নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
মমরুজকান্দী সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম স্কুল মাঠে হাট বসানোর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা স্কুল মাঠে গরুর হাট বসানোর জন্য নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু স্থানীয় লোকজন স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহ স্যারের সাথে কথা বলে মাঠটি তে গরুর হাট বসিয়েছে।
নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গরুর হাট বসানোর বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আরিফ উল্লাহ বলেন, আমাকে জিজ্ঞেসা না করেই স্কুল মাঠে গরুর হাট বসিয়েছে স্থানীয় লোকজন। আমি যতটুকু জানি গরুর হাট থেকে উঠানো টাকা একটা হাফেজিয়া মাদ্রাসায় যায়।
সটাকী বাজারের ইজারাদার লাদেন সরকার সরকারি নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে শরীফ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গরুর হাট বসিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইজারাদার লাদেন সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গজরা গরুর হাটের ইজারাদার কবির হোসেন বলেন, শিল্পকলা একাডেমি মাঠে গরুর হাট বসানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ রক্ষায় প্রশাসনের এমন শিথিলতা ও ইজারাদারদের মনগড়া কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, স্কুল ও কলেজ মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এবার জেলা প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সব ইজারাদারকে বিষয়টি আগেই সতর্ক করে বলে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যেহেতু কিছু জায়গায় স্কুল-কলেজের মাঠে হাট বসানো হয়েছে, আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ইজারাদারদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।