থামছেনই না ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা, আর কত বহিষ্কার করবে বিএনপি?

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৪ PM , আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০৩ PM
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল © ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৮দিন বাকি থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘বিদ্রোহী’ বা ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে ‘ম্যানেজ’ করাতে পারেনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। যদিও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচনে নেমেছেন, এমন ৭১ জনসহ তাদের শত শত অনুসারী নেতাকর্মীদের প্রতিদিন বহিষ্কার করেও নির্বাচনী লড়াই থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীরা যার যার আসনে দল মনোনীত প্রার্থীদের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছেন বলে বিএনপির ভেতরে আলোচনা চলছে। 

কোনো কোনো এলাকায় দলের একাধিক নেতাও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দল থেকে বা নিজেদের দল বিলুপ্ত করে যেসব নেতা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন; তাদেরও অনেকে এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঝুঁকিতে ফেলেছেন। এসব নেতারা প্রকাশ্যেই এসব নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করছেন। বিদ্রোহীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন; যা দলীয় প্রার্থীর জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একইসঙ্গে ৫ আগস্টের আগে ও পরে বহিষ্কার হওয়া অনেক নেতাকে দলে ফেরানো নিয়েও চলছে আলোচনা।

দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যেসব নেতা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এমন অন্তত ৭১ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্তত ৭৫টি সংসদীয় আসনে দলটির নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৭৮টি আসনে বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দলটির নেতারা স্বতন্ত্র বা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। এসব বিদ্রোহীদের কারণে ভোটের মাঠে বাড়তি চাপে পড়েছেন বিএনপির ধানের শীষ বা সমঝোতা মাধ্যমে শরিক দল ও জোটের প্রার্থীরা। 

বিএনপির দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যেসব নেতা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এমন অন্তত ৭১ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্তত ৭৫টি সংসদীয় আসনে দলটির নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন। বিএনপির নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন নেতা বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিষ্ক্রিয় করার তৎপরতা বন্ধ করে দেয় বিএনপি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুর কবির রিজভী আহমেদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা নির্বাচন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব প্রার্থীর কারণে বিএনপির কোনো সমস্যা হবে না।

তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে যে বা যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করছে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, দলীয় প্রার্থীদের এতে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। স্থানীয়ভাবে দলের নেতাকর্মীরা এখন দলের মনোনীত কিংবা সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তারাই বরং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আশা করছি নির্বাচনে তারই প্রতিফলন ঘটবে। 

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশ কিছু নেতার সাথে আলোচনা করা হলেও তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি হননি বরং তারা দলীয় হাইকমান্ডকে জানিয়েছেন যে, জিতলেও তারা শেষ পর্যন্ত বিএনপির সাথেই থাকবেন।

পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরকে বিএনপি সমর্থন দিলেও সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হাসান মামুন। ওই নির্বাচনী আসনে (গলাচিপা-দশমিনা) দুইটি উপজেলার বিএনপির সব পর্যায়ের কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেও হাসান মামুনকে বিরত রাখতে পারেনি বিএনপি। গতকাল সোমবার নির্বাচনী প্রচার চলাকালে দুই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর সমর্থক ও কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১৫জন আহত হয়েছে। 

বিএনপি সমর্থিত ট্রাক প্রতীকের নুর এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসান মামুনকে দুবার ডেকে নিয়ে আলোচনা করেছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব কিন্তু তিনি কথা শোনেননি।

বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বিএনপিতে যোগ দেয়া রাশেদ খান। সেখানে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। ফিরোজ নির্বাচনী সমাবেশে বলেছেন, তিনি জয়ী হয়ে আসনটি ‘তারেক রহমানকে উপহার দেবেন’।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিস্কার হয়েছেন দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা। নির্বাচনী প্রচারে তিনি প্রকাশ্যেই বলছেন, বিএনপির শীর্ষ নেতারা তাকে থেকে ডেকে নিয়ে নির্বাচন না করতে বলেছিল। ওই আসনে বিএনপি সমঝোতার মাধ্যমে সমর্থিত প্রার্থী করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে তাদের বহিষ্কার করেছে বিএনপি। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন নিজের ‘বাংলাদেশ জাতীয় দল’ বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেয়া সৈয়দ এহসানুল হুদা।  

নাটোর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলের জেলা শাখার বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক দাউদার মাহমুদ। পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।

বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বিএনপিতে যোগ দেয়া রাশেদ খান। সেখানে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। ফিরোজ নির্বাচনী সমাবেশে বলেছেন, তিনি জয়ী হয়ে আসনটি ‘তারেক রহমানকে উপহার দেবেন’।

শেরপুর-১ বিএনপির সানসিলা জেব্রিন প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন দলের জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তাকেও বহিষ্কার করেছে বিএনপি। হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন দলটির জেলা শাখার বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সুজাত মিয়া। সুজাত আগে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

এর বাইরে নড়াইল বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল এবং চান্দিনা উপজেলা বিএনপি সভাপতি আতিকুল আলম শাওনসহ ৫৯ জনকে প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে গত ২১শে জানুয়ারি বহিষ্কার করা হয়েছিল।

রাজধানীর ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম বিলুপ্ত করে দলটির চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজকে বিএনপিতে নিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হলেও ঢাকা-১৩ আসনে এর আগে দলটির প্রার্থী ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এসব নেতার ও তাদের সমর্থকদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন ববি হাজ্জাজ। সেখানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক।

আরও পড়ুন: শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত

ঢাকা-১৫ আসনে সবসময় আলোচনায় থেকেও মনোনয়ন পাননি ওই আসনের স্থানীয় বাসিন্দা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসান। এখানে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে শফিকুল ইসলাম মিল্টনকে। মিল্টনের প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বির বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সক্রিয় করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপির প্রার্থীর জন্য।

এদের বাইরে নড়াইল বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির টানা দুইবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল এবং চান্দিনা উপজেলা বিএনপি সভাপতি আতিকুল আলম শাওনসহ প্রায় ৬০ জন নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে গত ২১শে জানুয়ারি বহিষ্কার করা হয়। 

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন; তাদের বিষয়ে বিএনপির সিদ্ধান্ত সম্পর্কে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা বারবার বলছি, পুরো দল এক হয়ে ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন। যারা এটি করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, দেখুন দেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। তার আগে ফ্যাসিবাদবিরোধী একটা আন্দোলন ছিল। দীর্ঘ সময় দেশের সাধারণ মানুষ যেমন ভোট দিতে পারেন নাই। একই সঙ্গে এটা সত্য, অনেক ত্যাগী সংগ্রামী রাজনীতিবিদ রয়েছেন, যারা কখনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। ফলে এতে দীর্ঘ সময় পরে যখন নির্বাচন হচ্ছে, বিএনপির মত একটা বড় রাজনৈতিক দল এখানে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু প্রতিটি আসনে তো একজনের বেশি মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয় না।

মাহদী বলেন, অনেক আসনে অনেক প্রার্থী রয়েছেন, অনেক ত্যাগী অনেক সংগ্রামী তারা। দলের জন্য অনেক ভূমিকা রয়েছে। কারো কারো ভেতরে অনুভূতি রয়েছে, উনি আসনটিতে মনোনয়ন পেতে পারতেন। প্রত্যাহারের সময় চলে গেছে। এখনও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি থেকে আলাপ-আলোচনা করা হচ্ছে, তারপরে যদি কেউ প্রার্থী থাকেন, অবশ্যই দল থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াও হয়েছে।

ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রাখবেন ম্যানচেস্টার সিটির…
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের রূপরেখা জানাল বিসিবি
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনের আগে পে-স্কেলের গেজেট দাবি, যা বলছে অর্থ মন্ত্রণা…
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আমরা কোনো পরিবার ও গোষ্ঠীতন্ত্র কায়েম করতে চাই না: জামায়াত …
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে একটি ‘গুপ্ত সংগঠন’: তারেক …
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কুষ্টিয়ায় ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ…
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬