বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর © ফাইল ছবি
দিনক্ষণ নির্ধারণ না করলেও চলতি বছরই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপির কাউন্সিল ‘এই বছরের মধ্যে, খুব শিগগিরই’ অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিএনপি মহাসচিব এ তথ্য জানান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপির কাউন্সিল এই বছরের মধ্যেই। তবে এখনো আমরা সময় নির্ধারণ করেনি। কিন্তু আমার মনে হয় শিগগিরই হবে কাউন্সিল।’ দলটির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে। বিএনপি মহাসচিবের কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, সরকার গঠনের পর সরকার ও দল এক হয়ে গেছে। দলের কার্যক্রম কবে নাগাদ শুরু হবে।
জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দলের (বিএনপির) কার্যক্রম তো চলছে, ছোট-খাটোভাবে তো চলেছে। একমাসে সরকার গঠন করতে তো সময় লেগেছে। দলের লোক বেশিরভাগই সরকারে চলে গেছেন। সেই জায়গায় গুলোতে সময় লাগবে। এটা বিচ্ছিন্ন ব্যাপার না। এটা আলাদা করে দেখা যাবে না। সরকার তার কাজ করবে, দল তার কাজ করবে।
চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা, জাতীয় সংসদের কার্যক্রম, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সরকারের সফলতা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভিসি নিয়োগ, অর্থনৈতিক অবস্থাসহ বিভিন্ন প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দেন বিএনপি মহাসচিব।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবার পরে গুলশানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এই অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
‘এক মাসে সরকারে বিগ সাকসেস’
তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, প্রায় এক মাস স্রেফ এক মাসের মধ্যে তো সবচেয়ে বড় সাকসেস হচ্ছে যে, কমিটমেন্টগুলো আমরা করেছিলাম আমাদের নির্বাচনের পূর্বে তা বাস্তবায়ন করতে শুরু করতে পেরেছি। তার মধ্যে ছিল, আমাদের ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রজেক্ট আমরা শুরু করে দিয়েছি।
এরপর কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফসহ সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মগুরুদের মাসিক ভাতা প্রদান শুরু করতে পেরেছি। আগামী পহেলা বৈশাখে হতে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে… সব মিলিয়ে ‘দিস ইজ ভেরি বিগ এচিভমেন্টস’ বলে তিনি উল্লেখ করে।
তিনি বলেন, এটা ছোটখাটো কোন ব্যাপার না। নতুন একটা সরকারের ৩০ দিনের মধ্যে এই কাজগুলোকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং শুধু কমিটমেন্ট না বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এটা বড় সাফল্য।
তিনি আরও বলেন, তবে এটাও ঠিক, বড় রকমের একটা ঝামেলাও এসেছে। বিএনপির গভমেন্ট যখনই আসে তখনই একটা করে ঝামেলা আসে এর আগেও দেখা গেছে। এবার এসছে ইরান যুদ্ধ। এই যুদ্ধের ফলে যে তেলের দাম বেড়ে গিয়ে বড় রকমের সমস্যা তৈরি হয়েছে। আল্লাহর রহম এখন পর্যন্ত কিন্তু খুব বলা যেতে পারে যে, যোগ্যতার সঙ্গে এই জিনিসগুলোকে মোকাবেলা করা গেছে।
মন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হচ্ছে যে, তেলের দাম এখনো বাড়েনি। তেল নিয়ে কোনরকম বড় রকমের কোন স্ক্যান্ডাল তৈরি হয়নি। এবার গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোতে বেতন না দেওয়ার ঝামেলা নিয়ে যেসব ঝামেলা হয় সে সমস্ত ঝামেলা কিন্তু এবারে হয়নি। কারণ আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল সবগুলোতে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংসদ শুরু হয়ে গেছে। সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়েছে, বিভিন্ন কমিটি গঠন হয়েছে। পার্লামেন্টের কাজ শুরু করেছে। আমি মনে করি, দিজ আর গুড এচিভমেন্টস। ওভারঅল এক মাসে বিগ সাকসেস সরকারের।
‘ট্রেন লাইচ্যুত’
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটা সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাই। সান্তাহারে একটা ট্রেন এক্সিডেন্ট হয়েছে, যাতে করে অনেকে আহত হয়েছেন। ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক করতে বোধহয় কয়েক ঘণ্টা লাগবে। খুব দ্রুতই এটাকে সামলে উঠতে পারবে।
‘অর্থনীতি সুস্থ করা বিএনপি বড় চ্যালেঞ্জ’
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতিকে একেবারে সুস্থ করে ফেলা এবং অর্থনীতিকে সঠিক রাস্তায় নিয়ে আসা। এটা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আপনারা জানেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর চেঞ্জ হয়েছে এবং যার ফলে যে নীতি ফলো করা হচ্ছিল সেটাকে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা ঋণ পেতে শুরু করেছেন, ইকোনমিক অক্টিভিটিজগুলো বাড়তে শুরু করেছে…এটা একটা বড় পরিবর্তন বলে আমি মনে করি। যখনই আপনার ছোট ব্যবসায়ীরা কাজ করতে পারবে, তারা ব্যবসাবাণিজ্য করতে পারবে এবং সাধারণ মানুষ যখন কিনতে পারবে- তাদের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে তখন ইকোনমিক অক্টিভিটি বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এডভান্টেজ হচ্ছে বাংলাদেশের জনসংখ্যা, এই জনসংখ্যা ইকোনমিকে বাড়িয়ে দেয়। একটা উদাহরণ দিচ্ছি যে, এক টাকা করে খরচ করলে প্রতি প্রতিদিন আপনার প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ হবে। এ ধরনের অর্থনীতি দিন দিন প্রসারিত হবে। যদি সুশাসন ঠিক থাকলে অবশ্যই অর্থনীতি গতি পাবে।
দলীয় লোকজনকে ভিসি নিয়োগে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, দেখেন সমালোচনা তো থাকবেই। এখন পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট তার নিজস্ব পলিটিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়োগগুলো হবে….এটা তো এমন না যে মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত ফেরেশতা নিয়ে আনা হবে।
তিনি বলেন, দ্য বেস্ট পসিবল যাদেরকে মনে হয়েছে, তাকে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু দলীয় সরকার দলীয় সরকার কিছুটা দলীয় লোক তো থাকবেই…, এটাকে আপনার সমালোচনা হতে পারে… আমরা সমালোচনা হবে না তা বলছি না। কিন্তু এটা নিয়ে আমরা খুব একটা উদ্বিগ্ন নই।
‘বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অবস্থাটাকে কিভাবে দেখছেন’ জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনি ধরেন যে আমাদের একটা বড় চ্যালেঞ্জ যেটা সেটা হচ্ছে যে, পতিত ফ্যাসিস্ট যারা তারা কিন্তু আপনার চুপ করে বসে নেই। বাইরে থেকে তারা বিভিন্ন রকম কথা বলছে এবং অর্গানাইজ করার চেষ্টা করছে… এটা গেল একটা সাইট। কিন্তু এটাকে মোকাবেলা করা সম্ভব হচ্ছে।
‘দ্বিতীয়ত আছে যে, আমাদের পার্লামেন্টে যারা এখন আমাদের বিরোধী দল আছেন তারাও তাদের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলছেন… তো তারা কথা বলবেন। এগুলোকে আপনার সহনশীলতার মধ্যে আনতে হবে। আমি যেটা বিশ্বাস করি যে, ডেমোক্রেসি যখনই প্রপারলি ফাংশন করবে যখন আপনি সেটাকে টলারেন্সের মধ্যে আনবেন, সহনশীলতার মধ্যে আনবেন। বিরোধীদলতো কথা বলবেই।
‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রসঙ্গে’
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা কিন্তু জুলাই সদনের ব্যাপারে শতভাগ কমিটেড। বাট কোনগুলো? যেগুলো আমরা সই করেছি এই কথাটা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই। আমরা যেগুলোতে একমত হয়েছি সেই বিষয়গুলোতে আমরা কমিটেড। সেই কমিটমেন্ট আমরা থেকে এতটুকু নড়ব না। আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যেটা আপনার কোন শর্ত… এটা তো মেনে নেওয়াটা আমাদের জন্য নিশ্চয়ই আপনার সবসময় সম্ভব না হতে পারে। তবে সেটা আমরা আলোচনা করেছি।
তিনি বলেন, আপনি দেখবেন যে পার্লামেন্টে আমরা কি বলেছি? পার্লামেন্টে খুব পরিষ্কার করে বলেছি যে আপনারা যে নোটিস দিয়ে আনুন, বিষয়টাকে পার্লামেন্টে আনুন পার্লামেন্টে আমরা আলোচনা করি। সে আলোচনার ভিত্তিতে দরকার হলে আমরা বিষয়গুলো নিয়ে একটা জায়গায় পৌঁছে দিতে পারব।
তিনি আরও বলেন, পার্লামেন্ট আলোচনার আগেই থেকে রাস্তার হুমকি দিতে থাকে তাহলে সেটা যে কারণে আমরা পার্লামেন্ট তৈরি করলাম সেটাকে কাজ করার অতটা সঠিক বলে আমি মনে করি না। স্টিল টাইম। অনেক সময় আছে, এটা নিয়ে উদ্বেগের কোন কারণ নেই পার্লামেন্ট সবে শুরু হলো। এখন আপনারা বিভিন্ন ইসু নিয়ে কথা হবে, ডিবেট হবে, ওয়াকউট হবে বেরিয়ে যাবে এটাই তো পার্লামেন্টের বিউটি।
মির্জা ফখরুল বলেন, পার্লামেন্টে যদি তর্ক বিতর্ক না হয়, পার্লামেন্ট যদি ওয়াকআউট না হয় তাহলে পার্লামেন্ট বুঝা যাবে যে এটা আপনি ইফেক্টিভ পার্লামেন্ট না । একতরফা একদল থাকল… তারা তাদের মত করে বক্তব্য দিয়ে চলে গেল এবং তাদের গুণগান গাইল শুধু নেতানেত্রীদের। তাতে করে পার্লামেন্টকে আপনি ইফেক্টিভ করতে পারবেন না।
পার্লামেন্ট তখনই ইফেক্টিভ হবে যখন আপনার সে তর্ক হবে, বিতর্ক হবে ওয়াকআউট হবে, উত্তেজনা থাকবে, উত্তেজনা প্রশমিত হবে.. দিজ ইজ পার্লামেন্ট,দিস ইজ বিউটি।
‘দেশে মব কালচার নেই’
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমনে সরকার তার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ইতিমধ্যে দেখেন মব কালচারের ব্যাপারটা একেবারে নেই বলেই চলে এই এক মাসে। বড় কোন ঘটনাই ঘটেনি। অলরেডি দুর্নীতি দমন কমিশন রিজাইন করেছে। নতুন দুর্নীতি দমন কমিশন আসবে। বিভিন্ন জায়গায় যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদেরকে থ্রেট করা হয়েছে, বলা হয়েছে যে জিরো টলারেন্স… এই ব্যাপারে কোন রকম আপস আমরা করব না। সুতরাং বিগিনিং…. শুরু। এরপরে দেখবেন যে দুর্নীতি কত কমে আসছে।
দলীয় লোক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বসানো বিষয়ে সরকারে এই মন্ত্রী বলেন, দলীয় লোকগুলো আসবে। আমাদের আমাদের ট্র্যাক রেকর্ড তো অতটা খারাপ না, আমাদের ট্র্যাক রেকর্ড ভালোই আছে। ইউনিভার্সিটি ভাইস চ্যান্সেল যারা পরীক্ষিত লোক, তারা একাডেমিকালি অত্যন্ত যোগ্য, প্রশাসনিক দিক দিয়ে যোগ্য… কোনদিক থেকে আমি তো অসুবিধা দেখি না।
অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপি পূর্ব থেকে হোমওয়ার্ক করা হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এগুলোর হোমওয়ার্ক আগেই করেছি …নট দ্যাট যে আমরা এটাকে একটা পপুলিস্ট একটা স্লোগান দিয়ে নেমে গেছি। কোথা থেকে টাকা আসবে, কিভাবে আসবে, তার ফান্ড কিভাবে, আপনার সঞ্চয় কিভাবে করা হবে, আপনার রেভিনিউ কিভাবে আসবে …এ সমস্ত হোমওয়ার্ক করা হয়েছে। হোমওয়ার্ক করেই আমরা নেমেছি এবং আমরা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে, আমাদের প্রজেক্টগুলো করতে আমাদের কোন রকমের কোন আর্থিক সমস্যার মুখে পড়ব না।
‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন এই বছরেই’ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দেওয়া। আমরা সেই আলোচনা করছি আমাদের সিদ্ধান্ত হলেই আমরা জানিয়ে দেব। এ বছর তো বটেই, নিঃসন্দেহে এই বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তবে এই মুহূর্তে আপনাকে সময় নির্দিষ্ট করে বলতে পারবো না। কিন্তু এই বছরেই হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব হবে।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা ধবংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠাগুলোতে তৈরি করতে চাই… এটা আমাদের প্রধান কাজ। সেজন্য আপনি দেখবেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। দেখবেন যে, এমন এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে তারা যোগ্য মানুষ, অত্যন্ত সৎ মানুষ।
‘যেমন আমার মন্ত্রণালয়ের সচিব… উনি হচ্ছেন অনেক আগে রিটায়ার করা একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ার এলজির…তাকে দেওয়া হয়েছে আপনার এলজিডি মিনিস্ট্রির সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। একইভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে এই ধরনের মানুষকে সামনে আনা হবে’, যোগ করেন তিনি।
এলজিইডি মন্ত্রণালয় অতীতে পারসেন্টেইজের মন্ত্রণালয় বলা হতো, এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন এ ধরনের কোনো ঘটনা এই মন্ত্রণালয়ে শুনতে পারবেন না।
‘বিএনপির বঞ্চিতরা’
মির্জা ফখরুল বলেন, দেখুন কেউ দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি। আমরা সবাইকেই হয় আপনার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে, সরকারের সঙ্গে, জনগণের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত করব… এ ব্যাপারে আপনারা নিশ্চিত থাকেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যাকে করা হয়েছে যেটা একাডেমিক ক্যারিয়ারটা দেখেছেন আপনি অল অলওভার ফার্স্ট ক্লাস। উনার যোগ্যতা আছে, পিএইচডি করেছে ভালো ইউনিভার্সিটিতে বলেই তাকে ভিসি করা হয়েছে। এর আগে তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন। আওয়ামী লীগ আমল থার্ড ক্লাস পাওয়া লোককে ভিসি নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।
‘বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কেমন দেখছেন’ প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি তিনজনকে দেখেছি। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে প্রেসিডেন্ট দেখেছি নট এজ এ মিনিস্টার, বাট এজ প্রাইভেট সেক্রেটারি টু ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার। এরপর আমি দেখেছি, আপনার বেগম খালেদা জিয়াকে তার মন্ত্রী হয়ে। আর এখন দেখছি, আবার আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে তার ক্যাবিনেটের মন্ত্রী হিসেবে।
এই তিনজনের ভিতরে কাকে ডাইনামিক মনে হয় আপনার, এ প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রত্যেকটি মানুষ প্রত্যেকটা নেতা তার নিজের নিজের সকীয়তায় উজ্জ্বল। আপনার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য প্রত্যেকের আছে। প্রেসিডেন্ট জিয়া রহমান সাহেব ছিলেন একজন তার একটা ভিন্ন আপনার এপিল ছিল জনগণের কাছে, মানুষের কাছে, বেগম খালেদা জিয়ার ছিল আরেক রকম।
আরও পড়ুন: ঈদ স্মৃতি: বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের গল্পে হারানো রেওয়াজ ফেরানোর স্বপ্ন ও বাস্তবতা
তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান যিনি প্রধানমন্ত্রী একেবারে নতুন। কিন্তু তার যে গতি দেখছি আমি… সেই গতিটা আমি অত্যন্ত আশাবাদী। আমি দেখছি যে তিনি ছুটছেন। তিনি এই এক মাসের মধ্যে তিনি প্রচন্ড রকমের একটা বলা যায় যে তার ভেতরে একটা আর্চ কাজ করছে, তার ভেতরে একটা কাজ করার একটা স্প্রিহা কাজ করছে, তার ভেতরে একটা কিছু কাজ যেটাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে যে কাজ করতে হবে, জনগণের জন্য কাজ করতে হবে…, এ বিষয়গুলো কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং আপনি কারো সঙ্গে কারো তুলনা করা যাবেই না।
বর্তমান মন্ত্রিসভাকে ‘ভার্সেটাইল ক্যাবিনট’ অভিহিত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, এটা নবীব ও প্রবীনের একটা মন্ত্রিসভা বলে মনে হয়। ‘আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে’ মির্জা ফখরুল বলেন, এরা হঠাৎ হঠাৎ করে বেরিয়ে আসে…এগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। তারপরেও আপনি পলিটিক্সটাকে চলতে দেন। আমি যেটা মনে করি, লেট পলিটিক্স মুভ ইজ ওনওয়ে, লেট ডেমোক্রেসি মুভ ইন ওনওয়ে…।
তিনি বলেন, এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে কোনও কিছুকে দেখে, রাজনীতিকে বন্ধ করে আপনার গণতন্ত্রকে আটকে দিয়ে, পথ বন্ধ করে দিয়ে তাহলে হবে কি আপনার এটা ডিফর্মড একটা হবে। ইট মুভ ওয়ার্ক কাজ করুক না। আওয়ামী লীগ এখন যেহেতু তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে, বন্ধ আছে বন্ধ থাকবে। বাকিরা যারা আছে তারা কাজ করবে করছো।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ চেষ্টা করবেই তারা কিছু কিছু কাজ করতে করছে। কিন্তু পিপল তাদেরকে রিজেক্ট করেছে, পিপল রিজেক্ট করে দিয়েছে একদম… তাই না।
‘আমাদের ঘোষিত নীতি সবার সাথে বন্ধুত্ব’ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, সবাই আমাদের বন্ধু। আমরা কোনো পক্ষে-বিপক্ষে নই। আমরা ছোট দেশ। আমরা আমাদের মতো করে আমাদের স্বার্থকে রক্ষা করে সেইভাবে আমরা এগুতে চাই। যেকোনো দেশই আমাদের বন্ধু।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনি নিশ্চয় দেখছেন, যা কিছু লিখছেন, সমালোচনা করছেন। বাধা কি হয়েছে? এখন পর্য়ন্ত সেই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি যে, বলতে পারেন আমরা নেগেটিভ কোনো কাজ করেছি। আমাদের তথ্যমন্ত্রী তো প্রত্যেকদিন বলতেছেন, আমাদের সমস্ত খোলা, আমরা সমস্ত ওয়েলকাম করব, কাউকে কারো চাপ সৃষ্টি করা হবে না।
তিনি বলেন, ওইটাই আমাদের নীতি প্রথম থেকে। আপনারা নিরপেক্ষভাবে দেখবেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় এসেছে সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেছে কিন্তু মিডিয়ার এটা অস্বীকার কোনো উপায় নেই।