সরকারের গচ্চা সাড়ে ৩ কোটি টাকা
লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
দেশের দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিফোন বিল এবং শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ অনিয়মের ফলে সরকারের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের অডিট কার্যক্রম সম্পন করেছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর। অডিটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নানা ক্ষেত্রে অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে সংস্থাটি। এসব অনিয়মের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের জেরে সরকারের এক কোটি ২৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে প্রায় দুই কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে। এসব অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামরুল আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অডিট কার্যক্রম চলছে। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে ব্যাখ্যা পাওয়ার এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।’
শিক্ষকদের টেলিফোন বিল ২৮০০, দেওয়া হয়েছে ৪৩০০
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের টেলিফোন ভাতা দিয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রতি শিক্ষক-কর্মকর্তার জন্য জন্য দুই হাজার ৮০০ টাকা করে টেলিফোন ভাতা বরাদ্দ রয়েছে। তবে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের চার হাজার ৩০০ টাকা করে টেলিফোন ভাতা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ অনিয়মের কারণে সরকারের এক কোটি ২৯ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। শুধু মোবাইল বিলের ক্ষেত্রেই নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা বিভিন্ন দোকান থেকে ভাড়াও নেওয়া হয়নি। এর ফলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, অডিটের আপত্তিগুলো আমার টেবিলে ড্রাফট আকারে দেওয়া হয়েছিল। তবে ফাইনালি উপস্থাপিত হয়নি। ফলে বিস্তারিতভাবে আমি বলতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, আমি টেলিফোন ভাতা নিই না। ফলে ব্যক্তিগতভাবে টেলিফোন ভাতার কী অবস্থা সেটা জানি না। আমি ঢাকায় আছি। ক্যাম্পাসে ফিরে কাগজপত্র দেখে বলতে পারব।
নিয়ম লঙ্ঘন করে শিক্ষক নিয়োগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালায় অন ক্যাম্পাস কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন ক্যাম্পাস কোর্স চালু করেছে। এই কোর্স চালুর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। তাদের বেতন-ভাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে পরিশোধ করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
সূত্রের তথ্য বলছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অন ক্যাম্পাস কোর্স চালুর কারণে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে সরকারের দুই কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জবাব পাওয়ার পর এই অর্থ ফেরতের সুপারিশ করা হবে।
যদিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি অন ক্যাম্পাস কোর্স তারা চালুই করতে চাননি। শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে এটি শুরু করতে হয়েছে। এটি অনুমোদন দিয়েছে সরকার। কাজেই শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের আপত্তির বিষয়টি সরকারই ভালো বলতে পারবে।
এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘অন ক্যাম্পাস কোর্স নিয়ে মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির আপত্তি ছিল। ছাত্রদের দাবির মুখে পরবর্তীতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কোর্স চালু করলে শিক্ষক নিয়োগ দিতেই হবে। তাদের বেতন-ভাতাও পরিশোধ করতে হবে। অডিট আপত্তি আসলে সে বিষয়ে আমাদের অভ্যন্তরীণ অডিট টিম এ বিষয়ে জবাব দেবে।’