বুধবার এই কর্মশালা শুরু হয়েছে © সংগৃহীত
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে এই কর্মশালা শুরু হয়। বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী এটি উদ্বোধন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৩৭ জন ফ্যাকাল্টি (শিক্ষক) প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন।
আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুন নাহার খানমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ক্লিনিক্যাল গুড প্র্যাকটিস বিষয়ক কর্মশালা চিকিৎসা পেশায় পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। শিক্ষকরা এখান থেকে যে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করবেন, তা নিজ নিজ বিভাগের রেসিডেন্ট শিক্ষার্থী, জুনিয়র চিকিৎসক ও অন্যান্য ফ্যাকাল্টিদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।
অর্জিত এই জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের চিকিৎসা শিক্ষা, সেবা ও গবেষণায় কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের সর্বাধুনিক স্বাস্থ্যখাত গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় মূল রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত আছেন বিশ্বখ্যাত জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট মো. হাফিজুর রহমান। তিনি প্রথম দিনে গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসের ইথিক্যাল ইমপ্লিকেশনস (নৈতিক প্রভাব), প্রিন্সিপলস অব বায়োইথিকস (জীব-নৈতিকতার নীতিমালা) এবং পাবলিক হেলথ ইথিক্সসহ (জনস্বাস্থ্য নৈতিকতা) তথ্যসমৃদ্ধ ও জ্ঞানলব্ধ বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য, মহামারি বিদ্যা (এপিডেমিওলজি) এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক নেতৃত্বে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বিএমইউর শিক্ষকদের গবেষণার মানোন্নয়নে দারুণভাবে সমৃদ্ধ করবে বলে কর্মশালায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুন নাহার খানম বলেন, বর্তমান যুগে ক্লিনিক্যাল গবেষণা ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হলো ক্লিনিক্যাল সেবা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নৈতিক, পেশাগত এবং বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড সম্পর্কে সম্মিলিত বোঝাপড়াকে আরও শক্তিশালী করা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস এমন একটি কাঠামো প্রদান করে যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির পাশাপাশি রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানবাধিকার রক্ষা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চিকিৎসকদের সাহায্য করে।
দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে শিক্ষকরা বায়োমেডিকেল এথিক্স, পেশাগত দায়িত্ব, প্রশাসনিক নৈতিকতা, সাংগঠনিক সংস্কৃতি, নেতৃত্ব, নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যসেবায় উদীয়মান প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জসমূহের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। পুরো সেশনটি ইন্টারেক্টিভ বা মিথস্ক্রিয়ামূলকভাবে সাজানো হয়েছে, যেখানে উপস্থাপনার পাশাপাশি শিক্ষকরা বিভিন্ন কেস অ্যানালাইসিস (ঘটনা বিশ্লেষণ), নৈতিক বিতর্ক এবং ব্যবহারিক অনুশীলনে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন।