স্বেচ্ছায় রক্তদানে মিটছে মাত্র ৩০% চাহিদা, ডাটাবেজে জোর বিশেষজ্ঞদের

১৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ PM
বিএমইউ প্রাঙ্গণে এই র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়

বিএমইউ প্রাঙ্গণে এই র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয় © সংগৃহীত

দেশে প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হলেও স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে এর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বা ৩০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে। অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ রক্তের জন্য রোগীর এখনো স্বজন ও প্রতিস্থাপিত দাতাদের ওপর নির্ভর করতে হয়। এ অবস্থায় নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করতে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা বাড়াতে একটি সমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট ‘ডিজিটাল ডাটাবেজ’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ রবিবার (১৪ জুন) ‘বিশ্ব রক্তদাতা দিবস’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘ব্লাড ট্রান্সফিউশন সোসাইটি অব বাংলাদেশ’ (বিটিএসবি) এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, রক্তের কোনো বিকল্প নেই; এর বিকল্প কেবল রক্তই। আজকের এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো রক্তদাতাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি রক্ত গ্রহণ ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনা। এর জন্য একটি কার্যকর ডাটাবেজ তৈরি করা জরুরি, যা যেকোনো জাতীয় সংকটে দ্রুত রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

তিনি আরও বলেন, অনেক মানুষ রক্ত দিতে চাইলেও সঠিক নির্দেশনার অভাবে কোথায় বা কার কাছে যাবেন, তা বুঝতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার পাঠ্যসূচিতে রক্তদানের গুরুত্ব অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে তরুণদের মাঝে সচেতনতা ছড়াতে বিটিএসবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রক্তদাতাদের ডাটাবেজ নিয়ে বিদ্যমান দুর্বলতার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় রক্তদানের হার ১০০ ভাগে উন্নীত করতে হবে। কারণ এর সাথে নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রযুক্তির সহায়তায় ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার যে অঙ্গীকার সরকারের রয়েছে, তার সাথে সংগতি রেখে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের ডাটাবেজ তৈরি করা গেলে ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিটিএসবির মহাসচিব ডা. মো. খায়রুল ইসলাম রক্তদানের উপকারিতা তুলে ধরে বলেন, রক্ত দিলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না, বরং রক্ত সঞ্চালনের সময় দাতা বিনামূল্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা করার সুযোগ পান। এর মাধ্যমে তাঁর শরীরে কোনো গোপন রোগ বা জীবাণু আছে কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়।

সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফারহান ইসলাম রক্তের অপচয় রোধ ও যৌক্তিক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, দেশে স্বেচ্ছায় রক্তদানের পরিমাণ খুবই কম— মাত্র ৩৪ শতাংশের কাছাকাছি। আমরা একে শতভাগে নিয়ে যেতে চাই, যেন একটি স্থায়ী রক্তের রিজার্ভ তৈরি করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, রক্তদানে সামান্য ভুলের কারণে জীবনপ্রদীপ নিভে যেতে পারে। তাই এখানে আবেগের কোনো স্থান নেই, শতভাগ চিকিৎসাবিজ্ঞান মেনে এবং সতর্কতার সাথে রক্ত পরিসঞ্চালন করতে হবে।

বিটিএসবির কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. ওয়াসিমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভাটি শেষ হওয়ার পর একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বটতলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আগের স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিএমইউসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশ নেন।

শিক্ষকদের বদলি আবেদন শেষ হচ্ছে কাল
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
১৮তম নিবন্ধনের সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থীদের নিয়ে যা বলছে এন…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
বিদেশে উচ্চশিক্ষা: সুইডেনে স্কলারশিপ পাওয়ার উপায়
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
শেরপুর সরকারি কলেজে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দোয়া মাহফ…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে চাকরি, আবেদন ৩১ আগস্ট পর্যন্ত
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬