তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের ব্যাখ্যায় কী বললেন রাশেদ প্রধান?

১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৩ PM , আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৬ PM
তারেক রহমান ও রাশেদ প্রধান

তারেক রহমান ও রাশেদ প্রধান © সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কিত বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান জানিয়েছেন, তিনি রাজপথের মানুষ হিসেবে জনগণের পালস বুঝে কথা বলেন এবং সত্য বলতে তিনি কাউকে ভয় পান না। 

তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে বাকস্বাধীনতা প্রত্যাশিত ছিল তা এখনও অর্জিত হয়নি, বরং বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের ‘ক্ষমতার গরমে’ তার বক্তব্য নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিএনপি সরকার গঠন করার পর সেই অবস্থান থেকে সরে এসে জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেছে। সাম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। 

রাশেদ প্রধান বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে আমার দ্বিতীয় জীবন কাটাচ্ছি। সো মৃত্যুভয়ে যাচাই-বাছাই করে কথা বলতে হবে ওই জায়গাটাতে আমি আর বিশ্বাসী না। শপথ গ্রহণের প্রথম দিনই তো বিএনপি সরকার ৭০ ভাগ মানুষ যারা হ্যাঁ ভোট দিয়েছিল তাদের সাথে বেইমানি করেছে। জনগণকে জানাচ্ছি যে আপনারা যে ভোটটা দিয়েছিলেন সেই ভোটটাকে কিন্তু বিএনপি গ্রহণ করে না। বেইমানি করা হয়েছে।’ 

সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাকস্বাধীনতার সীমা লঙ্ঘন করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেখুন আমি আমার জায়গা থেকে যেটা বুঝি সেটা হচ্ছে আমি এই মুহূর্তে বিরোধী দলে আছি। আমি রাজপথের মানুষ। সংসদের মানুষও না। তো আমি রাজপথে রাজপথের পালস বুঝে জনগণের পালস বুঝে জনগণ যেটা শুনতে চায় আমাদের মুখে সেই ভাষায় কথা বলতে অভ্যস্ত।’

বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার কথা বলছেন তখনও তো আমার নানাবিধ শব্দ নিয়ে নানা রকম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়াতে কথাবার্তা হয়েছিল। কিন্তু তখন আসলে এত ইফেক্ট দেখা যায়নি। গতকাল থেকে যেটা দেখা যাচ্ছে। গতকালকের আর নির্বাচনকালীন শব্দগুলোর মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নাই। কিন্তু গতকালকে এত বড় হয়ে গেল কেন? এত বড় হয়ে গেল কারণটা হচ্ছে এই সময় একটা ক্ষমতাসীন সরকার আছে যেটা নির্বাচনের পূর্বে ছিল না। এই কারণে তখন এত বড় করে দেখা হয়নি। এখন একটা ক্ষমতার একটা আলাদা গরম আছে। আপনি যেমন আমাকে হট সিটে বসিয়েছেন এরকম ক্ষমতার হট সিটটা আসলে অনেক হট। তো ওই জায়গাটা থেকে প্রতিক্রিয়া আসছে। এটাই স্বাভাবিক। আমার মনে হয় বাংলাদেশের মতো দেশেও যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা যেটা চেয়েছিলাম সেটা তো আসলে পাইনি।’

ছাত্রদল বা যুবদলের সম্ভাব্য হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই করব না। আমার কি করার আছে? আমি তো আগেই বলেছি, আমি ইভেন পার্লামেন্টেরও সদস্য না, আমি রাজপথের মানুষ। ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে রাশেদ খান আর আমি পাশাপাশি ছিলাম। পরবর্তীতে দুইজনের মেরুকরণ দুই রকম হয়েছে। এখন উনি উনার পোস্টের মাধ্যমে অথবা স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ছাত্রদল যুবদল যদি আমার ওপর কিছু করে বা আক্রমণ করে তাহলে আমার কি করার থাকতে পারে কারণ উনি এখন সরকার পক্ষের মানুষ। আর আমি তো রাজপথের মানুষ। আমার কিছুই করণীয় নাই। আমার সাথে প্রশাসনও নাই, পুলিশও নাই। আমার সাথে জনগণ আছে। জনগণ সহানুভূতি জানাতে পারে সেটাই হবে। আর সেইখান থেকে যদি আহত হই তাহলে চিকিৎসা নিতে হবে। যদি নিহত হয়ে যাই তাহলে তো চলে গেলাম আল্লাহর দরবারে। তাহলে তার বলার কিছু নেই।’

নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে সত্য কথা বলতে যে যদি এখন ছাত্রদল যুবদলের আক্রমণের শিকার হতে হয় অথবা রাশেদ খান যদি তাদেরকে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেয় যে যাও আক্রমণ কর তাহলে আক্রমণ শিকার হতে হবে। এর বেশি আমার কোন কিছু করার নাই। তবে আমি যেটা বলতে চাই আমি সত্য কথা বলতাম এখনও বলি ভবিষ্যতেও বলব। এটার জন্য যদি জীবন দিতে হয় আমরা প্রস্তুত আছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ১৯ তারিখ আমার সামনে মানুষ মারা গেল। ওইদিন আমারও মারা যাওয়ার কথা ছিল। আমি জানি আমি আল্লাহ প্রদত্ত দ্বিতীয় জীবন কাটাচ্ছি। এই কারণে এই ভয়গুলো কাজ করে না।’

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শপথ গ্রহণের প্রথম দিনই তো বিএনপি সরকার ৭০ ভাগ মানুষ যারা হ্যাঁ ভোট দিয়েছিল তাদের সাথে বেইমানি করেছে। তো এখন সেই জায়গাটাকে তাদেরকে আমি কি সহযোগিতা করতে পারি? আমি কি তাদেরকে এটা বলতে পারি যে আপনারা যে নতুন করে স্বৈরাচার হতে চাইছেন বা নতুন ফ্যাসিজম সৃষ্টি করছেন এখানে আমাদের সমর্থন আছে? অবশ্যই না। জনগণের অধিকার আছে জানার। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিএনপি সেটা করতে রাজি না। এখন হয় আমাদের আপোষ করতে হবে নতুবা আন্দোলনে যেতে হবে। জনগণকে জানাচ্ছি যে আপনারা যে ভোটটা দিয়েছিলেন সেই ভোটটাকে কিন্তু বিএনপি গ্রহণ করে নাই।’

তারেক রহমানের পূর্ববর্তী অবস্থানের কথা উল্লেখ করে রাশেদ প্রধান বলেন, ‘নির্বাচন হওয়ার আগে বিএনপির একটা নেতাও তো বলেনি আমরা গণভোট মানি না। তারেক রহমান সাহেব বগুড়ার জনসভায় ওপেন বলেছিলেন আপনারা দয়া করে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিবেন। তাহলে জনাব তারেক রহমান তো হ্যাঁ এর পক্ষে আহ্বান জানিয়েছেন। অথচ এখন বলছেন গণভোট মানি না, সংবিধানে নেই। তাহলে তো আপনি সরাসরি বিক্রয় করেছেন। আপনারা সরাসরি প্রতারণা করেছেন এবং এর জবাবদিহিতা আপনাদের করতে হবে। আপনারা সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন অথচ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ের গণভোটকে যদি আমরা স্যালুট জানাই তাহলে এখন কেন মেনে নিতে পারছি না? এটাই তো স্বৈরতন্ত্রের লক্ষণ।’

সংসদে যে কারণে এনসিপিকে জামায়াতের চেয়ে শক্তিশালী বলছেন রুমি…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুরের ইমামের সেই মেয়ে উদ্ধার
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেবার কারণ জানালেন রুমিন ফার…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
রাজশাহী নার্সিং কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের …
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
চোখ বন্ধ হলেই অ্যালার্ম—চালকদের নিরাপত্তায় শিক্ষার্থীদের নত…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
অভিজ্ঞতা ছাড়াই ইন্টার্ন নিয়োগ দেবে নগদ, পদ ৩০, থাকছে মাসিক …
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬