যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা © সংগৃহীত
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনে দুবাই ভিত্তিক লজিস্টিকস জায়ান্ট ডিপি ওয়ার্ল্ড-এর সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস। মুলত গাজার সাপ্লাই চেইন এবং অবকাঠামো প্রকল্প পরিচালনার বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে -এমনটাই জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ফাইনান্সিয়্যাল টাইমস।
অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবিক সহায়তা এবং বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের লজিস্টিকস তদারকিতে এই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি অংশীদার হতে পারে কি না, তা নিয়েই মূলত এই আলোচনা হয়েছে। এফটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল গাজার গুদামজাতকরণ, কার্গো ট্র্যাকিং সিস্টেম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
গাজায় অথবা মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে একটি নতুন বন্দর নির্মাণ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলের ভেতরে একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি-ট্রেড জোন) তৈরির প্রস্তাবও আলোচিত হয়েছে সেখানে । মূলত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিষেবা এবং অবকাঠামোকে ব্যক্তিমালিকানাধীন করার মাধ্যমে একটি ‘নতুন গাজা’ গড়ার মার্কিন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই আলোচনা।
ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের পাশ কাটিয়ে এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজ ভূমি থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার প্রক্রিয়াকে এটি বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তারা মনে করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ এবং বিশ্বব্যাংকের একটি যৌথ মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে গাজার পুনর্গঠনের জন্য ৭১.৪ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ডিপি ওয়ার্ল্ডের একজন মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, দুবাই সরকারের মালিকানাধীন ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বন্দর অপারেটর, যারা ৮০টিরও বেশি দেশে প্রতিদিন বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।