অভিযুক্ত ছাত্র শাহাত খান চৌধুরী। © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
প্রেমের সর্ম্পকের জেরে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) এক ছাত্রীকে মাথায় আঘাত করে আহত করেছেন তারই সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়টির এক ছাত্র। গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত ছাত্রের নাম শাহাত খান চৌধুরী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র। আহত নারী শিক্ষার্থী তারই সহপাঠী। এ ঘটনায় সাময়িকভাবে ওই ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা দুইজন পূর্ব পরিচিত। ওই নারী শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নামে এর আগে থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল বিকেল তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির দ্বিতীয় তলা থেকে তারা চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। সেখানে গিয়ে দেখেন, অভিযুক্ত ছাত্র ওই নারী শিক্ষার্থীকে মাথায় আঘাত করে মাটিতে ফেলে দিয়েছেন। অজ্ঞান অবস্থায় তারা ওই ছাত্রীকে ধরাধরি করে নিচতলায় নিয়ে আসেন। পরে মেডিক্যাল টিমের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে প্রক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় উপস্থিত ছাত্ররা অভিযুক্ত শাহাতকে মোহাম্মদপুর থানায় নিয়ে যায়। এদিকে হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ওই ছাত্রীও থানায় আসে। সেখানে শাহতের ‘আন্টি’ এসে তার মানসিক সমস্য আছে বলে জানায়। একইসাথে বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে ইউল্যাবের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ওই মেয়ের চিৎকার শোনার পর থেকে থানা পর্যন্ত পুরো সময়ই আমি সাথে ছিলাম। মাথায় আঘাত করার পরও তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা ছিল না। বরং সে আরও বলছিল, ‘আমার আন্টি আছে ভিসি স্যারের পরিচিত’। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলে সেই আন্টি আসেন। নিজেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও তার স্বামী সচিব বলে জানায়। সে উল্টো থানায় আমাদের সাথে ঝগড়া শুরু করে দেয়। এ দেশে ক্ষমতা থাকলেই তাদের সন্তান, আত্মীয়রা যা খুশি করবে তার তো কোনো মানে নেই।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল ইসলাম (অব.) বলেন, গতকালকের ঘটনার পূর্বেই ওই নারী শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নামে থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেছিল। তাদের মধ্যে সম্ভবত কোনো ঝামেলা আগে থেকেই ছিল। যেহেতু ফিজিক্যাল অ্যাসাল্টের ঘটনা ঘটেছে, তাই বিষয়টি পুলিশ দেখবে। সাময়িকভাবে ওই ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শৃঙ্খলা কমিটি এ বিষয়ে তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে সিন্ডিকেট ব্যবস্থা নেবে।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিকুল আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ওই ছাত্রকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে তারা নিজেদের মধ্যে ঘটনাটি মিমাংসা করে নেয়। এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি।