নতুন উপাচার্যের কাছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা © টিডিসি সম্পাদিত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। এর আগে তিনি জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন উপাচার্যের যোগদানে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশকে এবারই প্রথম বিজ্ঞানভিত্তিক একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে কোনো উপাচার্য নিয়োগ পেলেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘ শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেনের। ফলে গবেষণামুখী শিক্ষা, আধুনিক একাডেমিক পরিকল্পনা এবং জ্ঞানচর্চাভিত্তিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ, ল্যাব ও একাডেমিক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে নতুন উপাচার্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী এবিএম হাছিবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে নির্মাণাধীন দুটি হলের কাজ দ্রুত শেষ করা এবং কেন্দ্রীয় মেডিকেল সেন্টারে ব্যথার দান পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসহ শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনগুলোতেও নিয়মিত ডাক্তার বসার ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতির জন্য পদার্থ, রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা ও গণিতের মতো মৌলিক বিজ্ঞান বিভাগগুলো চালু করা জরুরি, যা সমসাময়িক নোবিপ্রবি, জবি বা কুবিকে গবেষণায় অনেক এগিয়ে নিয়েছে। একই সাথে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক চেতনাকে ধারণ করতে ঝুলে থাকা টিএসসির কাজ দ্রুত শেষ করা এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিনা আন্তার মীম বলেন, নবনিযুক্ত উপাচার্যকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ৫৭ একরে স্বাগতম। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তচিন্তা ও ইতিবাচক সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে। হল সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, হলের খাবারের মানোন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে প্রশাসন আন্তরিক ভূমিকা পালন করবে। 

একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নয়নও অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বাস সংকট নিরসন, রাস্তা সংস্কার এবং নির্মাণাধীন কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে দলীয়ভিত্তিক রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি ও গেস্টরুম সংস্কৃতির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো যেন আর ফিরে না আসে, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশা রাখি। 

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান খান লেলিন বলেন, নবনিযুক্ত উপাচার্যের কাছে আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাওয়াটি হলো আমাদের ক্যাম্পাসের প্রাণ-প্রকৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আমি চাই আমাদের ক্যাম্পাসের শিক্ষা ও গবেষণার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি যেন পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন করা হয়। আমরা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি আমাদের ক্যাম্পাসের পরিকল্পনা বিভাগের অদূরদর্শী ও পরিবেশ বিদ্বেষী পরিকল্পনার বলি হতে হয়েছে আমাদের ক্যাম্পাসের প্রাণ ও প্রকৃতিকে। অতীতে সকল উপাচার্যের কাছেই আমাদের এই বিষয়ে দাবি উত্থাপন করেছি এবং এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকরী সমাধান পাইনি। আমি আশা করি, নতুন প্রশাসন এই ক্যাম্পাসের প্রাণ ও প্রকৃতিকে নিরাপত্তা দিবেন। কেননা যখন আমাদের প্রাণ-প্রকৃতি হুমকির মুখে থাকে, তখন আসলে শিক্ষা ও গবেষণার কথা চিন্তা করাও অবান্তর।

চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা নওশিন দ্রুতি বলেন, নতুন উপাচার্যের কাছে আমাদের প্রত্যাশা হলো একটি শিক্ষার্থীবান্ধব, আধুনিক ও মানবিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার মান, গবেষণা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমরা চাই সেশনজট, আবাসন সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার মতো সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান হোক, যাতে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ পায়। একই সঙ্গে আমরা চাই ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশ রক্ষা করা হোক। উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা কখনোই টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। 

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় শুধু তার ভবন নয়, তার প্রকৃতি, পুরোনো গাছ এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশও। তাই আমরা বিশ্বাস করি, পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রকৃতি সংরক্ষণ করেও বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও আধুনিক করা সম্ভব। আমাদের আশা, নতুন উপাচার্য নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি ক্যাম্পাসে পরিণত করবেন, যেখানে শিক্ষা, মানবিকতা ও পরিবেশ সবকিছুর মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য থাকবে।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিয়া আফরিম বলেন, নতুন উপাচার্যের আগমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার সূচনা। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, একজন উপাচার্য শুধু প্রশাসনিক প্রধান নন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও নৈতিক পরিবেশের পথ প্রদর্শক। তাই নতুন উপাচার্যের কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। 

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা নানান ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হই যেমন- শিক্ষক সংকট, বিভিন্ন বিভাগে সেশনজট, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বইয়ের সংকট। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ার রাস্তাঘাটের বেহালদশা, সামান্য বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন একটি ছাত্র হল এবং একটি ছাত্রী হল রয়েছে, দ্রুত এগুলোর কার্যক্রম শেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন। আমাদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়াকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করবেন।

আর্জেন্টিনা ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে পর্তুগালের সেই বিতর্ক…
  • ১০ জুলাই ২০২৬
বন্যায় ভূমিধসকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা
  • ১০ জুলাই ২০২৬
ম্যাচ শেষে কেন জার্সি বদলান ফুটবলাররা?
  • ১০ জুলাই ২০২৬
গোড়ালিতে চোট এমবাপ্পের, তবুও স্বস্তির বার্তা
  • ১০ জুলাই ২০২৬
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের ১৪ জেলায় ভারী বৃষ্টির আভাস, নদীব…
  • ১০ জুলাই ২০২৬
২০০২ ব্রাজিলের পর প্রথম, বিশ্বকাপে বিরল রেকর্ড ফ্রান্সের
  • ১০ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence