দাম্পত্যে যত্ন আর কৃতজ্ঞতার প্রকাশেই হোক ভালোবাসা দিবস

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০২ AM
লেখক ও তার স্ত্রী

লেখক ও তার স্ত্রী © সৌজন্যে প্রাপ্ত

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। হৃদয়ের অমলিন অনুভূতি, মানুষে মানুষে বন্ধন, মমতা আর আন্তরিকতার এক অনন্য উদ্‌যাপনের দিন। প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি সম্পর্কের উষ্ণতা নবায়নের এই বিশেষ ক্ষণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে দিনটি পালিত হচ্ছে নানা আয়োজনে। তবে এই দিনটি কেবল প্রেমের বাহুল্য নয়—দাম্পত্যে যত্ন, সম্মান ও কৃতজ্ঞতার ভাষা নতুন করে উচ্চারণ করারও একটি বিশেষ উপলক্ষ্য।

ভালোবাসার নেই কোনো নির্দিষ্ট রঙ, নেই বাঁধাধরা কোনো রূপ। এটি অনুভবের—হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত এক নির্মল আবেগ। প্রিয় মানুষকে ভালোবাসতে কিংবা সেই ভালোবাসা প্রকাশ করতে বিশেষ কোনো দিন-ক্ষণ, মাস বা বছরের প্রয়োজন পড়ে না—এ কথা আমরা সবাই জানি। তবুও জীবনের ব্যস্ততার ভিড়ে অনুভূতির গুরুত্ব মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য কখনও কখনও একটি প্রতীকী দিনের প্রয়োজন হয়। সেই প্রয়োজন থেকেই বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের জন্ম—যে দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, ভালোবাসা কেবল উচ্চারণের নয়, যত্নে-আচরণে প্রকাশেরও বিষয়।

ভালোবাসা শুধু লাল গোলাপ কিংবা চকলেটের মোড়কে বাঁধা কোনো এক দিনের অনুভূতি নয়; এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্ন, নীরব বোঝাপড়া আর অব্যক্ত কৃতজ্ঞতার নাম। তবু ক্যালেন্ডারের একটি বিশেষ দিন আমাদের থামতে শেখায়, মনে করিয়ে দেয়—যে মানুষটি প্রতিদিন পাশে থাকে, তাকে কি ঠিকমতো বলা হয়েছে “তোমাকে ধন্যবাদ” কিংবা “আমি তোমাকে ভালোবাসি”?

দাম্পত্য জীবন অনেকটা নদীর মতো—কখনও শান্ত, কখনও উচ্ছ্বসিত, কখনও বা ঘোলাটে। এই পথচলায় সঙ্গীই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় আশ্রয়। সংসারের হিসাব, সন্তানের ভবিষ্যৎ, দায়িত্বের চাপ—সবকিছুর ভিড়ে ভালোবাসার সরল উচ্চারণ অনেক সময় হারিয়ে যায়। অথচ এক কাপ চায়ের সাথে দু’মিনিট সময় দেওয়া, কাজের ফাঁকে একটু খোঁজ নেওয়া, কিংবা দিনের শেষে ক্লান্ত মুখে একটু আন্তরিক হাসিই হতে পারে ভালোবাসা দিবসের সবচেয়ে বড় উপহার।

এই দিনে দামি উপহার নয়, প্রয়োজন হৃদয়ের দরজা খুলে দেওয়া। হয়তো একটা ছোট্ট চিঠি—যেখানে লেখা থাকবে, “তুমি আছ বলেই আমার জীবন এতটা পরিপূর্ণ।” হয়তো একসাথে পুরোনো অ্যালবাম দেখা, প্রথম দেখা হওয়ার গল্পে আবারও ডুবে যাওয়া। কিংবা নিঃশব্দে তার হাতটা ধরে বলা—“তোমার ত্যাগ আর ধৈর্যের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

দাম্পত্যে ভালোবাসা টিকে থাকে পারস্পরিক সম্মান ও কৃতজ্ঞতায়। স্ত্রী বা স্বামী—কেউই শুধু সংসারের একজন সদস্য নন; তারা একে অপরের স্বপ্নের সাথী, কঠিন সময়ে শক্তি, আর আনন্দের দিনে সবচেয়ে উজ্জ্বল হাসি। তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া মানেই সম্পর্ককে আরও গভীর করা, আস্থার ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করা।

ভালোবাসা দিবস তাই কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার নয়, এটি দাম্পত্যেরও দিন—নতুন করে প্রতিজ্ঞা করার দিন, পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনরায় উচ্চারণ করার দিন। আজকের দিনে যদি আমরা যত্ন আর কৃতজ্ঞতার ভাষায় ভালোবাসাকে প্রকাশ করতে পারি, তবে প্রতিটি দিনই হয়ে উঠবে ভালোবাসা দিবসের মতোই উজ্জ্বল। কারণ সত্যিকারের ভালোবাসা কেবল একটি দিনের নয়—এটি আজীবনের এক নীরব, কিন্তু গভীর প্রতিশ্রুতি।

লেখক: সাংবাদিক ও শিক্ষক 

ভারতীয় নম্বর থেকে হত্যার হুমকি, জিডি করলেন ডাকসু নেতা
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দাম্পত্যে যত্ন আর কৃতজ্ঞতার প্রকাশেই হোক ভালোবাসা দিবস
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে সনাতন যুবককে হত্যার নেপথ্যে জমি নিয়ে বিরো…
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোট সুষ্ঠু হলেও গণনায় ১০ শতাংশ কারচুপি হয়েছে: নাহিদ ইসলাম
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কুয়েটে ছাত্রদলের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই: কেন্দ্রীয় সংসদ
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসছেন তারেক রহমান
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
X
APPLY
NOW!