তানভীর মোহাম্মদ ত্বকী © সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ৭১ বিধিতে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে এই দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
নোটিশে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালে নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহরণ করা হয় ১৭ বছর বয়সী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে। অপহরণের পরদিন তার এ লেভেল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়। যেখানে দেখা যায়, ত্বকী পদার্থবিজ্ঞানে ৩০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯৭ পেয়েছিলেন। তবে, অসাধারণ এই ফলাফল জেনে যেতে পারেননি ত্বকী। ২ দিন পরে তার লাশ উদ্ধার করে হয়। র্যাব-১১ এর তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে এবং আজমেরী ওসমানসহ ১১ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া।
এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, এমনকি জড়িত দুই জনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী থাকার পরেও ফ্যাসিস্টদের নির্দেশে এই মামলার তদন্ত ও বিচার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আজ অবধি প্রায় ১৩ বছরের অধিককাল মামলার চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় বিচার শুরু হয়নি, যা বিচারহীনতার উদাহরণ। দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্বকী হত্যার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করলে তা জন-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। বিষয়টি অতীব জরুরী ও জনগুরুত্বসম্পন্ন হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
উল্লেখ্য, তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ড নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত একটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ড। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সুধীজন পাঠাগারে প্রতিদিনের মত যাচ্ছিলেন তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করে ভাসিয়ে দেয় শীতলক্ষ্যা নদীতে। ৮ মার্চ নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ত্বকী হত্যার পর প্রবল আন্দোলন হয় সারাদেশে। আন্দোলনের চাপে সরকারী তদন্তকারী সংস্থা দ্রুত তদন্তে নামে। খুনের এক বছরের মাথায় ২০১৪ সালে ত্বকী হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে তা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করে। তবে অদ্যাবধি এ হত্যা তদন্ত এবং অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করা হয়নি।