আত্মহত্যার ৫ ঘণ্টা আগে দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে যা লিখেছিলেন জাহের আলভীর স্ত্রী

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৭ PM , আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪২ PM
অভিনেতা জাহের আলভীর সঙ্গে তার স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরা

অভিনেতা জাহের আলভীর সঙ্গে তার স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরা © ফাইল ছবি

ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরা মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছেন, ইকরা আত্মহত্যা করেছেন।

আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সময় জাহের আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। তার আত্মহত্যার খবরে শোকের ছায়া নেমেছে শোবিজ অঙ্গনে।

এদিকে, ইকরার মৃত্যুর মাত্র পাঁচ ঘণ্টা আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন ইকরা। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেছিলেন তিনি। ওই পোস্টে তিনি তার বোনের বোনের মাতৃত্বযাত্রার এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন। 

পাঠকদের জন্য নিচে ইভনাথ খান ইকরা সেই পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল-

আমার বোনের মাতৃত্বযাত্রার এক তিক্ত অভিজ্ঞতা, অক্টোবর ২০২৪, শুনুন তার মুখ থেকেই 

২০২৪ সালের ১৩ই অক্টোবর—দিনটি আমার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে। সেদিন ৩২ সপ্তাহে হঠাৎ আমার ওয়াটার ব্রেক হয়। দ্রুত আমি লালমাটিয়ায় অবস্থিত মাদার কেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হই, যেখানে পুরো প্রেগন্যান্সি জুড়ে আমি ডা. সেলিনা খানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়ে আসছিলাম।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তারা আমাকে পরীক্ষা করে দ্রুত ভর্তি করে নেয়। কিন্তু তখন জানতে পারি, ডা. সেলিনা খান জরুরি একটি অপারেশনের কারণে দুই থেকে তিন দিনের ছুটিতে আছেন। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আমাকে জানানো হয় যে ওয়াটার ব্রেক হওয়ায় একটি আল্ট্রাসাউন্ড করা জরুরি।

কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো—সেই সময় হাসপাতালে কোনো আল্ট্রাসাউন্ড টেকনিশিয়ান উপস্থিত ছিলেন না। যিনি আল্ট্রাসাউন্ড করেন, তাকে ফোন করে ডাকা হয়। 

অনেক অনুরোধের পর তিনি হাসপাতালে আসার আগে আমার কাছ থেকে আগাম যাতায়াত ভাড়া দাবি করেন। একজন ভর্তি রোগী হিসেবে এই পরিস্থিতি আমার জন্য ছিল অত্যন্ত বিব্রতকর ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক। তবুও জরুরিতার কথা ভেবে অনুরোধ করে তাকে আসতে রাজি করাই। 

পরে আল্ট্রাসাউন্ড করে জানানো হয় যে ভেতরের পানি তখনও অক্ষত রয়েছে।

এরপর আমাকে দোতলায় একটি বেডে শুইয়ে রাখা হয়। স্যালাইন চলতে থাকে, এবং বলা হয় যতটা সম্ভব নড়াচড়া না করতে। ক্যাথেটার পরানো অবস্থায় আমি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে পড়ি।

১৪ ও ১৫ অক্টোবর—এই দুই দিন কোনো পুনরায় আল্ট্রাসাউন্ড বা স্পষ্ট মেডিকেল আপডেট আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার শারীরিক অবস্থা কী, আমাকে বাড়ি যেতে দেওয়া হবে কি না, নাকি ডেলিভারির প্রস্তুতি নিতে হবে—এসব বিষয়ে কোনো পরিষ্কার তথ্য পাইনি। অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন দুটি কেটেছে।

১৬ই অক্টোবর যা ঘটলো, তা ছিল আমার কল্পনার বাইরে। আমাকে দোতলা থেকে তিনজন স্টাফ কাঁধে ভর দিয়ে হুইলচেয়ারে করে নিচে নামান। এমনভাবে একজন সম্ভাব্য সিজারিয়ান রোগীকে স্থানান্তর করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও অস্বস্তিকর মনে হয়েছে আমার কাছে।

পরে আল্ট্রাসাউন্ড করে জানানো হয়—আমার শরীরে আর কোনো অ্যামনিয়োটিক ফ্লুইড নেই; জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশন করতে হবে। সেই সময় ডা. সেলিনা খান উপস্থিত ছিলেন।

আমরা জানতে চাই—হাসপাতালে কি এনআইসিইউ সুবিধা আছে? যদি নবজাতকের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন হয় তবে কী হবে? উত্তরে বলা হয়, এখানে এনআইসিইউ নেই; প্রয়োজনে পাশের হাসপাতালে নেওয়া হবে।

একজন মা হিসেবে আমার উদ্বেগ ছিল স্বাভাবিক—মা ও শিশু আলাদা হাসপাতালে থাকলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তখন আমাদের জানানো হয়, চাইলে আমরা অন্য হাসপাতালে চলে যেতে পারি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—যদি এমন গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এখানে না থাকে, তবে আমাকে আগেই কেন জানানো হয়নি? কেন দুই দিন ধরে আমাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা হলো? কেন একটি মা ও শিশু হাসপাতালে আল্ট্রাসাউন্ড সার্ভিস নিয়মিতভাবে উপস্থিত থাকবে না?

আরও উদ্বেগজনক বিষয় ছিল—এর আগে যখন এনআইসিইউ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম, তখন আমাকে বলা হয়েছিল, “কিছু হবে না, এনআইসিইউ লাগবে না।” চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় এমন আশ্বাস কি যথেষ্ট?

ডা. সেলিনা খান নিঃসন্দেহে একজন দক্ষ ও সুনামধন্য চিকিৎসক। তবে তিনি যখন উপস্থিত ছিলেন না, তখন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল রোগীর যথাযথ পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছ তথ্য প্রদান ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। সেই জায়গায় আমি অবহেলা ও সমন্বয়ের অভাব অনুভব করেছি।

এই দুই দিন যদি আমার বা আমার সন্তানের কোনো বড় ক্ষতি হতো—তাহলে দায়ভার কে নিত? এই পরিস্থিতির মধ্যে অবশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আমাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার।

সকালবেলা জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে আমাকে দ্রুত গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডা. সারোয়াত জাহান জুবায়রা ম্যাম এর তত্ত্বাবধানে আমাকে অত্যন্ত মানবিক ও পেশাদারভাবে গ্রহণ করা হয়।

প্রয়োজনীয় সব তথ্য নিয়ে দ্রুত ফর্ম পূরণ করে আমাকে ভর্তি করা হয়। মাত্র পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যেই ওটি প্রস্তুত ছিল।

ডা. জুবায়রা ম্যাম  জরুরি সিজারিয়ান ডেলিভারির মাধ্যমে আমাকে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের মা হওয়ার সৌভাগ্য দেন আলহামদুলিল্লাহ । সেই মুহূর্তের

দ্রুত সিদ্ধান্ত, দক্ষতা এবং মানবিক আচরণ আমার এবং আমার সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। আমি বিশ্বাস করি, তিনি যদি সেই সময় জরুরি সহায়তা না দিতেন, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

আমি ডা. জুবায়রা ম্যাম এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাঁর পেশাদারিত্ব, দ্রুততা এবং মানবিকতা আমার জীবনের এক সংকটময় মুহূর্তকে আশীর্বাদে পরিণত করেছে।

আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই—রোগী ব্যবস্থাপনা, জরুরি সেবা, তথ্য প্রদান এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ হোন। 

একজন মা যখন প্রসবের জন্য হাসপাতালে যান, তখন তিনি শুধু চিকিৎসা নয়—নিরাপত্তা, নিশ্চয়তা ও মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করেন।

আমার এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করার উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা নয়; বরং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মা এমন অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্টের মধ্যে না পড়েন—সেই সচেতনতা তৈরি করা।

মেঘমল্লার বসুর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে: এনপিএ
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কারিগরি শিক্ষক বদলির সফটওয়্যারের ‘মন্তব্য’ ঘরে দুই শতাধিক অ…
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিনামূল্যে সেবা নিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫০০ শিক্ষার্থী
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঝালকাঠিতে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কলারশিপ নিয়ে পড়ুন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে, মাসিক উপবৃত্ত…
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কনক্লেভে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্ব…
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9