এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক © সংগৃহীত
বেসরকারি মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন শুরু হলেও ‘সমস্তর’ জটিলতায় আটকে যাচ্ছেন অনেক শিক্ষক। বর্তমান কর্মস্থলের স্তর অনুযায়ীই কেবল বদলির সুযোগ থাকায় যোগ্যতা ও পদে সামঞ্জস্য থাকলেও অন্য স্তরের মাদ্রাসায় পছন্দের প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারছেন না তারা। এতে বদলিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ জটিলতার সমাধান শিগগির হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
সমস্তরে যে সমস্যায় শিক্ষকরা
যোগ্যতা থাকলেও একজন শিক্ষক পছন্দমতো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে পারবেন না। দেশের আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় ফাজিল হলো স্নাতক (ডিগ্রি) পাস বা অনার্স সমমানের একটি উচ্চশিক্ষা স্তর। এটি সাধারণ শিক্ষার বিএ, বিএসএস বা বিএসসি ডিগ্রির সমান। একজন শিক্ষক যদি আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন তাহলে শুধুমাত্র আলিম মাদ্রাসায় বদলির সুযোগ পাবেন।
তিনি যদি কামিল বা স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স সমমানের সর্বোচ্চ উচ্চশিক্ষা স্তরের প্রতিষ্ঠানে বদলি হতে চান সেক্ষেত্রে পারবেন না। একইভাবে কামিল মাদ্রাসার কোনো শিক্ষকও ফাজিল মাদ্রাসায় বদলি হতে পারবেন না।
শিক্ষকদের অভিযোগ, শিক্ষকদের অভিযোগ, ‘সমস্তর’ জটিলতার দ্রুত সমাধান করা জরুরি। তা না হলে অধিকাংশ শিক্ষকই বদলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। তাদের যুক্তি, একই নিয়োগ পরীক্ষা ও অভিন্ন যোগ্যতার ভিত্তিতে কেউ আলিম, কেউ ফাজিল এবং কেউ কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসায় নিয়োগ পেয়েছেন। ফলে একজন শিক্ষক এমপিওভুক্ত আলিম মাদ্রাসা থেকে সমপদে ফাজিল বা কামিল মাদ্রাসায় কেন বদলি হতে পারবেন না, তা বোধগম্য নয়।
তাদের মতে, যেহেতু বদলি জনস্বার্থে করা হচ্ছে, তাই সব শিক্ষককে সমানভাবে এই সুযোগ দেওয়া উচিত। অধিদপ্তরসূত্রে জানা গেছে, সমস্তরের বদলি সংক্রান্ত বিষয়টি সংশোধন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগ। ফলে অধিদপ্তরের এ বিষয়ে সংশোধনের এখতিয়ার নেই। এর সমাধানও দ্রুত হবে না।
আরও পড়ুন: প্রশিক্ষণে অনুপস্থিত, এমপিওভুক্ত ২৬ শিক্ষককে শোকজ
অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বদলি আবেদনের প্রচুর চাপ সামলাতে এমন নিয়ম করা হতে পারে। কারণ সমস্তরের জটিলতা না থাকলে যে পরিমাণ আবেদন জমা পড়তো সেগুলো যাচাই-বাছাই করা বেশ শ্রমসাধ্য এবং দীর্ঘ সময় পার হয়ে যেতো।
এদিকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) কর্মরত মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি আবেদনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রায় ৪২ হাজার শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট থেকে আবেদন শুরু হয়েছে। এটি চলবে ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সফটওয়্যার ভিত্তিক বদলি কার্যক্রম চালু না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৬’ এর বিধি ৩.১৯ মোতাবেক জনস্বার্থে বদলির লক্ষ্যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে শূন্যপদের বিপরীতে ম্যানুয়াল (হার্ডকপি) আবেদন গ্রহণের জন্য কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দেয়া শূন্যপদের তালিকা থেকে পছন্দনীয় মাদ্রাসা নির্বাচন করে উল্লিখিত ছক অনুযায়ী নিজের ও স্পাউসের জাতীয় পরিচয়পত্র, আবেদনকারীর বর্তমান পদের প্রথম ও শেষ এমপিও কপি, বর্তমান যোগদানপত্র এবং স্পাউসের কর্মস্থলের প্রত্যয়ন পত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) যুক্ত করে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে।
বদলি আবেদনে যেসব তথ্য দিতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আবেদনকারীর নাম ও ইনডেক্স নাম্বার, আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানা, বিষয় ও পদের নাম (যোগদানের তারিখসহ), বর্তমান কর্মস্থল জেলা ও উপজেলা (মাদ্রাসার নাম ও প্রতিষ্ঠানের এমপিও নাম্বারসহ), শূন্যপদের বিপরীতে যে প্রতিষ্ঠানে বদলি হতে ইচ্ছুক তার পছন্দক্রম (জেলা, উপজেলার নামসহ ৫টি প্রতিষ্ঠানের নাম), স্পাউসের কর্মস্থল, বর্তমান কর্মস্থল হতে স্থায়ী ঠিকানার দূরত্ব, মন্তব্য।