ভারতের উত্তরপ্রদেশে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিতে চলা বিক্ষোভের সময় পুলিশের গুলিতে ছয় আন্দোলনকারী নিহত হয়েছেন। রাজ্য পুলিশ বলছে, শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ভারতের সবচেয়ে বেশি ঘনবসতিপূর্ণ এই রাজ্যে মোট সাতজনের প্রাণহানি ঘটল।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর, গোরক্ষপুরসহ একাধিক জায়গায় পথে নামেন বিক্ষোভকারীরা। সেই সঙ্গে ব্যাপক ভাঙচুরও চলে। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় একাধিক গাড়িতে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে বিক্ষোভকারীদের। পরে পুলিশের গুলিতে ছয় আন্দোলনকারী নিহত হন।
জানা গেছে, শুক্রবার জুমআর নামাজের পর উত্তরপ্রদেশের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজ্যের জারিকৃত কারফিউ উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধিত আইনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্য পুলিশ লাঠি চার্জ, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।

তবে পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গুলিতে মারা যাননি। এমনকি পুলিশ একটি বুলেটও নিক্ষেপ করি নাই। যদি কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটে; তাহলে সেটি বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের বিজনরে দু'জন, এছাড়া স্যামভাল, ফিরোজাবাদ, মীরাট এবং কানপুরে একজন করে বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, ভারতের নতুন নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পার্সি এবং জৈন সম্প্রদায়ের সদস্যরা সে দেশের নাগরিকত্ব পাবেন। তবে এ আইনে মুসলিম শরণার্থীদের ব্যাপারে একই ধরনের বিধান রাখা হয়নি।
বিতর্কিত এই আইনে মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্বের ব্যাপারে কিছু না বলায় ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তবে বিক্ষোভের দাবানল বেশি ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে। সাম্প্রদায়িক সীমায় দাঁড়িয়ে ভারতে বিভক্তি তৈরি করতে এই আইন আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির বিভিন্ন বিরোধী দল, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ। ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ মুসলিম।