সংরক্ষিত নারী আসন
দ্বিতীয়দিনে ৫ বিভাগের ৫৪৫ মনোনয়ন প্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন দলীয় প্রধান তারেক রহমান © সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে কারা সংসদ সদস্য হবেন, তা নির্ধারণে চূড়ান্ত বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দ্বিতীয়দিনের মত পাঁচ বিভাগের ৫৪৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। এতে সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের ও বিএনপি চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এর বাইরে বৈঠকে দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার গুলশান বিএনপি চেয়ারম্যান কার্যালয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট ও ময়মনসিংহের বিভাগের জেলার প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। দুপুরের পর থেকেই জমজমাট হয়ে ওঠে বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয় এলাকা। বিকালে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বিএনপি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে শুরু হয় সাক্ষাৎকার পর্ব। দুদিনের সাক্ষাৎকার পর্বের প্রথমদিনে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের মোট ৩৭৮জন প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়নে, আন্দোলন সংগ্রামে অবদান জানতে চাওয়া হয় মনোনয়ন বোর্ডে। বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেত্রীদের প্রত্যাশা, দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সংসদে ভূমিকা রাখার।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নারী আসন নিয়ে স্থায়ী কমিটি এবং দলের মনোনয়ন বোর্ড যথাযথ মূল্যায়ন করবে এটাই প্রত্যাশা। তিনি বলেন, ভয়াবহ দুঃসময় পেরিয়ে আমরা গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি, এটি নিঃসন্দেহে খারাপ সময় পার করেছি। অনেকে হয়রানির শিকার হয়েছেন, পৈশাচিক কষ্ট পেয়েছেন। যাদের সংসদে কথা বলার যোগ্যতা রয়েছে তাদেরকে মূল্যায়ন করা হবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মোট এক হাজার ২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হলেও জমা দিয়েছেন প্রায় ৯০০ জন। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা এবং মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার সময় প্রার্থীদের দিতে হয় ৫০ হাজার টাকা জামানত।
গত ৮ এপ্রিল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ এপ্রিল। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল এবং বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল, যা নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। এর মধ্যে বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।