হামলায় আহত ড্যাব-এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. বশির আহাম্মদ খান © টিডিসি ফটো
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. বশির আহাম্মদ খানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের কালিপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সহকারী অধ্যাপক ডা. বশির আহাম্মদ খান ছেংগারচর পৌরসভার ঘনিয়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা এবং রাজধানীর ঢাকা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে কর্মরত। প্রায় তিন বছর আগে কালিপুর গ্রামের ইমরুল কায়েসের বোন শারমিন আক্তার অসুস্থ হয়ে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহতের পরিবার ওই মৃত্যুর জন্য ভুল চিকিৎসাকে দায়ী করে আসছিল।
অভিযোগ উঠেছে ডা. বশির আহাম্মদ খান শনিবার ঢাকায় যাওয়ার পথে কালিপুর বাজারে পৌঁছালে ইমরুল কায়েস তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় তাকে লোহার বাটখারা দিয়ে আঘাত করা হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইকবাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে মতলব উত্তর থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক জিতু নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ডা. বশির আহাম্মদ খানের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত। একজন জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক কর্মী ও চিকিৎসকের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অবিলম্বে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, কালিপুর বাজারে চিকিৎসক ডা. বশির আহাম্মদ খানের ওপর হামলার ঘটনাটি আমরা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইকবাল হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী বা পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।