বিএমইউ উপাচার্যসহ স্বাকৃতি প্রাপ্ত শিক্ষকেরা © টিডিসি সম্পাদিত ছবি
প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাবিদ্যায় বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। চিকিৎসা উৎকর্ষ, গবেষণা ও তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবিচল অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ‘ইভিডেন্স অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইভিডেন্স বেইসড হেলথকেয়ার ডে। বিএমইউর উপাচার্য ও বিশিষ্ট মেডিসিন এবং বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হার্ট ফেলিউর ডিভিশনের প্রধান ডা. দীনে মুজাহিদ মো. ফারুক ওসমানীও এ স্বীকৃতি পেয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। ওয়ার্ল্ড ইভিডেন্স বেইসড হেলথকেয়ার ডে কর্তৃপক্ষ ই-মেইলের মাধ্যমে বিএমইউকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া সংস্থাটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর একটি ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করা হয়েছে।
বিএমইউর এ স্বীকৃতি চিকিৎসাক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ও গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে দেশের সাধারণ রোগীরা উপকৃত হবেন, বিশেষ করে দরিদ্র রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার সুযোগ বাড়বে। কারণ, প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণার ভিত্তিতে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা দেওয়ার একটি কার্যকর পদ্ধতি। এটি অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাকে নিরুৎসাহিত করে এবং রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার চর্চা চিকিৎসকদের সেবার গুণগত মান ও দক্ষতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ পদ্ধতি কার্যকরভাবে অনুসরণ করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি দেশের চিকিৎসক সমাজ ও চিকিৎসাসেবার প্রতি রোগীদের আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা রোগীদের অধিকার সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চিকিৎসাবিদ্যায় এ পদ্ধতির চর্চা ও প্রসার জরুরি। চিকিৎসা ব্যয় কমানো, বিজ্ঞানভিত্তিক সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, রোগী ও চিকিৎসকদের সুরক্ষা দেওয়া এবং চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বিএমইউ ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, গবেষণা, চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রমের প্রতিটি স্তরে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কার্যকর করা গেলে একটি ন্যায্য ও দক্ষ স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি জনগণের আস্থা আরও বাড়বে। বিএমইউ বিশ্বাস করে, প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা বা ইভিডেন্স বেইসড মেডিসিনের প্রসারের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতে গুণগত পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
ওয়ার্ল্ড ইভিডেন্স বেইসড হেলথকেয়ার ডে-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী প্রমাণভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ও এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি ওয়ার্ল্ড ইভিডেন্স বেইসড হেলথকেয়ার ডে ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘প্রমাণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: মানুষই কেন্দ্রে’-এর যথার্থতা তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যসেবা নীতি, চিকিৎসাচর্চা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্ভরযোগ্য এবং সর্বোত্তম তথ্যপ্রমাণ ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, এআই স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজন, নিরাপত্তা, মূল্যবোধ ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী তথ্যপ্রমাণ—বিশেষ করে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা—এবং মানুষের কল্যাণের সমন্বয় ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর ও মানবিক করে তুলতে পারে।
চলতি বছরের ৫ এপ্রিল বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি একজন প্রখ্যাত মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল টিমের প্রধান হিসেবেও তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
চিকিৎসা শিক্ষায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা রয়েছে। এফসিপিএস ও এমডি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি একজন স্বনামধন্য শিক্ষক হিসেবে অবদান রেখেছেন। দীর্ঘদিন মেন্টর হিসেবে তিনি বাংলাদেশের চিকিৎসকদের ক্লিনিক্যাল বিচার-বিবেচনা, নৈতিক চর্চা ও একাডেমিক উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছেন।
বিএমইউর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়টির উচ্চতর মেডিক্যাল শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণার গুণগত মান বাড়াতে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। দেশের রোগীদের কল্যাণ এবং চিকিৎসাসেবাসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিএমইউর পাশাপাশি দেশব্যাপী প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার প্রসার এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে বিএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হার্ট ফেলিউর ডিভিশনের প্রধান ডা. দীনে মুজাহিদ মো. ফারুক ওসমানী বর্তমানে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ সেল প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার প্রসারে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সহায়তায় আইকিউএসি বিএমইউর উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণার গুণগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যমান জনবলের কর্মদক্ষতা বাড়াতেও ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।