আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ‘অ্যাপ্রুভার’ বিতর্ক: প্রসিকিউটর সুলতানের অভিযোগ কতটা যৌক্তিক?

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০৩ PM
ডেভিড বার্গম্যান

ডেভিড বার্গম্যান © টিডিসি সম্পাদিত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ (অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি) আইসিটি বিচারপ্রক্রিয়ায় ‘অ্যাপ্রুভার’ ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন—অর্থাৎ এমন অভিযুক্ত ব্যক্তি, যারা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য দিতে রাজি হন। তিনি এমনও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়ে থাকতে পারে।

এটা মনে রাখা জরুরি যে, অ্যাপ্রুভার ব্যবহার বিশ্বজুড়ে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার একটি পুরোনো ও প্রতিষ্ঠিত অংশ। অনেক জটিল বা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মামলায় ভেতরের কারও সাক্ষ্য দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের সাক্ষ্য শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিচারে রাষ্ট্রপক্ষের মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল। সুলতান মাহমুদকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে ন্যায্য কারণ ছাড়াই রাষ্ট্রীয় সাক্ষী বানানো হয়েছে। আমার মতে, এটি সঠিক নয়। তার সাক্ষ্য না থাকলে সহ-অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ অনেকটাই দুর্বল হয়ে যেত এবং মূলত একটি আড়িপাতা ফোনালাপের ওপর নির্ভর করতে হতো। সে প্রেক্ষাপটে, সহ-অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলায় মামুনকে রাষ্ট্রীয় সাক্ষী হিসেবে পাওয়া প্রসিকিউশনের জন্য বড় ধরনের সাফল্য ছিল।

অভিযুক্ত সহযোগীদের সঙ্গে এমন সমঝোতা করা—যার ফলে তাদের সাজা কমে যায় বা কখনও দায়মুক্তি পায়—প্রসিকিউটরদের জন্য স্বস্তিকর নয়। নৈতিকভাবে এসব সমঝোচনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়, যেমনটি সুলতান করেছেন। কিন্তু অনেক সময় বড় বা বেশি দায়ী আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করতে এ ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়।

স্বাভাবিকভাবেই, কোনো অ্যাপ্রুভারের বিশ্বাসযোগ্যতা সবসময় প্রশ্নের মুখে থাকে। প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা প্রায়ই বলেন, এসব সাক্ষী নিজের বাঁচার জন্য সাক্ষ্য দেন, তাই তাদের পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না। এটি ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। শেষ পর্যন্ত, অ্যাপ্রুভারের সাক্ষ্যের গুরুত্ব নির্ভর করে তার বক্তব্য কতটা সংগতিপূর্ণ, অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে কতটা মেলে, এবং তার কিছু অংশ আলাদাভাবে প্রমাণ করা যায় কি না—এসব বিচারকদেরই বিবেচনা করতে হয়।

সুলতান মাহমুদ এমন অভিযোগ তুলেছেন যে অভিযুক্তদের অ্যাপ্রুভার বানানোর বিনিময়ে প্রসিকিউটররা টাকা নিয়েছেন। অভিযোগটি স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রশ্ন তোলে। সাধারণত প্রসিকিউটররা অভিযুক্তদের রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করতে রাজি করানোর চেষ্টা করেন; যদি কোনো অনৈতিক লেনদেন হয়ে থাকে, তাহলে যুক্তি অনুযায়ী সুবিধা যাওয়ার কথা সাক্ষীদের দিকে, প্রসিকিউটরদের দিকে নয়। বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকলে অবশ্যই তা ঠিকভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। তবে এই মুহূর্তে, আমার মতে, এই নির্দিষ্ট অভিযোগটি সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত।

লেখক:
ডেভিড বার্গম্যান,
ব্রিটিশ সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে যবিপ্রবির গণভোজে অংশ নেবেন ৩ হাজার…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
এবার গ্রাফিক্স আর্টস কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে কবি নজরুল কলেজের অন্তত ২০ জন আহত
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশ যাচ্ছে ২৬ যবিপ্রবির শিক্ষা…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতায় শিক্ষা অধিকার সংসদের উদ্বেগ, ৩ দফা দাবি
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
ডুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬