এইচএসসি: জীবন গড়ার টার্নিং পয়েন্ট

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৬ PM , আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ PM
খোন্দকার কাওসার আহমেদ

খোন্দকার কাওসার আহমেদ © টিডিসি সম্পাদিত

স্নেহের শিক্ষার্থীরা, তোমরা যারা এবার উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম বর্ষে ভর্তি হলে, সকলকে জানাই—‘শুভ্র শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন’। তোমাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলব, যা মনোযোগসহকারে আমলে নিলে আশা করি তোমরা সফলতার পথে ধাবিত হতে পারবে।

উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসির দুটো বর্ষের (১ম ও ২য়) অর্জনই বলে দেবে তোমরা কে, কোন পথে চালিত হবে—এই পথ জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ। সুতরাং শুরু থেকেই শুরু করতে হবে—কিঞ্চিৎ পরিমাণ সময় নষ্ট করার অবকাশ উচ্চমাধ্যমিকে নেই।

সিলেবাসের দিক থেকে এসএসসি যদি ‘খাল’ হয়, তাহলে এইচএসসি হবে একটি বড় ‘নদী’। ব্যবধান এতটা যে, নদী ও সাগরের উপমা দিলেই ভালো হতো। কারণ, এইচএসসিতে মাত্র দেড় বছরে (১৫ থেকে ১৮ মাস) দুইটি করে পত্রের বিশাল এক সিলেবাস শেষ করতে হয়। তা ছাড়া, এইচএসসি বা উচ্চমাধ্যমিকে এমন কতক বিষয় ও বিষয়বস্তু পড়ানো হয়, যা একেবারেই নতুন কিংবা তোমরা খুব সামান্যই তার ইন্ধন পেয়েছ মাধ্যমিক বা এসএসসিতে। তোমাদের বোঝার জন্য কিছু উদাহরণ পেশ করছি, মনোযোগসহকারে খেয়াল করবে।

ক্যালকুলাস (Calculus)—যা এইচএসসিতে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের প্রাণ, কিন্তু মাধ্যমিক বা এসএসসিতে এই বিষয়ে বিন্দুবিসর্গও তোমাদের জানার সুযোগ হয়নি। এছাড়া ম্যাট্রিক্স ও নির্ণায়ক (Matrix & Determinants) সম্পূর্ণ নতুন একটি গাণিতিক ধারণা। গণিতে এরকম নতুন নতুন ধারণার সম্মুখীন হতে হবে।

রসায়নের ‘জৈব রসায়ন’ (Organic Chemistry)—এই বিষয়ে এসএসসিতে সামান্য ইন্ধন থাকলেও এইচএসসিতে এসে এটি হাজারো বিক্রিয়া ও জটিল মেকানিজমের এক বিশাল অধ্যায়ের চেহারা নিয়ে হাজির হয়, যা তোমাদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন এক ভাষা শেখার মতো।

পদার্থবিজ্ঞানের ‘ভেক্টর’ ও ‘আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান’—ভেক্টর ক্যালকুলাস কিংবা আইন্সটাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের মতো এমন কতক ধারণার সাথে তোমাদের পরিচয় ঘটবে, যার কোনো প্রাথমিক ভিত্তি পর্যন্ত এসএসসিতে নেই।

আইসিটির ‘প্রোগ্রামিং ও লজিক গেট’—সি-প্রোগ্রামিং (C Language) বা এইচটিএমএল-এর মতো আইটি ও কোডিংয়ের বিষয়টি এইচএসসিতে সম্পূর্ণ নতুন এবং মাধ্যমিক স্তরের পড়ার সাথে প্রায় শতভাগ অসঙ্গতিপূর্ণ।

মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের ক্ষেত্রেও চিত্রটা অনুরূপ, আলাদা নয়। যেমন: মানবিক বিভাগে ‘যুক্তিবিদ্যা’ বা ‘মনোবিজ্ঞান’-এর মতো বিষয়গুলো এসএসসিতে থাকেই না; আর অর্থনীতির গাণিতিক ও লেখচিত্রভিত্তিক বিশ্লেষণ তোমাদের কাছে মনে হতে পারে সম্পূর্ণ নতুন বিষয়।

বাণিজ্য বিভাগের ঘটনাও তাই। এইচএসসির ফিন্যান্সের গাণিতিক মডেল, যৌথ মূলধনী কোম্পানির শেয়ার ইস্যু কিংবা ব্যবস্থাপনার আন্তর্জাতিক তত্ত্বগুলো প্রথমবারের মতো তোমাদের পড়তে হবে—যার কোনোরকম প্রাথমিক পরিচয়ের ধারণা মাধ্যমিক স্তরের বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা পায় না।

আর, এসএসসিতে পুরো দুই বছর (নবম+দশম) ধরে সকল বিষয়ে যে পরিমাণ সিলেবাস শেষ করতে হয়, এইচএসসিতে কেবল নতুন বিষয়ের পড়াশোনাই প্রায় তার কাছাকাছি—ভাবা যায়!

আমি নগণ্য মানুষ, বুঝি না, কারা কী খেয়ে এমন উদ্ভট ও অযৌক্তিক ব্যবধান তৈরি করে রেখেছেন। এজন্যই লেখার শুরুতে ‘খাল’ ও ‘নদী’র তুলনা দিতে হয়েছে। খাল পার হতে বেশি বেগ পেতে হয় না—যথাযথ উদ্যোগ নিলে অনায়াসে পার হওয়া যায়। কিন্তু সাঁতরে নদী পার হতে গেলে অবশ্যই ভালো সাঁতারু হওয়ার বিকল্প অপশন নেই। তাই মনোযোগসহকারে নিচের পয়েন্টগুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করবে:

● সবার আগে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য রক্ষার যাবতীয় নিয়মগুলো যথাযথ মেনে চলতে হবে। একবারের অসুস্থতা ও তার ধকল তোমাকে চরমভাবে পিছিয়ে দিতে পারে।

● আজকের পড়া কালকের জন্য ফেলে রাখবে না। ‘পরে দেখে নেব’—এমন একটা ভাব নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীই ‘পড়া’ ফেলে রাখে, কিন্তু আফসোস যে ফেলে রাখা পড়াগুলো জমতে জমতে একসময় পাহাড় হয়ে যায়; তখন উল্টো সেই শিক্ষার্থীকেই জমে থাকা পড়াগুলো নিষ্ঠুর চোখে দেখে নেয়—খাল ও নদীর পরিবর্তে সামনে দুর্গম পাহাড় চলে আসে।

● যে বিষয়গুলোর সাথে আগে থেকে পরিচয় ছিল না, সেগুলো অধিক যত্নসহকারে পড়তে হবে। প্রয়োজনে প্রাইভেট-কোচিং-এর সহযোগিতা নিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে: যতই প্রাইভেট পড় আর সমৃদ্ধ কোচিং সেন্টারে যাও—নিজে যদি সচেষ্ট না হও, তাহলে সময়ের অপচয় ছাড়া কিচ্ছু হবে না।

● উচ্চমাধ্যমিকই জীবনের লক্ষ্য, অর্থাৎ ভবিষ্যতে তুমি কী হবে তা ঠিক করে নিতে হবে। পড়াশোনার বিন্যাসটা এমন হওয়া উচিত, যেন তুমি একই সাথে এইচএসসি ভালো ফলাফলের জন্য চেষ্টা করছ এবং মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাডমিশনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছ—কেননা, এইচএসসির রেজাল্টের পর অ্যাডমিশনের জন্য তুমি খুব অল্প সময়ই পাবে।

● মাধ্যমিক শেষ করে কলেজে উঠেছ, ফলে দেহ ও মনে বয়সের একটা অন্যরকম আবেদন কাজ করতেই পারে—এই কারণে জীবন নিয়ে গভীর চিন্তার পরিবর্তে আসতে পারে অজস্র তরল চিন্তা। যদি ক্রমাগত তরল চিন্তা কর, আর তরল ঝরাও; তাহলে কিন্তু জীবনের লক্ষ্য থেকে কক্ষচ্যুত উল্কার মতো বিচ্যুত হয়ে যাবে—অতএব, এই বিষয়ে খুব সাবধানে থাকবে।

● নিয়মিত প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করবে, এটা তোমার বিক্ষিপ্ত মনটাকে কেন্দ্রীভূত করতে সাহায্য করবে।

পরিশেষে, দোয়া করি—তোমরা জয়ী হও, মহৎ হও এবং কর্মে হও অমর।

লেখক: শিক্ষক (বাংলা)
পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, পাবনা।

অজ্ঞাত নাম্বার থেকে গালিগালাজ ও হুমকি, নিরাপত্তাহীনতায় পরিব…
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাবি অধ্যাপক ড. ইব্রাহিমের মৃত্যুতে ইউটিএলের শোক
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বয়স ও জিপিএ না থাকলেও সহকারী অধ্যাপক পদে চাকরি, রাবিপ্রবির …
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাবিতে বসছে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, অংশ নিচ্ছেন ৪০ শিক্ষাপ্রতিষ…
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এইচএসসি: জীবন গড়ার টার্নিং পয়েন্ট
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডুমস্ক্রোলিং: অন্তহীন স্ক্রলে হারিয়ে যাওয়া মন
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬