এনএসইউতে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন © টিডিসি ছবি
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিকড়ের টানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা এবং আনন্দঘন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩-কে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দিনব্যাপী এই আয়োজনে এনএসইউর সাংস্কৃতিক সংগঠন (এনএসইউএসএস) এবং সোশ্যাল সার্ভিসেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন, যার ফলে পুরো ক্যাম্পাস এক প্রাণবন্ত উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।
সকালে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা আজীবন সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান জনাব এম এ কাশেম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা আজীবন সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান জনাব বেনজীর আহমেদ এবং ট্রাস্টি সদস্য মিসেস দুলুমা আহমেদ। এছাড়াও এনএসইউর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দীন আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব এম এ কাশেম বলেন, “পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালির অন্যতম বড় উৎসব। এই উৎসব আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বৈশাখ আমাদের মধ্যে নতুন উদ্যোগ ও উদ্দীপনা নিয়ে আসে। পুরোনো বছরের সব গ্লানি, ব্যর্থতা ও হতাশা পেছনে ফেলে আমরা নতুন করে শুরু করার অনুপ্রেরণা পাই। এনএসইউর শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে দিনটি উদযাপন করছে।”
বেনজীর আহমেদ তার শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, “এই দিনটি বাঙ্গালি জাতিসত্ত্বার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। পুরনো সব গ্লানিকে পেছনে ফেলে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এনএসইউ প্রতিবছর খুবই জাকজমকের সাথে এই দিনটি পালন করে থাকে। নতুন বছর সবার জীবনে শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক— এই কামনায় সবাইকে বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অধ্যাপক আব্দুর রব খান বলেন, “নতুন বছর আমাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে, আমরা নতুন করে উজ্জীবীত হই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নতুন বছরে তারা আরও উদ্যমী ও দায়িত্বশীল হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক নেছার উদ্দীন আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্তরের মানুষকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “বাংলা নববর্ষ আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। নব চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে আমরা একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে পারি। এনএসইউ সবসময়ই এই মূল্যবোধগুলো ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”
উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে দিনজুড়ে ছিল নাচ, গান, ফ্ল্যাশমব, পুতুলনাচ এবং বাউল গানের আসর। বৈশাখী মেলার বিভিন্ন স্টল এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। পুরোনো বছরের জরাজীর্ণতা মুছে নতুন উদ্দীপনায় পথচলার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই বর্ণিল উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।