মসজিদে ইফতারকালে শিশুকে চড়, প্রতিবাদ করায় যুবদল নেতার নেতৃত্বে হামলা-লুটপাট-শ্লীলতাহানি © টিডিসি সম্পাদিত
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মসজিদে ইফতার বিতরণকালে শিশুকে চড় মারার প্রতিবাদ করায় যুবদল নেতার নেতৃত্বে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, শ্লীলতাহানি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় নারীসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে এক বৃদ্ধের (৮০) অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল রবিবার (১৬ মার্চ) উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের এ ঘটনায় সোমবার (১৬ মার্চ) মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার শুরু মিরপুর বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদে ইফতার বিতরণ নিয়ে। মিরপুর গ্রামের রুহুল আমিন ফকিরের ১৩ বছর বয়সী নাতি রুমানকে তুচ্ছ কারণে চড় মারেন একই গ্রামের মো. ওয়ারেছ পহলান। এর প্রতিবাদ করায় রুমানের দাদা রুহুল আমিন ও বৃদ্ধ প্রপিতামহ হায়দার আলী ফকিরের ওপর ক্ষিপ্ত হন ওয়ারেছ পহলান এবং তার ছেলেরা। মসজিদ কমিটি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করেন এবং বৃদ্ধ হায়দার আলীসহ অন্যদের ইফতার না করেই মসজিদ থেকে বের করে দেন।
পরে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ওয়ারেছ পহলান, তার ছেলে রুবেল, সোহেল, আলাউদ্দিন এবং জাকির পহলান ও তার ছেলে মিরাজসহ ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রুহুল আমিন ফকিরের বাড়িতে হামলা চালায়।
স্থানীয়রা বলছেন, হামলাকারীরা রুহুল আমিনকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে এবং তার বৃদ্ধ পিতা হায়দার আলী ফকিরকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। বাধা দিতে গেলে রুহুল আমিনের স্ত্রী ময়না বেগমকে শ্লীলতাহানি এবং তার মা কমেলা বেগম, পুত্রবধূ রিয়া ও সেলিনাকে মারধর করা হয়। মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক মীর তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ও দরজা-জানালা ভাঙচুর করে ট্রাংক থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও পরে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তবে ৮০ বছর বয়সী হায়দার আলী ফকিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আহত রুহুল আমিন ফকির বলেন, জাকির হোসেনের নেতৃত্বে আমার বাবাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে এবং আমার স্ত্রীকে ও পুত্রবধূদের টেনে-হিঁচড়ে শ্লীলতাহানি করে কানের ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও এলোপাতাড়ি পেটানো হয়।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. আবুবকর সিদ্দিক মীর বলেন, আমরা শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলাম, হামলাকারীরা আমাদের কোনো কথা শোনেনি। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মহিপুর থানা যুবদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মোল্লা বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাব্বত খান জানান, এ ঘটনায় একটি এজাহার পেয়েছি। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।