মাকসুদুর রহমান © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
‘ইতিহাসের দীর্ঘ পথে কিছু মানুষ কেবল রাজনীতি করেন না; তাঁরা একটি জাতির আশা, প্রতিরোধ এবং প্রত্যাশার প্রতীকে পরিণত হন। তাঁদের জীবনকে বিচার করতে হয় ক্ষমতার মেয়াদ দিয়ে নয়, বরং সময়ের কঠিন পরীক্ষায় তাঁদের অবস্থান দিয়ে।’
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কয়েকটি নাম আছে, যাদের ঘিরে কেবল একটি দলের ইতিহাস নয়, একটি সময়ের ইতিহাসও নির্মিত হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া সেই ইতিহাসের দুই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একজন যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রে নতুন রাজনৈতিক পথরেখা বিনির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন; অন্যজন দীর্ঘ চার দশক ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্র, নির্বাচনী রাজনীতি এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রশ্নে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন।
এ বছরের জন্মবার্ষিকীতে বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করার অর্থ কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করা নয়। বরং এটি এমন এক রাজনৈতিক যাত্রার দিকে ফিরে তাকানো, যেখানে সংগ্রাম, ক্ষমতা, বিরোধিতা, কারাবরণ, ত্যাগ, অসুস্থতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতীক্ষা- সব মিলিয়ে একটি জটিল কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় রচিত হয়েছে। একই সঙ্গে এটি একটি নতুন প্রশ্নও সামনে এনেছে- আর তা হলো, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রায় তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কতটা প্রাসঙ্গিক?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের রাজনৈতিক দর্শনের দিকে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ ছিলো একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র। দুর্বল অর্থনীতি, ভঙ্গুর প্রশাসনিক কাঠামো এবং নবীন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতার অপব্যবহারের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভঙ্গুর করে ফেলে এবং অর্থনীতিকে প্রায় ধ্বংসের পর্যায়ে নিয়ে যায়, ঠিক সেই সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে রাষ্ট্রদর্শন সামনে আনেন, তার অন্যতম আলোচিত বৈশিষ্ট্য ছিলো- বহুদলীয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পরিসর সৃষ্টি, উৎপাদনমুখী উন্নয়নের ওপর জোর দেয়া এবং জাতীয় উন্নয়নে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা সহ, গ্রাম ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া। তাঁর সমর্থকদের দৃষ্টিতে এটি ছিল রাষ্ট্রকে অধিকতর অংশগ্রহণমূলক ও কর্মমুখী করার প্রচেষ্টা; অন্যদিকে তাঁর সমালোচকেরা তাঁর সময়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্ন মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ পাঠ এই বহুমাত্রিকতাকেই স্বীকার করে।
তবে একটি বিষয় অনস্বীকার্য যে- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুদলীয় প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির ধারণা নিয়ে যে আলোচনা আজও বিদ্যমান, সেখানে জিয়াউর রহমানের নাম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে থেকে গেছে।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণাও এই রাষ্ট্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য এবং নাগরিকের অংশগ্রহণকে একটি রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে ধারণ করা। জাতীয়তাবাদ যদি তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাংবিধানিক শাসন এবং সকল নাগরিকের সমঅধিকারের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে সেটি বিভাজন বা বৈষম্যের নয়; বরং রাষ্ট্রগঠনের শক্তি হতে পারে। আবার জাতীয়তাবাদ যদি বহুমতকে অস্বীকার করে, তবে তা নিজেই তার শক্তি হারায়। ফলে, এই ভারসাম্য রক্ষা করাই প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আর এই জায়গাতেই বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্বামীর মৃত্যুর পর রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ ছিলো ব্যক্তিগত ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, বরং সময়ের প্রয়োজনে একটি রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে। পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং গণআন্দোলন, নির্বাচন, সরকার পরিচালনা ও বিরোধী রাজনীতির বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিলো কখনো সাফল্যের, কখনো কঠিন সংকটের, কখনো সমঝোতার, আবার কখনো আপোষহীন অনমনীয় অবস্থানের ইতিহাস।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার বলেছেন- ‘গণতন্ত্রের শক্তি জনগণের ভোটে, জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায়।’
একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় জন-আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে গণতন্ত্র। বেগম খালেদা জিয়া তাঁর দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে এই গণতন্ত্রের লড়াই লড়েছেন। ‘৯০ এর গণ-অভ্যুত্থান আন্দোলনে তাঁর আপোষহীন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়ে এই গণতন্ত্রের লড়াইয়ের যাত্রা শুরু হয়।
একটি রাষ্ট্রে যেকোনো অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার, সবসময়ই জনগণের মেন্ডেট নিয়ে আসা সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য নির্বাচিত সরকার হয়ে থাকে। ফলে অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার সবসময়ই জনগণের সরকার হয় এবং অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি বা দল জনগণের আকাঙ্ক্ষার নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে। কারণ জনগণের সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছাড়া অভ্যুত্থান সম্ভব নয়। ফলে অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচন- মূলত সেই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি বা দলের বৈধ অবয়ব প্রতিষ্ঠিত করে থাকে।
৭১ পরবর্তী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন-আকাঙ্ক্ষার প্রথম বৃহৎ আন্দোলন ছিল ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী গণ-অভ্যুত্থান। আর সেই গণতন্ত্রকামী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় নেতৃত্বের নাম- বেগম খালেদা জিয়া; যা পরবর্তীতে জনগণের ভোটে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজয়ের মাধ্যমে তাঁর নেতৃত্বের অবয়ব কে প্রতিষ্ঠিত রূপদান করে।
৯০ এর গণ-অভ্যুত্থানের নায়ক বেগম খালেদা জিয়া। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী ও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর নাম- বেগম খালেদা জিয়া।
একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান নেত্রী হয়ে ওঠা, নব্বই শতাংশেরও বেশী মুসলমানের দেশে এবং বাংলাদেশের মতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার দেশে একজন বেগম খালেদা জিয়া হয়ে ওঠার গল্প, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার গল্প; ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী আপোষহীন নেত্রী হয়ে ওঠার গল্প; সর্বোপরি গণতন্ত্রের মানসকন্যা হয়ে ওঠার গল্প কখনই এতোটা সহজ ছিলো না।
গণতন্ত্রের ইতিহাসে এমন অনেক নেতা আছেন, যাঁদের রাজনৈতিক জীবন কেবল রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিরোধী রাজনীতি, প্রতিকূলতা, ব্যক্তিগত ত্যাগ এবং দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্য দিয়েই তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনও সেই বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে নব্বইয়ের গণ-আন্দোলন, সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, বিরোধী রাজনীতির দীর্ঘ সময়, রাজনৈতিক অস্থিরতা, কারাবাস, আপোষহীন অবস্থান, সন্তানদের কাছ থেকে দীর্ঘজীবন দূরে থাকা, ত্যাগ এবং অসুস্থতা- সব মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই দীর্ঘ যাত্রার প্রতিটি অধ্যায়ে সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কও রয়েছে; অর্জনের পাশাপাশি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এই বহুমাত্রিক মূল্যায়নই ইতিহাসকে পরিপূর্ণতা দান করে।
তবে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে- বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতা ও বিরোধী রাজনীতির অভিজ্ঞতা, দুই ক্ষেত্রেই বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছেন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কেবল সরকার পরিচালনার সাফল্য বা ব্যর্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিরোধী রাজনীতির ভূমিকা, রাজনৈতিক সহনশীলতা, শিষ্টাচার, আপোষহীনতা, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিয়ে জাতীয় বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত।
এই উত্তরাধিকারের পেছনে রয়েছে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দর্শন, যার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে জাতীয়তাবাদ কখনোই কেবল আবেগের বিষয় ছিল না; এটি ছিল রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং বহুমাত্রিক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ধারণা। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রশ্নটিও এই প্রেক্ষাপটেই আলোচিত হয়ে ওঠে।
জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের সম্পর্কও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র যদি জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রকাশ হয়, তবে জাতীয়তাবাদ সেই জনগণকে একটি অভিন্ন রাষ্ট্রিক পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করার প্রক্রিয়া। কিন্তু এই সম্পর্ক তখনই অর্থবহ হয়, যখন জাতীয়তাবাদ ভিন্নমতকে অস্বীকার না করে, বরং বহুমতকে রাষ্ট্রের শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে- জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদ পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামকে দেখা প্রয়োজন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র, নির্বাচন, সাংবিধানিক শাসন এবং জনগণের ভোটাধিকারের প্রশ্ন বারবার আলোচনায় এসেছে। এই প্রশ্নগুলো নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও একটি বাস্তবতা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কগুলোর সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক জীবন নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।
জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এই আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কারণ, জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচিত সরকারও বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার যা তাঁরই সন্তান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। অর্থাৎ এবারও জনগণের মেন্ডেট নিয়ে ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় লড়াইয়ে নির্বাচিত হয়েছে গণতন্ত্রের লড়াইকামী এই নেত্রীর দল। মৃত্যুর শেষদিন পর্যন্ত তিনি গণতন্ত্রের জন্য এবং জনগণের ভোটাধিকারের জন্য আপোষহীনভাবে লড়াই করে গেছেন।
২৪ সালের জুলাই পরবর্তী সময়ের অন্যতম বড় শিক্ষা হলো- কোনো রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব ব্যক্তি-নির্ভর রাজনীতিতে নয়; বরং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং জনগণের আস্থার ওপর নির্ভরশীল। নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাও সেদিকেই। এমন একটি বাংলাদেশ- যেখানে ক্ষমতার পরিবর্তন স্বাভাবিক, কিন্তু রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্থিতিশীল; যেখানে ভিন্নমত রাষ্ট্রের জন্য হুমকি নয়, বরং গণতন্ত্রের স্বাভাবিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
এই বাস্তবতায় বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে নতুন করে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁকে কেবল একজন দলীয় নেত্রী হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে মূল্যায়ন করার মধ্য দিয়েই ইতিহাসের প্রতি ন্যায়বিচার নিহিত। বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এই বাস্তবতার মধ্য দিয়েই মূল্যায়িত হওয়া উচিত। তিনি এমন এক সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যখন বাংলাদেশের রাজনীতি ছিল প্রবল মেরুকরণ, আন্দোলন, নির্বাচন, সরকার ও বিরোধী রাজনীতির ধারাবাহিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রায় যেমন সাফল্য রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিতর্ক ও কঠিন সময়। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি ভিন্ন- বাংলাদেশে বহুদলীয় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, নির্বাচনী গণতন্ত্র এবং বিরোধী রাজনীতির ধারাবাহিক আলোচনায় তাঁর ভূমিকা কী ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে দেখা যায়, তাঁর রাজনৈতিক উপস্থিতি কয়েক দশক ধরে দেশের গণতান্ত্রিক বিতর্ককে প্রভাবিত করেছে।
সময়ের প্রবাহে মানুষ ইতিহাস হয়ে যায়, কিন্তু আদর্শ রয়ে যায়। যদি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ভাবনা, বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবং জুলাই-পরবর্তী প্রজন্মের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা- এই তিনটি প্রবাহ একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্যে মিলিত হতে পারে, তবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও পরিণত, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আরও স্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
লেখক:
মাকসুদুর রহমান
সহ-সভাপতি, মতিঝিল থানা
ঢাকা মহানগর জিয়া পরিষদ