প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে ইসরায়েল এগিয়ে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে ইরানকেই বেশি শক্তিশালী মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া সংঘাতে জড়িত হওয়ায় অধিকাংশ ইসরায়েলি এখন বাঙ্কারে বসবাস করছে এবং তাদের অর্থনীতি ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের সক্ষমতা ও কৌশল নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের সহকারী অধ্যাপক মুহান্নাদ সেলুম।
তার মতে, এই যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে। তবে ইরানের রয়েছে বহু কৌশলগত শক্তি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইরানের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে রাখলেও ভৌগোলিক দিক থেকে ইরান অনেকটাই বড় হওয়ায় বাড়তি সুবিধা পাবে ইরান।
সেলুম বলেন, ‘ইরানিরা অনেক বড় ক্ষতি সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে। আবার এমন অনেক অস্ত্র রয়েছে যা ইসরায়েলকে অনেক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। কিন্তু ইসরায়েলের জন্য এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা কঠিন। কারণ তারা হয় চূড়ান্ত বিজয় চায়, নয়তো খুব দ্রুত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে চায়।’
তিনি বলেন, `আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে এখনো কোনো পক্ষই পুরোপুরি যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। তবে অস্ত্রের ব্যবহার এবং যুদ্ধের গতি বাড়ছে। সংঘাত প্রতিদিন আরও তীব্র হচ্ছে।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলা থেকেই দেখা গেছে, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা অরক্ষিত হয়ে পড়তে পারে। এখন ইরানিরাও সেই একই কৌশল গ্রহণ করছে বলে জানান সেলুম।
‘যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় তাহলে তা ইসরায়েলের জন্য ক্ষতিকর হবে। অধিকাংশ ইসরায়েলি এখন বাঙ্কারে বসবাস করছে এবং তাদের অর্থনীতি ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
অন্যদিকে ইরান বিগত চার দশক ধরেই এক ধরনের ‘জরুরি প্রস্তুতি’ অবস্থায় রয়েছে। ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর থেকে তারা বিভিন্ন মিলিশিয়া গড়ে তুলেছে। যেমন লেবানন ও সিরিয়ায় কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকেও নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তি গড়ে তুলেছে।
‘ইরান ও ইসরায়েল— দুই দেশের কাঠামো, সমাজ ও কৌশলগত বাস্তবতা একেবারেই আলাদা। এখন এই দুই বিপরীতমুখী শক্তির মধ্যে এক বিধ্বংসী সংঘাত চলছে। যেখানে একে অপরকে চূড়ান্তভাবে পরাস্ত করতে চায়,’ বলেন মুহান্নাদ সেলুম।