উঠানে দাদি, সরিষা ক্ষেতে নাতনি: পাবনায় জোড়া হত্যার রহস্য কী?

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৩ PM , আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:০০ PM
উঠানে দাদি, সরিষা ক্ষেতে নাতনি: পাবনায় জোড়া হত্যার রহস্য কী?

উঠানে দাদি, সরিষা ক্ষেতে নাতনি: পাবনায় জোড়া হত্যার রহস্য কী? © টিডিসি ফটো

নরসিংদীতে বাবা-মেয়ে হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদিকে হত্যার পর নাতনিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের পর তাকে কুপিয়ে হত্যা করে বিবস্ত্র নিহর দেহ ফেলে রাখা হয় সরিষা ক্ষেতে।

আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে বাড়ির উঠান থেকে দাদি সুফিয়া বেগম (৬৫) মরদেহ দেখার পর খোঁজাখুঁজি করে সরিষা ক্ষেত থেকে নাতনি জামিলার (১৫) মরদেহ আবিষ্কার করে স্থানীয়রা। পুলিশ ও স্থানীয়দের দাবি দাদিকে হত্যার পর নাতনি জামিলাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর ১৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও খুলেনি রহস্যের জট। কারা, কি কারণে তাদের হত্যা করেছে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য। পুলিশও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। তাদের বক্তব্য, তদন্ত চলছে। জড়িতদের খুঁজে বের করতে কাজ করছেন তারা।

নিহতদের স্বজন, প্রতিবেশী, এলাকাবাসী কেউ বলতে পারছে না, হত্যার কারণ। সবার একই কথা, তাদের সাথে কারো কোনো শত্রুতা বা বিরোধ কখনও দেখা যায়নি বা শোনা যায়নি। কে করতে পারে এমন কাজ-বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই। জামিলার সাথে কারো কোনো সম্পর্ক ছিল কি-না বা তাকে কোনো বখাটে উৎপাত করত- এমন অভিযোগও জানা নেই তাদের।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমের স্বামী নজিমুদ্দিন ৭ বছর আগে মারা যাওয়ার পর নাতনি জামিলা আক্তারকে নিয়ে সে বাড়িতেই থাকতেন তিনি। সুফিয়ার এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে জামিলা সুফিয়ার ছেলের ঘরের। আনুমানিক ৫-৬ বছর বয়স থেকেই জামিলা তার দাদির সঙ্গী হয়েছেন। তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট সে। বড় দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন দাদি সুফিয়া বেগম ও তার নাতনি জামিলা। মধ্যরাতের পর হঠাৎ তাদের বাড়ি থেকে কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে রাস্তায় বের হয় প্রতিবেশীরা৷ কিন্তু ভয়ে কেউ এগিয়ে যেতে সাহস পায়নি। পরে কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে যে যার বাড়িতে চলে যায়। সকালে বাড়ির প্রবেশমেুখে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। আর নাতনি জামিলাকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে সরিষার ক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় জামিলা মরদেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী।

শনিবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় সেখানে এলাকাবাসীসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের ভীড় জমে। স্বজনদের আহাজারীতে ভারী হয়ে উঠে গ্রামের বাতাস। এমন ঘটনায় স্তম্ভিত পুরো গ্রামবাসী। কেউ বুঝতে পারছে না কি কারণে, কারা এমন নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে।

তবে পুলিশ ও স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা, মধ্যরাতের পর কয়েকজন দূর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে জামিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। দাদি বাধা দেয়ায় প্রথমে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে তার নাতনি জামিলাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর কুপিয়ে হত্যা করে বাড়ির পেছনে সরিষা ক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

প্রতিবেশী নাসিমা খাতুন জানান, নিহত বৃদ্ধা সুফিয়ার সাথে গ্রামের কারো কোনো বিরোধ ছিল না। তার নাতনি জামিলা কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী ও হাফেজ ছিল। গ্রামের গৃহবধূদের নিয়ে তারাবি নামাজ পড়তো। যারাই এ ঘটনায় জড়িত তাদের ফাঁসি হওয়া দরকার।

নিহত সুফিয়া বেগমের বোন কুরসী খাতুন বলেন, সকালে খবর পেয়ে এসে দেখি আমার বোনের মরদেহ গেটের সামনে পড়ে আছে। আর নাতনির মরদেহ টেনে হিঁচড়ে বাড়ির পেছেনে বেশ খানিক দূরে সরিষা ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রাখছে। মেয়েটার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। কারা যে এমন সর্বনাশ করলো তাদের বিচার চাই। মৃত্যুর বদলে মৃত্যু চাই।

জামিলার বড় বোন মিনু খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, খবর পেয়ে এসে দেখি আমার দাদির মরদেহ উঠানে পড়ে আছে। আর আমার বোনের মরদেহ মাঠের মধ্যে পড়ে আছে। আমার দাদি বা বোনের কোনো শত্রু ছিল না। তারা তো কারো অন্যায় করেনি। কারা এত শত্রুতা করলো কিছুই বুঝতে পারছি না।

এদিকে, খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে পুলিশ। দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় সিআইডির একটি টিম। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে জামিলাকে ধর্ষণের পর হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্য মতে, জামিলাকে ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে এসেছিল দুর্বৃত্তরা। দাদি বাধা দেয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, নিঃসন্দেহে এটি জঘন্যতম ঘটনা। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনা তদন্ত করছি। পুলিশের বিভিন্ন উইং বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত নিয়ে কাজ করছে। কি কারণে হত্যাকান্ড, কারা জড়িত সেটি এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে খুব শিগগরি হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

নির্মাণের পর একযুগেও চালু হয়নি বাহুবল ট্রমা সেন্টার, মালামা…
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
পাবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সেবায় ছাত্রদলের নানা উদ্য…
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
মাই গড! মাননীয় সদস্য আরও মনোযোগী হবেন
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের যে নির্দেশনা দিলেন শিক্ষা…
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
নেত্রকোনায় গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
গোবিপ্রবিতে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সদস্য সচিবের পিএইচডি…
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
close