জাতীয় সংসদ ভবন © সংগৃহীত
নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রাখা শুরু হয়েছিল আজ থেকে ৫৪ বছর আগে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী দলগুলো ৬টি আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন পাবেন। সে হিসাবে জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপির জোট ৩৬ আসন, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি আসন পাবে।
সংসদের সংরক্ষিত ৫০ নারী সংসদ সদস্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বেতন-ভাতা ও নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস), ১৯৭৩’ বা ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী। এটি বিভিন্ন সময়ে সংশোধিত হয়েছে, সর্বশেষ সংশোধন করা হয় ২০১৬ সালে।
আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য মাসে ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন ছাড়াও ন্যাম ভবনে ফ্ল্যাট, পরিবহন, অফিস, চিকিৎসা, ভ্রমণ, শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি, বিমা এবং নানা ধরনের ভাতা পান। সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মতোই সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরাও এসব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, একজন নারী সংসদ সদস্য মাসে ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর পাশাপাশি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্বাচনি এলাকা ভাতা এবং ৫ হাজার টাকা আপ্যায়ন ভাতা পান। এছাড়া ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা দেওয়া হয়, যার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত থাকে। অফিস পরিচালনার জন্য মাসে ১৫ হাজার টাকা অফিস ব্যয় ভাতা দেওয়া হয়।
আরও জানা গেছে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সংসদ সদস্যরা আরও কিছু ভাতা পান। এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা এবং ৬ হাজার টাকা বিবিধ ব্যয় ভাতা, যা বাসনপত্র, বিছানাপত্র ও টয়লেট্রিজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য নির্ধারিত।
সংসদ সদস্যদের অন্যতম বড় সুবিধা হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানি। একজন সংসদ সদস্য মেয়াদকালে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস শুল্ক ও কর ছাড়াই আমদানি করতে পারেন। পাঁচ বছর পর একই সুবিধায় নতুন গাড়ি আমদানির সুযোগও রয়েছে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানি না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বাজেট অধিবেশনের আগে পে স্কেল বাস্তবায়নে আসছে কর্মসূচি
ভ্রমণ সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা অধিবেশন ও দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের জন্য আলাদা ভাতা পান। রেল, বিমান বা নৌপথে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে কিলোমিটারপ্রতি ভাতা নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধাও পান।
সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দৈনিক ৭৫০ টাকা ভাতা ও ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়। অন্যদিকে উপস্থিতির ভিত্তিতে ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতাও পান সংসদ সদস্যরা।
চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের সুবিধা পান। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়। নিরাপত্তার জন্য সংসদ সদস্যদের ১০ লাখ টাকার সরকারি বিমা সুবিধা রয়েছে, যা দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়।
এছাড়া প্রতি বছর সংসদ সদস্যরা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন। টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে বাসভবনে সরকারি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়, যার জন্য মাসে ৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের সব ভাতা আয়করমুক্ত। অর্থাৎ এসব ভাতার ওপর কোনো আয়কর দিতে হয় না। অতীতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্লট পাওয়ার সুবিধাও ভোগ করেছেন সংসদ সদস্যরা।