মিটফোর্ড জবি ছাত্রদল আহ্বায়কের হামলা
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল © টিডিসি সম্পাদিত
রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) মিটফোর্ড হাসপাতালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের চিকিৎসক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। দাবি পূরণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়েছে জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মিটফোর্ড হাসপাতালের সার্জারি বিল্ডিংয়ের ৪২৯ নং কক্ষে সহকারী রেজিস্ট্রার, ট্রেইনি এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানোর ঘটনায় আমরা মিটফোর্ড হাসপাতালের সমগ্র ইন্টার্ন চিকিৎসক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপনপূর্বক চার দফা দাবি দিয়েছিলাম। দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জরুরি বিভাগসহ সকল বিভাগে আমরা কর্মবিরতি পালন করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাবি পূরণের দৃশ্যমান পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হওয়ায় আমরা চলমান কর্মবিরতি প্রত্যাহার করছি।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে হাসপাতালের সার্জারি ভবনের চতুর্থ তলায় চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে জবি ছাত্রদল আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের বিরুদ্ধে। এ সময় তার সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১২ জন উপস্থিত ছিলেন। মেহেদী হাসান হিমেলের বন্ধু ও জবি ছাত্রদলের এক যুগ্ম আহ্বায়কের আত্মীয়ের অসুস্থতা ঘিরে এই ঘটনার সূত্রপাত। পরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা হিমেলসহ ছাত্রদল নেতাকর্মী এবং উপস্থিত রোগীর স্বজনরা পিছু হটেন। এক পর্যায়ে মেহেদী হাসান হিমেল ভবনের একটি টয়লেটে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে পুলিশি পাহারায় তারা হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসেন।
এ ঘটনায় পরদিন বুধবার সকালে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ওই সময় তারা ৪ দফা দাবি জানান। এগুলো হলো— প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিটের বাইরে অন্তত ৪ জন পুলিশ মোতায়েন করতে হবে, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে, এ ঘটনায় জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সার্জারি বিভাগে দায়িত্বব্রত আনসার সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আইডিএর ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জরুরি বিভাগসহ সকল বিভাগে আমরা কর্মবিরতি পালন করছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাবি পূরণের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না পাওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।