বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি : অলি আহমদ

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৯ PM
চট্টগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন অলি আহমদ

চট্টগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন অলি আহমদ © টিডিসি

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ একটি রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। দলটি ক্ষমতায় গেলে উন্নয়নের পরিবর্তে চাঁদাবাজি, টেন্ডার লুট, বন্দর দখল ও ব্যাংক লুটের সংস্কৃতি আবারও প্রতিষ্ঠিত হবে।’

আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ড. অলি আহমদ বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় দলটির ভেতরের বাস্তবতা কাছ থেকে দেখেছেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি রাজনৈতিক সক্ষমতা হারিয়েছে। দলটি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে নেতৃত্ব সংকট ও নৈতিক অবক্ষয় স্পষ্ট।’

বিএনপির সম্ভাব্য শাসনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে তারা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে না। চট্টগ্রাম বন্দর দখল, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট ও ব্যাংক খালি করার রাজনীতি আবার শুরু হবে, এটাই তাদের অতীত অভিজ্ঞতা।’

১১ দলীয় জোটকে নিয়ে চলমান অপপ্রচারের সমালোচনা করে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচার করছে এই জোট ক্ষমতায় গেলে নারীদের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে। তিনি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, কারও ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার প্রশ্নই ওঠে না। বরং যারা নিজের ধর্মীয় দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে না, তারাই অন্যের ধর্মে হস্তক্ষেপ করে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. অলি আহমদ বলেন, ‘১২ তারিখ পর্যন্ত যা করার আছে, করে নিন। ভোটের দিন জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবে এবং ব্যালট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে লুটপাটের রাজনীতির ইতি টানবে। 

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, আনোয়ারা শিল্প ও ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হলেও পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়নি। কারখানা থাকলেও স্থানীয় শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান হয়নি, নারীদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জুবায়েরুল আলম মানিক বলেন, ‘যারা সংস্কারের প্রশ্ন এড়িয়ে ভোটের রাজনীতি করছে, জনগণ তাদেরও প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি বলেন, যেভাবে অতীতে জনগণ শাসকগোষ্ঠীকে লাল কার্ড দেখিয়েছে, এবারও তেমন জবাব দেওয়া হবে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মাওলানা ইসমাঈল হক্কানী। যৌথ সঞ্চালনায় ছিলেন আনোয়ারা উপজেলা ও কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবুল হাসান খোকা ও নুরউদ্দীন জাহাঙ্গীর।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, নেজামে ইসলাম বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মাওলানা জিয়াউল হুসেইন জিয়া, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমীর হাফেজ মাহবুবুর রহমান হানিফসহ ১১ দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত যুবক 
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তড়িঘড়ি করে প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন অনুমোদনে উদ্বেগ শিক্ষা অধি…
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এনটিআরসিএ’র ই-রেজিস্ট্রেশন শুরু ৯ ফেব্রুয়ারি
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও জীবনের সাফল্য গড়ে…
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জিয়াউর রহমানের মত একই ভুল করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান: আসিফ
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর যে দুই আসনকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ বলছে সেনাবাহিনী
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬