মামুনুল হক © সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে নিজের আয় ও সম্পদের হিসাব দাখিল করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক। জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষকতা ও ব্যবসার মাধ্যমে তিনি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেও তাঁর কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স নেই।
হলফনামায় মামুনুল হক নিজের পেশা হিসেবে 'শিক্ষকতা' উল্লেখ করেছেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স বা এমবিএ। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬৭ লাখ ৯১ হাজার ৩১৫ টাকা। তবে সম্পদের এই হিসাবের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাঁর কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর হাতে নগদ ৮৩ লাখ ২ হাজার ৮৩৭ টাকা থাকলেও কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর কোনো টাকা জমা নেই। এমনকি তাঁর নিজের বা পরিবারের ওপর কোনো ব্যাংক ঋণের বোঝাও নেই।
তাঁর বার্ষিক আয়ের তথ্যে দেখা যায়, বছরে তিনি মোট ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৪ টাকা আয় করেন। এর মধ্যে শিক্ষকতা ও পরামর্শক খাত থেকে তাঁর আয় ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৮৯০ টাকা এবং বাকি অংশ আসে ব্যবসা থেকে। তবে তাঁর দাখিলকৃত ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০ টাকা দেখানো হয়েছে এবং তিনি ৫৯ হাজার ৩৪ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন। স্থাবর সম্পদের বর্ণনায় তিনি জানিয়েছেন, তাঁর নামে ৮১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫৮ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি থাকলেও নিজের কোনো বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা কৃষি জমি নেই।
ব্যক্তিগত সম্পদের তালিকায় তাঁর ২ লাখ টাকার আসবাবপত্র এবং শেয়ার বাজারে ১ লাখ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। তবে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, স্বর্ণালঙ্কার কিংবা সঞ্চয়পত্র নেই। হলফনামায় তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নামে কোনো নগদ অর্থ বা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নেই এবং তিনি উত্তরাধিকার সূত্রেও কোনো সম্পত্তি পাননি।
তাঁর নামে একসময় ৩৮টি মামলা থাকলেও বর্তমানে কেবল ৩টি মামলা চলমান রয়েছে, যার মধ্যে একটি উচ্চ আদালত কর্তৃক স্থগিত। অবশিষ্ট ৩৫টি মামলার মধ্যে ৩২টি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ৫টিতে তিনি খালাস পেয়েছেন। মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা মামুনুল হক এবার ঢাকা-১৩ আসন থেকে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।