প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। এর ফলে দলটি শুধু নিবন্ধনই নয়, বহু আলোচিত দলীয় নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে পাওয়ার পথেও এগিয়ে গেল দলটি।
রোববার (১ জুন) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত এ সময় জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের পূর্বের রায় বাতিল করে দেন এবং নির্বাচন কমিশনকে তাৎক্ষণিকভাবে নিবন্ধন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আজকের এ রায়ের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক সংসদ প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে। আমরা আশাকরি এ রায়ের মাধ্যমে সঠিক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রাণবন্ত সংসদ গঠন হবে। জাতি, বর্ণ, শ্রেণী নির্বিশেষে সকলেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে বেছে নিবেন, এটা আমরা প্রত্যাশা করি।
তিনি জানান, আপিল বিভাগ রায় বাতিল করে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশনা দিয়েছেন রেজিস্ট্রেশন এবং অন্য যে সকল বিষয় আসবে সেগুলো যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে এবং প্রতীকের বিষয়টিও ইসিতে রেফার করা হলো অন্যান্য বিষয় হিসেবে। এজন্য আমরা মামলার শর্ট অর্ডার চেয়েছি এবং আগামীকালই আমরা রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশ হাতে পাব। এটি আমরা ইলেকশন কমিশনের কাছে অ্যাপ্রোচ করব এবং বাকিটা আশাকরি নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন ও প্রতীক বুঝিয়ে দিবেন। এটা আমরা প্রত্যাশা করি।
তিনি বলেন, আদালতের রায়ের নিবন্ধনের ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। আমরা আশাকরি, নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন ইস্যুর পাশাপাশি প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার বিষয়টিও নিষ্পত্তি করবেন।
জামায়াতে ইসলামী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন ও ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আদালতে জামায়াতের পক্ষে আইনি লড়াই করেন।
এর আগে দলের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৯ সালে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ জন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্টের তিন সদস্যের একটি বৃহত্তর বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে আদালত রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল) দেন, যা একই বছর নিয়মিত আপিলে রূপ নেয়।
এই রায়ের পর ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে দেয়।
এরপর ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর হঠাৎ করেই জামায়াতের করা আপিল ও লিভ টু আপিল আবেদন খারিজ (ডিসমিসড ফর ডিফল্ট) করে দেন আপিল বিভাগ। কারণ, ওই দিন আপিলকারীর পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
পরে আদালতে দেরি মাফ করে আপিল ও লিভ টু আপিল পুনরুজ্জীবিত করার (রিস্টোর) আবেদন করে জামায়াত। শুনানি শেষে ২০২3 সালের ২২ অক্টোবর আপিল বিভাগ সে আবেদন মঞ্জুর করে। এর পর আপিল ও লিভ টু আপিল শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ওঠে। শুনানি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর এবং পরবর্তী কয়েকটি দিনেও তা অব্যাহত থাকে।