বসার জন্য ইমাম সাহেবকে নিজে চেয়ার এগিয়ে দিলেন তারেক রহমান
কড়াইল বস্তিবাসীর সামনে বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান © সংগৃহীত
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করি। আমি আপনাদেরই সন্তান। আপনাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা যাতে মর্যাদার সঙ্গে মাথা গোঁজার ঠাঁই পায়, সেজন্য সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে ছোট ছোট ফ্ল্যাট বানিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কড়াইলবাসীর উদ্যোগে রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি কড়াইলবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দোয়া মাহফিলে তারেক রহমানের সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখা ও মোনাজাত পরিচালনার জন্য মঞ্চে কড়াইল জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ইব্রাহিম বিন আলীকে কাছে ডেকে তাকে সবার সামনে বসার জন্য নিজে চেয়ার এগিয়ে দেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া জীবিত থাকা অবস্থায় মা-বোনদের শিক্ষার প্রসারে বিনামূল্যে নানান উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একইভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশবাসী বহুভাবে উপকৃত হয়েছে।
কড়াইলবাসীর উদ্দেশে তারেক বলেন, আমি জিয়াউর রহমানের সন্তান, খালেদা জিয়ার সন্তান। কিন্তু এই পরিচয়ের চেয়েও বড় পরিচয় হল, আমি আপনাদেরই সন্তান। ছোট থেকে এই এলাকায় বড় হয়েছি। আমি বাংলাদেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করি। সবাই যেন আল্লাহর দরবারে একসঙ্গে হাত তুলে দেশের কল্যাণ কামনা করেন, তিনি দেশবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, মা-বোনদের স্বাবলম্বী করা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিতে চাই। কৃষকদের জন্যও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আপনারা যদি আমাদের সুযোগ দেন, আমরা এই ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়ন করবো।
করাইল বস্তিবাসীর সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমার যেমন সন্তান আছে, আপনাদেরও সন্তান আছে। আমরা চাই কড়াইলের সন্তানেরা বিদেশী ভাষায় কথা বলতে শিখুক, উন্নত চিকিৎসাসেবা পাক। এজন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ওই এলাকার আবাসন সমস্যা প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সবাই যেন থাকার সুযোগ পায়, সেজন্য ছোট ছোট ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই এলাকায় একটি ক্লিনিক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নিজের অতীত স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান জানান, তিনি একসময় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় থাকতেন। সেই বাড়ি যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তিনি তা ভুলে যাননি। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই সাধারণ মানুষের কষ্ট তিনি অনুভব করেন এবং কড়াইলবাসীর জন্য কাজ করতে চান।
তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ‘২৪-এর আন্দোলনে’শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও কড়াইলবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, আল্লাহ যদি রহম করেন এবং আপনারা দোয়া করেন, তাহলে আমরা এসব কাজ বাস্তবায়ন করতে পারবো।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আপনাদের জন্য রাজনীতি করি। এর আগেও আমাদের দল যতবার দেশ পরিচালনা করেছে, মানুষের কাছে যে জবান দিয়েছে, আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি সেই জবান রক্ষা করার জন্য।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আজকে আপনাদের সামনে একটি কথা বলতে চাই, জানি না এটা নির্বাচনী আচরণবিধিতে পড়বে কি না বা কেউ ষড়যন্ত্র করবে কি না। কিন্তু আমি যা করতে চাই, আল্লাহর রহমত নিয়ে করতে চাই। আপনাদের যদি দোয়া থাকে, তবে আমি কয়েকটি কাজ করতে চাই। প্রিয় কড়াইলবাসী, আমি শুনেছি আপনারা এখানে থাকার জন্য অনেক কষ্ট করছেন। সেই কষ্টের সমস্যার সমাধান আমরা ধীরে ধীরে করতে চাই। এখানে উঁচু উঁচু বড় বড় বিল্ডিং করে দিতে চাই।
তারেক রহমান আরও বলেন, এখানে যারা থাকেন, তাদের নাম রেজিস্ট্রি করে আমরা প্রত্যেকটি ছোট ছোট ফ্ল্যাট করব এবং সেই ফ্ল্যাটগুলো তাদের নামেই দিতে চাই। এখানকার আদিবাসী বা যারা বহু বছর ধরে আছেন, তাদের কাছে এগুলো হস্তান্তর করতে চাই যাতে ঢাকা শহরের মতো জায়গায় এই এলাকার মানুষের একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আপনাদের সন্তানরা যাতে লেখাপড়া, খেলাধুলা ও চিকিৎসার সুযোগ পায়, আমরা সেই ব্যবস্থা করতে চাই। বিএনপির একটি পরিকল্পনা হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া। কড়াইল এলাকার মধ্যেই ক্লিনিক ও হাসপাতাল থাকবে। এভাবে আমরা এলাকাটিকে সাজিয়ে তুলতে চাই।
নারীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, মা-বোনদের ফ্রি শিক্ষার ব্যবস্থা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া করে দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা তাদের অর্থনৈতিকভাবেও সচ্ছল করতে চাই। সে জন্য মা-বোনদের কাছে আমরা “ফ্যামিলি কার্ড”পৌঁছে দিতে চাই। তবে সব কিছু নির্ভর করবে রাব্বুল আলামিনের রহমতের ওপর।
ব্যক্তিগত আবেগ জড়িয়ে তারেক রহমান বলেন, আপনারা এই এলাকায় যুগ যুগ ধরে বসবাস করছেন। আমি কিন্তু আপনাদের এলাকারই সন্তান। আগে থাকতাম ক্যান্টনমেন্টে। আপনারা জানেন স্বৈরাচারের সময় কীভাবে সেই বাড়ি ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। এখন আমি গুলশানে থাকি, আপনাদের আরও কাছাকাছি প্রতিবেশী। ইনশাআল্লাহ যতদিন বেঁচে থাকব, সাধ্যমতো কড়াইলবাসীর বিপদে-আপদে পাশে থাকব।
দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইব্রাহিম বিন আলী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন– বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা।