চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান © টিডিসি ফটো
‘আগে একটি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও এবার চারটি বিষয়ে একসঙ্গে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে কেউ তিনটি বিষয়ে একমত হলেও একটি বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলে তা আলাদাভাবে প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছে না। সরকার একটি নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করে প্রচারণা চালাচ্ছে, যা গণভোটের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার সাম্পান রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম–৮ আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলা দেশের জনগণের জন্য বিব্রতকর ও অনৈতিক। এই অবস্থান থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।
সম্প্রতি জঙ্গল সলিপুরে র্যাব কর্মকর্তার নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে নাজিমুর রহমান বলেন, 'সরকার শুরু থেকেই ‘মব জাস্টিস’ নিজেদের মতো করে পরিচালনা করছে। এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। এটি রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।'
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সম্প্রতি প্রকাশিত তালিকায় নগর বিএনপির একজন যুগ্ম আহ্বায়কের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, যদিও পরে তা সংশোধন করা হয়। তিনি বলেন, 'কাউকে শহরে প্রবেশ বা অবস্থান নিষিদ্ধ করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ হতে পারে না; অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা উচিত। এ ধরনের গণবিজ্ঞপ্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতা প্রকাশ করছে, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।'
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলাল উদ্দীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি এবং অন্যান্য নেতারা।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরে ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারীর’ অবস্থান ও প্রবেশ নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। পুলিশ কমিশনারের সই করা ওই তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নাম থাকলেও পরে বিএনপি নেতাসহ কয়েকজনের নাম বাদ দিয়ে সংশোধন করা হয়।