বিশ্বজিৎ © সংগৃহিত
ভারতে নতুন নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে এক কাতারে দাড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। গত কয়েকদিনের চলমান আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছে ভারত। পা না থাকার পরেও সেই আন্দোলনে এবার হুইল চেয়ারে বসে যোগ দিয়েছেন বিশ্বজিৎ নামে কোলকাতার এক বাসিন্দা।
এমন একটি ভিডিও দেশটির টিডিএন বাংলা নামক ফেসবুক পেজে আপলোড দেয়া হয়েছে। ভিডিওতে বিশ্বজিৎ বলেন, ১৯৭২ সালে আমার দাদা ভারতে আসেন। আমার মা-বাব দু’জনের জন্মই এই শহরে। সরকারের নতুন আইন অনুযায়ী এখন আমার দাদার ভরতে আসার ডকুমেন্ট চাওয়া হচ্ছে সেটা আমি কীভাবে নিয়ে আসবো?
কান্না জড়িত কণ্ঠে বিশ্বজিৎ আরো বলেন, সরকার হুট করে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছি না। সরকারের বোঝা উচিৎ যে এত পুড়নো কাগজপত্র অনেকের কাছে নেই। ভারতে এমন অসংখ্য মানুষ রয়েছে যাদের জন্ম এদেশে কিন্তু তাদের জন্মের কোন ডকুমেন্টস নেই।
ভিডিওটি আপলোডের পর সমালোচনার ঝড় বইছে ফেসবুকে। সাদিকুল নামে একজন লিখেছেন, ১৯৭১ সালের ডকুমেন্ট মানুষ কি করে দিবে? ওরা কি জানেনা যে ২ হাজার সালে একবার বান এসেছিলো তখন মানুষ নিজের জীবন বাঁচাবে না ১৯৭১ সালের দলিলপত্র খুঁজবে? কত মানুষের ক্ষতি হয়েছিল এক মাত্র আল্লাহ ভালো জানেন।
কোহিনুর ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, কমেন্ট করার মত কোনো ভাষা নেই আমার। এ দেশে বসবাস করা মুশকিল। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী যা কোনো ভাষা জানেন। সাধারণ মানুষের কথা ভাবে না।
এদিকে বৃহস্পতিবারও রাজধানী দিল্লিসহ দেশটির দশ রাজ্যের ১৩টি শহরে হয়েছে বিক্ষোভ। এছাড়া কয়েকটি থানায় আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দু’জন মেঙ্গালুরুতে ও একজন লখনউয়ের বলে জানা গেছে।
সহিংসতা ঠেকাতে ভারতের বিভিন্ন যায়গায় কার্ফু জারি করা হয়েছে। এছাড়া ভারত জুড়ে প্রায় দেড় হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। দিল্লিতে আটক হন সীতারাম ইয়েচুরি, ডি রাজা, নীলোৎপল বসু, বৃন্দা কারাট, যোগেন্দ্র যাদব, উমর খালিদের মতো নেতারা।