ইংরেজি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা। ইংরেজি হলো বিশ্বের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক ভাষা। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫০ কোটিরও বেশি মানুষ মাতৃভাষা বা দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি ব্যবহার করেন। উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক ব্যবসা এবং ভ্রমণের ক্ষেত্রে ইংরেজির কোনো বিকল্প নেই। এ ভাষা শেখা ও জানার মাধ্যমে ব্যক্তির জীবনে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যেতে পারে। পৃথিবীর কিছু দেশ ব্যতীত প্রতিটি দেশই তাদের দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি ব্যবহার করে থাকে। আমরাও সেকেন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে ইংরেজি ব্যবহার করে থাকি। তবে এ ভাষা শেখা ও জানার ক্ষেত্রে আমাদের অনেক ঘাটতি আছে। পৃথিবী এখন প্রতিনিয়ত প্রতিটি সেক্টরে রকেট গতিতে এগিয়েছে এবং আরও দ্রুতগতিতে আগাচ্ছে। এ পরিবর্তনের সাথে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়ছি, বিশেষ করে ইংরেজি জানার ক্ষেত্রে। আর ও দৌঁড়ে সমান তালে চলতে হলে ইংরেজি জানতেই হবে। ইংরেজি জানা কোনো ফ্যাশন না বা নিজেকে জাহির করারও কিছু নেই। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের উন্নয়নের জন্যই ইংরেজি জানতে হবে। এটা জীবনের সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। দেখা গেছে, যারা ভালো ইংরেজি জানেন চাকরি ও ব্যবসাতেও তাঁরা ভালো করছেন। ইংরেজি জানা মানুষের সারা দুনিয়াতেই চাহিদা বিশাল। কারণ এ ভাষাটি পৃথিবীতে ব্যাপকভাবে আধিপত্য বিস্তার করেছে। এমনটা বলললেও ভুল হবেনা যে, 'ইংলিশ ইজ পাওয়ার'। আর এ পাওয়ারই ভাষার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করছে।
জীবনের প্রতিটি বিষয়ই ইংরেজির সাথে সম্পর্কিত। আমাদের দেশের শিক্ষিত সমাজ বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে খুবই দুর্বল। ইংরেজি না জানা দোষের কিছু না, কারণ এ ভাষাটি আমাদের মাতৃভাষা না। ভাষাটি আমাদের মগজে আয়ত্ব করতে হয়। সেজন্য অবশ্যই শ্রম ও সাধনার প্রয়োজন আছে। চেষ্টা ছাড়া কোনোকিছুই সম্ভব না। আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মাস্টার্স শেষ করলেও ভালোভাবে ইংরেজিতে মনের ভাবটুকু প্রকাশ করতে পারেনা। এটা দোষেরও কিছু না, কারণ ইংরেজি শেখার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ আমরা পাইনি এবং শেখার চেষ্টাও করিনি। ইংরেজি হলো একটা অনুশীলনের ব্যাপার। এটা একটা ভাষা, একটা কালচার এবং যোগাযোগের একটা সর্বোচ্চ ভালো মাধ্যম। ইংরেজি ভালোভাবে জানা শিক্ষকেরও অনেক অভাব আমাদের দেশে। যতটুকুই আছে, তার বেশিরভাগই শহরকেন্দ্রিক। মফস্বলে ভালো ইংরেজি শিক্ষকের অনেক ঘাটতি। সেজন্য শিক্ষার্থীদেরও ইংরেজি শেখার জন্য খুব সমস্যায় পড়তে হয়। তাছাড়া ভালো পরিবেশ ত না-ই। কারণ মফস্বলের পরিবারগুলো সেভাবে সচেতন না। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি ও গণিতে মফস্বলের শিক্ষার্থীরাই তুলনামূলক বেশি খারাপ করেছে। একজন ছাত্র এইচএসসি পাস করার পরে যখন ভর্তি পরীক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় সম্মুখীন হোন, তখন সিংহভাগ শিক্ষার্থীই ইংরেজিতে খারাপ করেন। আরেকটা বিষয় হলো আমাদের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি গ্রামার ঠিকভাবে জানে না। কোনো একটি ভবনের উপরে উঠতে হলে যেমন, সিঁড়ি ব্যবহার করতে হয়; তেমনি আমাদের জন্য ইংরেজি শেখার জন্যও প্রথম ধাপ গ্রামার জানা। কারণ ভাষাটি আমার নিজের ভাষা না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় দেখা গেছে, বেশ কয়েক বছরের পরীক্ষায় ইউনিটগুলোতে মাত্র ১০ থেকে ১৫% শিক্ষার্থী ইংরেজিতে পাস করে এবং প্রায় ৯০% শিক্ষার্থী ইংরেজিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী ফেল করে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য ইংরেজি শেখার প্রতি আমাদের অবশ্যই অধিক পরিমাণে গুরুত্বারোপ করতে হবে। বর্তমান সরকারও ভাষা শেখার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।
বর্তমান সরকার বিশ্ব শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তির কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়ে একটি তৃতীয় বিদেশি ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো: তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্তি: শিক্ষার্থীদের গ্লোবাল স্কিল ও কর্মসংস্থান বাড়াতে মাধ্যমিক শিক্ষাক্রমে জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন (চাইনিজ), আরবি, ফরাসি বা জার্মানের মতো ভাষাগুলো যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আমার ব্যক্তিগত একটি উদাহরণ দিচ্ছি, আমার বড় ছেলে ক্লাস ওয়ানে পড়ে। গতকাল তাঁর স্কুল থেকে কয়েকটি বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ দিয়েছে। একটি ছিল "আমি বাড়ি যাই"-এর ইংরেজি অনুবাদ। শিক্ষক লিখে দিয়েছে, I go to home. কিন্তু এ Sentence টি ভুল। শিক্ষক নিজেই জানেন না, সঠিক ইংরেজি কি হবে। সঠিক ইংরেজি হবে I go home. কারণ Adverb এর আগে Preposition বসেনা। উদাহরণটা এখানে দিলাম কারণ আমাদের শিক্ষকদের আগে বিষয়গুলো ভালোভাবে জানতে হবে। তারপর সঠিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের প্রদান করতে হবে।
লেখক: মো. বাবুল হোসেন
উপপরিচালক (জনসংযোগ)
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়