কমিউনিটি মেডিসিনের প্রভাষক ডা. রায়হান শরীফ © সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ছাত্র আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করার ঘটনায় কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. রায়হান শরীফকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ মো. ইকবাল হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। গুলি করা এবং অবৈধভাবে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিন নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রফিক সরকার রায়ের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত রায়হান শরীফ একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি এবং মেডিকেল কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু তিনি পেশাগত পবিত্র দায়িত্বের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দুটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ গুলি, ম্যাগাজিন, বিদেশি ছোরা ও চাকু নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিয়মিত এগুলো কর্মস্থলে বহন করতেন এবং এর ধারাবাহিকতায় নিরীহ ছাত্র আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করেন।
আদালত আরও বলেন, রায়হান শরীফ ছাত্রজীবন থেকেই সশস্ত্র ক্যাডার রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও সেই ধারা অব্যাহত রাখেন। ফলে তিনি সমাজ, বাবা-মা কিংবা সহকর্মীদের ওপর চড়াও হতে বা হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করতেন না।
আইনি আদেশে আদালত রায়হান শরীফকে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছর এবং ১৯(এফ) ধারায় আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজের (তৎকালীন শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ) একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলায় ক্লাস চলাকালীন ডা. রায়হান শরীফ তুচ্ছ ঘটনায় শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করেন। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডা. রায়হান শরীফকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৮১ রাউন্ড গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন ও দুটি অত্যাধুনিক ছোরা উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ওয়াদুদ আলী বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আজ আদালত এই রায় প্রদান করেন।