বাসের চাকায় পিষ্ট হলো আবরারের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন!

১৯ মার্চ ২০১৯, ০৭:১০ PM
রাজধানীর বসুন্ধারা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী আবরার

রাজধানীর বসুন্ধারা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী আবরার © টিডিসি ফটো

আবরারের স্বপ্ন ছিল সে ডাক্তার হবে। তাই মেডিকেল কলেজে সুযোগ না হওয়ায় ভর্তি হয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফোশনালস (বিইউপি) -এর ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনশিপ বিভাগে। ইচ্ছা ছিল আগামীতে আবারও মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দিবে। কিন্তু আবরারের সেই স্বপ্ন পূরণ হল না। আবরার আহাম্মেদ চৌধুরীর মা ফরিদা ছেলের দাফনের সময় কান্নাজড়িতকণ্ঠে ছেলের স্বপ্নের কথা বলে মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বিইউপির এডিপি গ্রেড গ্রাউন্ড মাঠে আবরারের নামাজে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে। এসময় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আবরার ও আবীদ আহমেদ চৌধুরী তারা দুই ভাই। আবরার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে ‘এ’ এবং ‘ও’ লেভেল শেষ করে বিইউপিতে পড়ছিলেন। আর তার ছোট ভাই আবীদ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। তারা বসুন্ধারা ডি ব্লকের ভাড়া বাসায় থাকতেন।

মা ফরিদা ফতেমী বড় ছেলেকে শেষ বিদায় দিতে এসে বলছিলেন, কখনো আমার বাবাকে একা ছাড়তে চাইতাম না। ও আমাকে বলতো, আম্মু যদি একা চলাফেরা করতে না দাও তাহলে আমি ইন্ডিপেন্ডেন্ট হব কিভাবে? আমার বাবাটাকে সবাই পছন্দ করত। পরিবারের মাথার মুকুট ছিলি তুই। আমাদের একা ফেলে কিভাবে চলে গেলি? তোকে ছাড়া কিভাবে আমি একা থাকব? তুই একবার ফিরে এসে আমায় জড়িয়ে ধরে মা বলে ডাক বাবা।

এদিকে আবরারের বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আরিফ আহাম্মেদ চৌধুরী ছেলেকে কবরে শুইয়ে দেয়ার দৃশ্য দেখে মুশড়ে পড়েন। বলেন, জীবনে অনেক কষ্টের সময় পার করছি। ছেলেকে কবরে শুইয়ে দেয়ার এ কষ্ট অন্য কিছুর সঙ্গে মিলবে না। জীবনের সব সফলতা যেন এই ঘটনায় ছিন্নভিন্ন হল। আমার বাবাটা আর আমার কাছে আসবে না। তার মুখে আর কোনও দিন আমি বাবা ডাক শুনতে পারব না।

আবরারের ছোট চাচা মাসুদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, আবরার কমিশনার র‌্যাংকে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। ওর স্বপ্ন ছিল সেনাবাহিনীর ডাক্তার হবে। এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ না হওয়ায় আগামীতে আবারও ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ইচ্ছা ছিল তার। আবরার ছিল সকলের আদরের পাত্র। ওর বই পড়ার প্রতি অনেক আগ্রহ ছিল। সকলকে আনন্দ দিত এবং নিয়মিত নামাজ পড়তো সে।

রাকিব হাসানসহ আবরারের কয়েকজন বন্ধু বলেন, আবরার মাত্র তিন মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের মন জয় করেছিল। ছাত্র ভালো হওয়ায় আমরা তাকে সিজিপি-৪ বলে ডাকতাম। কেননা, আমরা জানতাম যে সে বেস্ট রেজাল্ট করবে। তাই আমরা সকলে তাকে এই নামেই ডাকতাম।

এছাড়াও আবরারের বন্ধুরা বলেন, ক্লাসে স্যারদের কোনও প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগে আবরারের মুখে উত্তর চলে আসত। মনে হতো পাঠ্যবইয়ের সব পড়া হয়ে গেছে তার। সেনাবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ছেলে হওয়ার পরও কোনও অহঙ্কার ছিল না ওর মাঝে। পড়াশোনায় কোনও সমস্যা মনে হলে যে কোনও সময় নক করলেই সহজভাবে সমাধান দিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার সঙ্গে ওর সুসম্পর্ক ছিল। আবরারকে সহপাঠী, সিনিয়র ও স্যাররা অনেক ভালোবাসতেন।

আবরারকে কবরস্থানে শেষ বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিল তার স্কুল জীবনের বন্ধুরাও। বন্ধুরা জানান, আবরার বসুন্ধরার প্রে-পেন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে ‘এ’ এবং ‘ও’ লেভেল পাশ করে। দুটি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ রেজাল্ট কর সে। যদিও এখন তারা একসঙ্গে পড়াশোনা করে না তবুও স্কুল ও কলেজ জীবনের বন্ধুদের মধ্যে সেই আগের মতোই সম্পর্ক ছিল।

বন্ধুরা আরও জানান, ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি অনেক কৌতূহল ছিল আবরারের। তাই এ সংক্রান্ত অনেক বই পড়তো। দেশ-বিদেশের সকল খবর রাখত। বিভিন্ন বই পড়ে তা আমাদের সঙ্গে আবার শেয়ার করত। ও অনেক শান্ত স্বভাবের ছিল। কখনো কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে দেখিনি। সবাই অনেক ভালোবাসতো আবরারকে।

আবরারের সঙ্গে সবসময় একটি কলম থাকতো। সে যখনই কথা বলত হাতের কব্জি ঘুরিয়ে কলমের মাথা নেড়ে নেড়ে কথা বলতো। ওর এ বিষয়টি নিয়ে আমরা অনেক হাসাহাসিও করতাম। ওর মৃত্যু, এভাবে চলে যাওয়া আমরা কোনোভাবেই মানতে পারছি না।

ট্রাম্পের স্ত্রীকে নিয়ে জিমি কিমেলের মন্তব্যের জেরে লাইসেন্…
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ছাত্রদলনেতাসহ মাদককাণ্ডে হাতেনাতে ধরা পড়ার ৬ মাস পরও নেই শা…
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৩, আহত অন্ত…
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ছাত্রলীগ নেতাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করলেন ঢাবি ছাত্রশক্তির …
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
রুয়েট পরিদর্শন করলেন ভারতের সহকারী হাই কমিশনার
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ডুয়েটে রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের সিট …
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬