ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি এমপি আব্দুস সালাম (সামনের সারিতে বাম থেকে তৃতীয়) © টিডিসি সম্পাদিত
আওয়ামীপন্থী পেশাজীবীদের নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিপিএ) ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। রবিবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর আসাদগেট এলাকার ফ্যামিলি ওয়ার্ল্ড টাওয়ারে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগ, বিএনপিপন্থী আরেক পেশাজীবী সংগঠন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এম-ট্যাব) কয়েকজন নেতা তথ্য গোপন করে তাকে প্রধান অতিথি করে নিয়ে গেছেন। ইফতার মাহফিলে তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ ২০২৩ সালে বিডিপিএর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গাজী সাইফুল ইসলাম সভাপতি এবং মো. জহিরুল ইসলাম মহাসচিব নির্বাচিত হন। তারা আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত। সে সময়ে বিএনপিপন্থী ফার্মাসিস্টরা ছিলেন কোণঠাসা।
রবিবারের ইফতার মাহফিলে এম-ট্যাবের সভাপতি একে মুসা লিটন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমটিএ) সভাপতি খাজা মাইনুদ্দিন মুঞ্জু, মহাসচিব বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব দবির উদ্দিন তুষারসহ আরও কয়েকজন নেতা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মরত বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তথ্য গোপন করে তারা এমপি আব্দুস সালামকে বিডিপিএর আওয়ামীপন্থী ফার্মাসিস্টদের নেতৃত্বাধীন কমিটির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিএনপিপন্থী একজন কর্মকর্তা বলেন, আওয়ামী লীগের রাতের ভোটের মেয়াদে বিএনপিপন্থী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে এই কমিটি গঠিত হয়। কমিটি শপথ নেয় শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। অথচ সেই কমিটির ইফতার মাহফিলে তথ্য গোপন করে বিএনপির একজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে গেছেন তারা। এই কর্মকর্তা বলেন, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সরকারি চাকরির অফিস ফাঁকি দিয়ে ডিজি অফিসে (স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে) বদলি বাণিজ্য করে বেড়ানো এম-ট্যাবের এই নেতারা প্রকাশ্যে ফ্যাসিস্টদের সঙ্গী হয়েছেন। সেই সাথে ফ্যাসিস্টদের প্রতিষ্ঠিত করতে আওয়ামী লীগ আমলে জোর করে ভোট ডাকাতি করে কমিটি গঠন করা গাজী-জহির- আলমগীর পরিষদের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন করে দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, খাজা মাইনুদ্দিন মুঞ্জু, বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব ও দবির উদ্দিন তুষারের নামে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহবায়ক আনিসুর রহমানের বদলি ঠেকাতে ১৫ লক্ষ টাকা এবং আওয়ামীপন্থী পেশাজীবী সংগঠন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদের মহাসচিব আশিকুর রহমানকে ৫ লক্ষ টাকা, স্বাধীনতা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদের জয়েন্ট সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়াকে ৩ লক্ষ টাকা এবং ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীরকে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দবির উদ্দিন তুষাররা ঢাকায় স্থায়ী করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছুদিন আগে ধারদেনা করে সংসার চালানো তৃতীয় শ্রেণীর এসব চাকরিজীবীর হঠাৎ করে ২০ লক্ষ টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়ানো দেখে অনেকেই বিস্মিত। দলীয় ক্ষমতা এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিলের নাম ভাঙিয়েও বিভিন্ন অপকর্ম করে চলেছে এই চক্রটি। এছাড়া সকল নিয়ম ভেঙে ডেন্টাল, রেডিওলজি এবং ফিজিওথেরাপি থেকেও ল্যাবের পদে নাম দিয়ে হজ্জ মেডিকেল টিমে পছন্দের লোককে অন্তর্ভুক্ত করেছে তারা।
এদিকে বিভিন্ন সময়ে এসব খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি হজ্জ মন্ত্রণালয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলামের সাথে যোগসাজশে এই দুর্নীতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে এম-ট্যাবের মহাসচিব বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব দবির উদ্দিন তুষারের মুঠোফোনে কল দিলে তাদের পাওয়া যায়নি। এম-ট্যাবের সভাপতি একে মুসা লিটন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিডিপিএ একটি মাদার সংগঠন। এখানে বিএনপি-আওয়ামী লীগ কিছু নাই। মাদার সংগঠন অনুষ্ঠান করেছে। আওয়ামীপন্থী বিষয়টি গুজব।