‘হামের টিকা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪% বেশি সম্পন্ন, বাদ পড়াদের খুঁজবে সরকার’

২১ মে ২০২৬, ০৭:১৩ PM
বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল

বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল © সংগৃহীত

দেশে চলমান বিশেষ ক্যাম্পেইনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪ শতাংশ বেশি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনও যারা টিকার বাইরে রয়েছে, তাদের প্রতিটি এলাকায় খুঁজে খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনা হবে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের করণীয় এবং জনসচেতনতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে টিকাদান সংশ্লিষ্ট সকল স্বাস্থ্যকর্মীর আসন্ন ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোর সাবেক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতারা এই সেমিনারের আয়োজন করেন।

সেমিনারে গণঅভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের তীব্র সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর দেশে কোনো ধরনের কার্যকর টিকা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়নি। তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন এমআর (হাম ও রুবেলা) টিকার কোনো বিশেষ কর্মসূচিই নেয়নি। গত মার্চের শেষ দিকে যখন সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে খোঁজ নিলাম, তখন দেখলাম আমাদের দেশে কোনো টিকার মজুতই নেই।

তিনি আরও বলেন, দেশে মহামারি মোকাবিলা করার জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ, নিওনেটাল ভেন্টিলেটর বা শিশুদের নিউমোনিয়ার চিকিৎসার কোনো সুব্যবস্থাপনাই ছিল না। পরবর্তীতে প্রধান উপদেষ্টার সুপরামর্শে ইউনিসেফ, গ্যাভি (ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে দ্বারস্থ হয়ে দ্রুত পর্যাপ্ত টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত টিকার মজুত রয়েছে।

টিকা কর্মসূচির বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, গত ৫ এপ্রিল দেশের ৩০টি উপজেলায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদানের মূল ক্যাম্পেইন শুরু হয়ে গতকাল পর্যন্ত চলেছে। এরপরও নিয়মিত টিকাদান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, সেজন্য প্রতিটি এলাকায় মাইকিং করে টিকার বাইরে থাকা শিশুদের খুঁজে বের করতে দেশের সব সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার পেছনে টেন্ডারবাজ সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে উল্লেখ করে সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা অতীতে টেন্ডার ও আউটসোর্সিংয়ে যে দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়েছিল, এখন তারই একটি স্বার্থান্বেষী মহল চিকিৎসকদের টার্গেট করেছে। কিছুদিন আগে ক্যান্সার হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টরকে টেন্ডারের কারণে কোপানো হলো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রশাসন) জাহিদ সাহেবকে হুমকি দেওয়া হয়েছে টেন্ডারবাজি ও অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করার কারণে। সর্বশেষ শরীয়তপুরে যে ডাক্তারকে আঘাত করা হয়েছে। এসবের পেছনে এই বিশেষ মহলটি কাজ করছে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের কোনো পরিস্থিতিতেই সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) দুর্বল করা যাবে না। শিশুদের সুরক্ষায় এই কার্যক্রম সবসময় সর্বোচ্চ শক্তিতে চলমান রাখতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক কোভিড ও হামের মতো দেশের সংকটময় মুহূর্তে চিকিৎসকদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকদের ওপর দেশব্যাপী হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

সেমিনারে হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমী এবং আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুফিয়া খাতুন।

এবার পদত্যাগ করলেন রাবির জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক
  • ১২ জুন ২০২৬
এইচএসসির চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ করল ঢাকা বোর্ড
  • ১১ জুন ২০২৬
খুলনা সিটি মেডিকেলে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১২ ইউনিট
  • ১১ জুন ২০২৬
আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজের ৪০০-৫০০ শিক্ষার্থী কোথায় যাবে?
  • ১১ জুন ২০২৬
অনলাইনে এসএসসি পড়ুয়া ছাত্রীর সঙ্গে পরিচয়, বিয়ে করতে এসে বয়স…
  • ১১ জুন ২০২৬
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
  • ১১ জুন ২০২৬
×