সরকারি তিতুমীর কলেজ © টিডিসি ফটো
একসময়ের এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত সরকারি তিতুমীর কলেজের কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়ায় কলেজের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। এতে কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ছাঁটাই আতঙ্কে দিন পার করছেন কলেজের কর্মচারীরা।
অতীতে প্রায় ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীর সেবাদানে ২০০ এর অধিক কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৭৭ এ। কলেজ সূত্রে জানা যায়, কর্মচারীদের বেতন মূলত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত আনুষঙ্গিক ফি থেকে মেটানো হয়। এতে থাকে না সরকারি কোনো অনুদান। অতীতে ইন্টারমিডিয়েট, ডিগ্রি ও প্রিলিমিনারি মাস্টার্স পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে এসব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি অনার্স পর্যায়ের আগের তুলনায় শিক্ষার্থী ভর্তি সংখ্যাও কমে গেছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে। ফলে কলেজের নিয়মিত আয় আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে।
কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৭০০ জনে। হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছর এই সংখ্যা আরও কমে দাঁড়াবে ১১ হাজারে। কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একটি উদাহরণে চিত্রটি স্পষ্ট হয়, যেখানে আগে ৪৬৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতো, সেখানে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম ব্যাচে ভর্তি হয়েছে মাত্র ১০৫ জন। অর্থাৎ শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে এক-চতুর্থাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য বিভাগগুলোতে খোঁজ নিয়ে একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়।
এদিকে, নতুন প্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এক বক্তব্যে জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ সেশন থেকে শিক্ষার্থীদের সব ধরনের খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করবে। তবে আগের সেশনগুলোর শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব থাকবে কলেজের ওপর। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: বাড়তি টেলিফোন বিল নেন রাবি শিক্ষকরা, বিধি লঙ্ঘন করে নিয়োগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে
এমন পরিস্থিতিতে আরও কর্মচারী ছাঁটাইয়ের চিন্তা করছে কলেজ প্রশাসন। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দীন আহমদ বলেন, ক্রমাগত শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় কলেজের আয়ও কমেছে। ফলে কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও করা হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থাকা কর্মচারীরা এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এ বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী বলেন, আমাদের মধ্যে অনেকেই প্রায় ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে এখানে কর্মরত। এত দীর্ঘ সময় চাকরি করার পরও বর্তমানে আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
তারা বলেন, কলেজ প্রশাসন আমাদের ছাঁটাইয়ের চিন্তা করছে বলে শুনতে পাচ্ছি। এই বয়সে এসে যদি আমাদের চাকরি চলে যায়, তাহলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম হুমকির মুখে পড়তে হবে। এ অবস্থায়, তাদের বিষয়ে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সম্মিলিতভাবে আন্দোলনে নামার কথাও জানান তারা।