আরিফুল ইসলাম © সংগৃহীত
ঢাকা-১৮ আসনে ১০ দলীয় জোট ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’-এর সংসদ সদস্য প্রার্থী আরিফুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) উত্তরা বিএনএস সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ২২ জানুয়ারি থেকে আব্দুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের নির্বাচনী অফিসের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গতকাল খিলক্ষেত থানায় আমাদের একটি নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনের সময় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেখানে হামলা চালায়। একজন ওয়ার্ড সভাপতির নেতৃত্বে সরাসরি আমার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।’
বিএনপির বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে যেভাবে শক্তিশালী প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়া করা হতো, বর্তমানে সবচেয়ে বড় দল দাবি করা বিএনপিও একই পথে হাঁটছে। তারা এখন নিয়ন্ত্রণহীন দলে পরিণত হয়েছে; এমনকি ওয়ার্ড বা থানার নেতাদেরও তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। জুলাই-আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে বিএনপি ব্যতীত অন্য প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিরাপত্তা আজ বড় প্রশ্নের মুখে।’
আরও পড়ুন: ডাকসু থেকে পদত্যাগের ঘোষণা সর্ব মিত্র চাকমার
সংবাদ সম্মেলনে আরিফুল ইসলাম দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন:
১. হামলাকারী মোহাম্মদ দিদার মোল্লাসহ অন্যদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
২. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত দিদার মোল্লাসহ সকল হামলাকারীকে আটক করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে নিজ উদ্যোগে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এই দুই দাবি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেনে নেওয়া না হয়, তবে বৃহত্তর উত্তরায় আমরা কঠোর অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।’
আরিফুল ইসলাম আরও জানান, হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ এবং ছবি গণমাধ্যমে স্পষ্টভাবে এসেছে, যেখানে মোহাম্মদ দিদার মোল্লাসহ অন্যদের সরাসরি হামলায় অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। এই তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।