বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) © টিডিসি সম্পাদিত
সরকারি সিদ্ধান্তে রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ায় দেশের চিকিৎসা শিক্ষা খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আসার ক্ষেত্রে গভীর সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বিদেশি শিক্ষার্থী আসা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিপিএমসিএর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই শঙ্কা প্রকাশ করে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রেসিডেন্ট উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের হাসপাতালটি সরকারি সিদ্ধান্তে বন্ধ হওয়ায় সেখানে অধ্যয়নরত প্রায় ৩০০ বিদেশি শিক্ষার্থী চরম বিপাকে পড়েছেন। বিএমডিসির বিদ্যমান আইন এবং ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের যে কলেজে তারা অধ্যয়নরত, সেই কলেজের হাসপাতালেই ইন্টার্নশিপসহ ক্লিনিক্যাল শিক্ষা সমাপ্ত করতে হয়। হাসপাতাল বন্ধ থাকায় এই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। বিপিএমসিএ বিএমডিসি প্রেসিডেন্টের এই মতামতের সাথে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছে এবং সরকারকে তাদের এই ‘তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্তের’ বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করার অনুরোধ জানিয়েছে।
বিপিএমসিএ বিজ্ঞপ্তিতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে একই সাথে তারা দাবি জানিয়েছে যে, এই মৃত্যুর ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক, কিন্তু তার জন্য পুরো হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া সমীচীন নয়।
সংগঠনটি দেশের অর্থনীতি ও চিকিৎসা শিক্ষা খাতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে জানায়, প্রতি বছর প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়। এর মাধ্যমে দেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়, যা জাতীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব রাখছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অপপ্রচার এবং প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্কের অবনতির কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীর আগমন ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
মালদ্বীপ, নেপাল, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোতে শিক্ষা মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আসার জন্য নিয়মিত আহ্বান জানানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আদ্-দ্বীনের মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠানের হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত বহির্বিশ্বে নেতিবাচক বার্তা দেবে, যার ফলে বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ একেবারেই চলে যাবে। হাসপাতালটি বন্ধ থাকলে ভবিষ্যতে বিদেশি শিক্ষার্থী আসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, যা দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা শিক্ষা খাতের ওপর একটি প্রবল আঘাত।
দেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স পুনর্বহাল করে প্রয়োজনীয় যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি দাবি জানায় সংগঠনটি।