আর ছুটি নয়, এবার পড়ানো শুরু করতে চান কলকাতার শিক্ষকরা

০৭ জুলাই ২০২১, ০৪:১০ PM
এবার পড়ানো শুরু করতে চান কলকাতার শিক্ষকরা

এবার পড়ানো শুরু করতে চান কলকাতার শিক্ষকরা © ফাইল ছবি

করোনার দীর্ঘ বন্ধে অনেকটা অস্বস্তির মধ্যদিয়ে যাচ্ছে ভারতের কলকতার শিক্ষকদের। এবার পড়ানোর কাজে ফিরতে চান শিক্ষকদের একাংশ। তবে স্কুলে যাওয়ার কোনও সরকারি নির্দেশিকা এখনও আসেনি তাদের। অনলাইন ক্লাস নিয়েও কোনও নির্দেশিকা পাননি বলে জানান তাদের কেউ কেউ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানা গেছে।

শিক্ষকদের একাংশ বলছেন, অনলাইন ক্লাস নিতে যাঁদের অসুবিধা হচ্ছে, সেই শিক্ষকদের অন্য কোনও ভাবে পড়ানোর কাজে যুক্ত করা হোক। বসে বসে বেতন নিচ্ছেন বলে প্রায়ই সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে রসিকতা করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও শিক্ষকদের বক্তব্য, স্কুলই যদি না খোলে, তা হলে তাঁদের দোষ কোথায়?

হাওড়ার দুইল্যা পাঁচপাড়া স্কুলের শিক্ষিকা সুমনা সেনগুপ্ত জানালেন, ওই স্কুলের এক শিক্ষার্থী কিছু দিন আগে ফোন করে তাঁর কুশল জানতে চেয়েছিল। সেই সঙ্গে কিছু পড়াও বুঝিয়ে দিতে অনুরোধ করে সে।

সুমনা বলেন, ওর ফোন পেয়ে মনে হল, সত্যিই তো, কত দিন যোগাযোগ নেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। ওদের সকলের বাড়িতে স্মার্টফোন নেই। তাই অনলাইন ক্লাস নিয়মিতভাবে হয় না। আমরা এবার পুরোদমে পড়ানোর কাজে ফিরতে চাই। অফলাইন ক্লাস এই মুহূর্তে সম্ভব নয় জানি। অনলাইন ক্লাসও সকলে করতে পারবে না। তাহলে অন্য কোনও ভাবে পড়ানো যায় কি না, এ বিকল্প চিন্তার পরামর্শ তার।

সুমনা বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের সকলের বাড়িতে স্মার্টফোন না থাক, সাধারণ ফোন তো রয়েছে। তা হলে একটি বার ফোন করলে অন্তত যোগাযোগটা তো থাকে। পড়াশোনায় তাদের কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না, সেটুকু তো জানা যায়।’’

শহরের সারদাপ্রসাদ ইনস্টিটিউটের সহকারী শিক্ষক কৃষ্ণাশিস গোস্বামীর মতে, “করোনাকালে যেভাবে টেলিমেডিসিনের দ্বারা প্রচুর মানুষ উপকৃত হয়েছেন, সেইভাবে যদি টেলি-এডুকেশন করা যেত, তা হলে অনেক শিক্ষার্থী উপকৃত হত। এখন টেলি-এডুকেশন আছে ঠিকই, কিন্তু সব শিক্ষার্থীর সেই সুবিধা পায় না। আমরা চাই, টেলি-এডুকেশন থেকে শুরু করে রেডিও, টিভিসহ নানা মাধ্যমে পড়ানোর মধ্যে ফিরে যেতে।”

পার্ক ইনস্টিটিউশনের সহকারী শিক্ষক বাসব মুখোপাধ্যায়ের মতে, এখন সংক্রমণ অনেকটাই কমেছে। তাই অল্প সংখ্যক পড়ুয়াকে স্কুলে নিয়ে এসে একটা-দুটো ক্লাস শুরু করা যেতে পারে।

বাসববাবুর মতে, “গরমের ছুটি এ বার শেষ হোক। আগে দিনে পাঁচটা করে ক্লাস নিতাম। এখন অনলাইনে দুটো ক্লাস নিই। তা-ও সব সময়ে হয় না। স্কুলে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষকের হাজিরার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হোক। করোনার মধ্যে পড়াশোনার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করুক শিক্ষা দপ্তর।”

এদিকে, শিক্ষক সংগঠনগুলো বলছে, সরকারি বিজ্ঞপ্তি ছাড়া শিক্ষকদের সবাইকে পড়ানোর মধ্যে ফিরিয়ে আনা কার্যত অসম্ভব।

এক শিক্ষক জানান, “অনেকেরই অভিযোগ, করোনাকালে আমাদের পড়ানোর কাজটা নেই বললেই চলে। স্রেফ ঘরে বসে বেতন পাচ্ছি। অথচ, অনেক শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছেন। অনেকে অনলাইন ক্লাসও করাচ্ছেন। কিছু শিক্ষক অবশ্য অনলাইনে পড়ানোর বিজ্ঞপ্তি না আসার বা গরমের ছুটি চলার অজুহাতে পড়ানো থেকে দূরে থাকছেন।”

অনলাইনে অনেকের অসুবিধা থাকায় বিকল্প কিছু মাধ্যমে পড়ানোর পরিকল্পনা চলছে বলে জানালেন স্কুল শিক্ষা দপ্তরের এক কর্তা। তাঁর কথায়, “আমরা টেলি-এডুকেশন আরও ভাল ভাবে শুরু করার পরিকল্পনা করেছি। এখন এক হাজারের মতো শিক্ষক টেলি-এডুকেশন পদ্ধতিতে পড়াচ্ছেন। কিন্তু সব শ্রেণির পড়ুয়া ওই সুবিধা পাচ্ছে না। সকলেই যাতে এই ব্যবস্থায় পড়াশোনা করতে পারে, সেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।”

জুমাতুল বিদা আজ, শেষ রমজানে মোনাজাতে মাগফিরাত-তওবার বিশেষ স…
  • ২০ মার্চ ২০২৬
আইজিপির নামে ভুয়া বক্তব্যে বিভ্রান্তি, সতর্ক করল পুলিশ
  • ২০ মার্চ ২০২৬
ঈদুল ফিতর উদযাপন শুরু হয় কখন থেকে, ইতিহাস ও তাৎপর্য কী?
  • ২০ মার্চ ২০২৬
কাল সারা দেশে তুমুল বৃষ্টির আভাস, কোন বিভাগে কখন-জানালেন আব…
  • ২০ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence