আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী © সংগৃহীত
বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে নারীদের নেতৃত্বের বিকাশ ও ক্ষমতায়নে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য লিড ফেলোশিপ প্রোগ্রামে আবেদন আহ্বান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর নারী পেশাজীবীরা এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এতে নেতৃত্ব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, এক্সিকিউটিভ কোচিং, মেন্টরশিপ ও হার্ভার্ডে ছয় সপ্তাহের আবাসিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
এ কর্মসূচির বিমানভাড়া, আবাসন, ভিসা ফি ও দৈনিক ভাতাসহ নির্ধারিত খরচ বহন করবে ফেলোশিপ কর্তৃপক্ষ। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৫ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
লিড এর পূর্ণরূপ হলো লার্ন, এনগেজ, অ্যাডভান্স অ্যান্ড ডিসরাপ্ট। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে নারীদের নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানো এবং তাদের ক্ষমতায়ন করাই এ ফেলোশিপের মূল লক্ষ্য। এক বছর মেয়াদি এ কর্মসূচির আয়োজন করছে হার্ভার্ড গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউট এবং হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের গ্লোবাল হেলথ অ্যান্ড পপুলেশন বিভাগ।
ফেলোশিপের কার্যক্রম
এ ফেলোশিপ প্রোগ্রামটি দুই ধাপে পরিচালিত হবে। প্রথম ধাপে ভার্চ্যুয়াল কার্যক্রম এবং দ্বিতীয় ধাপে সরাসরি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।
প্রথম ধাপ: ভার্চ্যুয়াল কার্যক্রম
প্রথম ধাপে ফেলোরা নিজেদের ব্যক্তিগত নেতৃত্ব ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করবেন। এ সময় এক্সিকিউটিভ কোচিংয়ের মাধ্যমে নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি একাডেমিক ক্রেডেনশিয়াল অর্জন, জে-ওয়ান ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং কোর্সের প্রস্তুতি নেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ ছাড়া অনলাইন মেন্টরশিপ সেশন ও বিভিন্ন ভার্চ্যুয়াল আয়োজনে অংশ নিতে পারবেন তাঁরা।
দ্বিতীয় ধাপ: হার্ভার্ডে ছয় সপ্তাহের কর্মসূচি
দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত ফেলোরা ২০২৭ সালের এপ্রিলে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় সপ্তাহ অবস্থান করবেন। এ সময় নেতৃত্ববিষয়ক কর্মশালা, এক্সিকিউটিভ এডুকেশন কোর্স, জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়া এবং দল গঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত ব্যয় ফেলোশিপের আওতায় বহন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ভিসা ফি, যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, আবাসন ও দৈনিক ভাতা।
ফেলোশিপে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে
ব্যক্তিগত নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়াতে এক্সিকিউটিভ কোচিং।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে মেন্টরশিপ।
হার্ভার্ডের বিভিন্ন আয়োজনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ।
এক্সিকিউটিভ এডুকেশন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ।
বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্ববিষয়ক মাস্টারক্লাসে অংশ নেওয়া।
সম্পূর্ণ অর্থায়নে ছয় সপ্তাহের আবাসিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ।
আবাসিক কর্মসূচির জন্য বিমানভাড়া, আবাসন, ভিসা ফি ও দৈনিক ভাতা।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলি
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কোনো দেশে কর্মরত নারী পেশাজীবী হতে হবে।
আরও দেখুন: উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ নিয়ে পড়ুন ফ্রান্সে
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্তত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।
বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে কমপক্ষে ১০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বর্তমান নিয়োগকর্তার পূর্ণ সমর্থন থাকতে হবে।
নিজ প্রতিষ্ঠানের কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বা চ্যাম্পিয়নকে রেফারেন্স হিসেবে মনোনীত করতে হবে।
২০২৭ সালের এপ্রিলে ছয় সপ্তাহের আবাসিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য কর্মস্থল থেকে ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।
জে-ওয়ান ভিসা পাওয়ার যোগ্য হতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অবস্থান করতে সক্ষম হতে হবে।
ফেলোশিপ শেষে নিজ দেশে ফিরে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা থাকতে হবে।
গত দুই বছরে চার মাস বা তার বেশি মেয়াদি কোনো পূর্ণকালীন ফেলোশিপে অংশ নেওয়া যাবে না।
আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি)।
সর্বোচ্চ দেড় পৃষ্ঠার উদ্দেশ্যপত্র।
চারটি প্রবন্ধ, প্রতিটি সর্বোচ্চ দুই হাজার ক্যারেক্টারের মধ্যে।
নিজ প্রতিষ্ঠানের কমিটমেন্ট লেটার।
মেন্টরের কমিটমেন্ট লেটার।
দুটি রেফারেন্স লেটার।
আবেদনের নিয়ম ও শেষ সময়: আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ফেলোশিপের বিস্তারিত তথ্য, যোগ্যতা, আবেদনপ্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জানতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে দেখুন।
আবেদন শেষ: ১৫ নভেম্বর ২০২৬।